বিশ্বনাথ বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী সাথে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশ্বনাথ জাতীয়তাবাদী পরিবারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
প্রকাশিত :
১২:০০, ৩০ জুন ২০২৬
বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলী সাথে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিশ্বনাথ জাতীয়তাবাদী পরিবারের মতবিনিময় সভা অনুষ্টিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ব্রিকলেনের মাসালা রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্টিত হয় | যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও নতুন আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব তৈমুছ আলীর সভাপতিত্বে ও সাবেক ছাত্রনেতা আকলুছ আলীর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ,প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সদস্য সচিব খসরুজজামান খসরু। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যুক্তরাজ্য আহ্বায়ক কমিটির সদস্য গুলজার খান।গ্রেটার লন্ডন বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি মোঃ আবদুল কুদ্দুস, যুক্তরাজ্য বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ফয়জুল হক,
অনুষ্টানে বিশ্বনাথ উপজেলা বিএনপির সভাপতি গৌছ আলীকে প্রবাসীদের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে অভিন্দন জানান বনমাউত বিএনপির নেতা হাজী বেলাল মিয়া। সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলায়াত করেন যুবনেতা মাক্কু মিয়া
অনুষ্টানে আরো উপস্থিত ছিলেন হাজী সাদেক আলী ময়ূর মিয়া, ইসলাম উদ্দিন, আব্দুল হামিদ মালা, বাছির খান, ডাক্তার শানুর আলী মামুন, মদরিস আলী মফজ্জুল, রফিক মিয়া, নুরুল ইসলাম, আবুল বশর, কাওসার আহমদ, শেখ আমিনুর রশীদ মামুন,আবুল কালাম, মবশীর আলী,শফিক মিয়া, শানুর আলী, তানবীর আহমদ, আখলাকুর রহমান,খালেদ চৌধুরী, সামসুল ইসলাম, পিয়ার আলী জুনেদ কামাল আহমদ, আতিক মিয়া, একে রাজু,মামুনুর রশীদ, সাইদুর রহমান মিজান।
অনুষ্টানে বিশ্বনাথ প্রবাসী নেতৃবৃন্দসহ যুক্তরাজ্য বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় গৌছ আলী বলেন, আমার জীবনের শেষ রক্ত দিয়ে হলেও প্রবাসীদের জন্য কাজ করে যাবো। তিনি বিশ্বনাথ কে দূর্নীতিমুক্ত রাখতে চেষ্টা করবেন বলে জানান।
লন্ডনে ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা, সাহিত্য-সাংস্কৃতিক উৎসব ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠান সম্পন্ন
প্রকাশিত :
১১:২৫, ৩০ জুন ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১২:২১, ৩০ জুন ২০২৬
সম্মাননা পদক ২০২৬ লাভ করেন গবেষক ফারুক আহমদ এবং সাহিত্য পদক কবি মাশুক ইবনে আনিস
মতিয়ার চৌধুরী, লন্ডন: এ বছর লন্ডনে ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবে গুণীজন সম্মাননা পদক ২০২৬ লাভ করলেন ইতিহাসবিষয়ক গবেষক ফারুক আহমদ এবং সাহিত্য পদক কবি মাশুক ইবনে আনিস। গত ২৮ জুন লন্ডনে অনুষ্ঠিত ১৪তম বাংলাদেশ বইমেলা, ও সাহিত্য সাংস্কৃতিক উৎসবে আগত অতিথিরা গুণী এই দু'জন লেখকের হাতে এই পদক তুলে দেন। এবারের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ থেকে এসে যোগদেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও চিন্তক রূপা চক্রবর্তী, বিশেষ অতিথি হিসেবে আমেরিকা থেকে আসেন বিশিষ্ট লেখক ও অনুবাদক আনিসুজ্জামান, এবং ইংল্যান্ড থেকে যোগ দেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি শামীম আজাদ।
এবছর বছর সংগঠনের পক্ষ থেকে চারটি ক্যাটাগরিতে চারজনকে পদক দেয়া হয়। সেগুলো ছিল গুণীজন সম্মাননা পদক, সাহিত্য পদক, এবং সংগঠনের সদস্যদের মধ্য থেকে বেষ্ট পারফরমেন্স এওয়ার্ড এবং ডিসটিংগুয়িশ ফ্রেন্ডস রিকগনিশন এওয়ার্ড। সাংগঠনিকভাবে বিশেষ অবদানের জন্য বেস্ট পারফরমেন্স এওয়ার্ড পান সংগঠক ও টিভি উপস্থাপক হেনা বেগম ও নূরজাহান শিল্পী এবং ডিসটিংগুয়িশ ফ্রেন্ড এওয়ার্ড পান লেখক সাংবাদিক সেবুল চৌধুরী।
গবেষক ফারুক আহমদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বিলাতে বাঙালির ইতিহাস রচনায় এক পুরোধা লেখক-গবেষক ফারুক আহমদ। জন্ম: ১৯৬৪ সালের ২২ জানুয়ারি সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ উপজেলার অন্তর্গত গোয়াসপুর গ্রামে। পিতা কুতুব আলী ও মা তেরাবুন্নিসা খানম। ফারুক আহমদ সত্তরের দশকের শেষের দিক থেকে সাহিত্য চর্চা করে আসছেন। বিশ শতকের আট দশকের গোড়ার দিকে প্রথমে সাপ্তাহিক দেশবার্তা ও পরে সাপ্তাহিক সিলেট কণ্ঠ পত্রিকার গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতার সঙ্গে জড়িত হন। পরবর্তীকালে সিলেট থেকে প্রকাশিত মাসিক দেশ-দুনিয়া, গোলাপগঞ্জ থেকে প্রকাশিত মাসিক খেদমত ও পাক্ষিক গোলাপ দর্পণ, ছাতক থেকে প্রকাশিত মাসিক সুচয়ন ইত্যাদি পত্রিকায় সহ-সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন। লন্ডন থেকে প্রকাশিত মাসিক লন্ডন বিচিত্র (১৯৯৪-১৯৯৬) পত্রিকার অন্যতম প্রকাশক ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন। রেডিও বাংলাদেশ সিলেট কেন্দ্রের অনুমোদিত গীতিকার ও নাট্যকার। ১৯৮৪-৮৫ সালে ‘বাংলাদেশ গীতি কবি সংসদ’ সিলেট শাখার নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। লেখাপড়া শেষে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। ১৯৮৭ সালে গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত রাণাপিং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রতিষ্ঠাকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি গোলাপগঞ্জ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, কুতুব আলী গোয়াসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা, জাহানারা ফারুক গোয়াসপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভূমিদাতা।
ফারুক আহমদ ১৯৮৯ সালে যুক্তরাজ্যে যান এবং তখন থেকেই লন্ডনের স্থায়ী বাসিন্দা। ২০০৫ সালে লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রথম নির্বাচনে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ‘সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য’-এর দুই মেয়াদে নির্বাচিত সভাপতি (২০১৭-২০) সভাপতি ছিলেন। তিনি ‘অ্যাথনিক মাইনোরিটিজ অরিজিনাল হিস্টরি অ্যান্ড রিচার্স সেন্টার’ (ইমোহার্ক)-এর জেনারেল সেক্রেটারি।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: ইতিহাস: বিলাতে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতা: ১৯১৬-২০০০ (প্রথম প্রকাশ: ইমোহার্ক, লন্ডন: ২০০১; দ্বিতীয় মুদ্রণ: জ্যোৎস্না পাবলিশার্স, ঢাকা: ২০০৬); বিলাতে বাংলার রাজনীতি (সাহিত্য প্রকাশ, ঢাকা: ২০১২); গোলাপগঞ্জে ইসলাম (আশা প্রকাশনী, সিলেট: ১৯৯৯); গোলাপগঞ্জের ইতিহাস (ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা: ২০১৫); বিলাতে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা (বাংলা একাডেমি, ঢাকা, ২০১৯); বিলাতে বাঙালি অভিবাসন (ইউপিএল, ঢাকা: ২০২০); সিলেটের ইতিহাস : ব্রিটিশ আমল (ইউপিএল, ঢাকা, ২০২৫)।
প্রবন্ধ-নিবন্ধ: মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি (ইমোহার্ক, লন্ডন: ২০০৭), আত্মঘাতী বাঙালি এবং অন্যান্য প্রবন্ধ (ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা, ২০২৫)।
গীতিকবিতা: এ মাটির বাউল (ভিডিও টাইম্স, লন্ডন: ১৯৯৪), আমার যত গান (বাসিয়া প্রকাশনী, সিলেট: ২০২৪)
প্রকাশিত ইংরেজি গ্রন্থ: Bengali Journals and Journalism in Britain: 1916-2007 (published by EMOHRC, London, 2008; published by Lulu, USA, 2009); Bengal Politics in Britain: Logic, Dynamics and Disharmony 1831-2009 (Hard Cover, published by Lulu, USA, 2010; paperback, published by Creation, 2013 (USA); Bengali Settlement in Britain (UPL, Dhaka: 2020).
সম্পাদনা গ্রন্থ: জীবন খাতার কুড়ানো পাতা (খ্যাতিমান সমাজসেবী, সংগঠক ও বাম রাজনীতিবিদ তাসাদ্দুক আহমদের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ, জ্যোৎ¯œা পাবলিশার্স, ঢাকা: ২০০২); সিলেট জেলা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের গোড়ার কথা (ইমোহার্ক, লন্ডন: ২০০৭), বিশিষ্ট ক্যাটারার আবদুল গফুরের জীবনী গ্রন্থ এক ব্রিটিশ-বাঙালির আত্মকথা (ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ, ঢাকা), দীপ্র পদাতিক ময়নূর রহমান বাবুল (কবি ময়নূর রহমান বাবুলের উপর সম্মাননা গ্রন্থ, ২০২৩)।
প্রকাশিতব্য বাংলা গ্রন্থ: সিলেটের ইতিহাস : পাকিস্তান আমল (ইতিহাস), বিলাতে বাংলার মুক্তিযুদ্ধ (ইতিহাস), এক বাঙালি-ব্রিটিশের আত্মকথা (আত্মজীবনী), আত্মঘাতী সিলেটী ও অন্যান্য প্রবন্ধ (প্রবন্ধ-নিবন্ধ), এবং আমার তনে কান্দে মন।
পুরস্কার: বাংলা একাডেমি প্রবাসী লেখক পুরস্কার ২০১৩, গোলাপগঞ্জ সোস্যাল অ্যান্ড কালচারাল স্ট্রস্ট সম্মাননা পদক, সিলেট জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রবাসী সম্মানা ২০২৫, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব কর্তৃক লাইফটাইম অ্যাচভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড ২০২৬।
২০২৬ সালের ২৮ জুন গবেষণা ও ইতিহাস চর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ তাকে গুণীজন সম্মাননা পদক প্রদান করে।
কবি মাসুক ইবনে আনিসের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
মাশুক ইবনে আসনস ১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি জগন্নাথপুর থানার সৈয়দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা আনিস উদ্দিন ও মা ছায়া আনিস। লেখাপড়া করেন সৈয়দপুর মডেল স্কুল, সৈয়দপুর পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও সিলেট মুরারি চাঁদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। ১৯৯৪ সাল থেকে বিলাতবাসী। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ:
কবিতা: যদি বিদ্রোহ করি (কবিতা: সপ্তর্ষী প্রকাশী, সিলেট: ১৯৯৩); অবশিষ্ট শূণ্য এক (কবিতা: ১৯৯৮); অলৌকিক