img

শ্বাসরোধে মাকে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে রাখেন ছেলে

প্রকাশিত :  ০৮:২৩, ০৩ জুলাই ২০২৬

শ্বাসরোধে মাকে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে রাখেন ছেলে
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলে মো. জনি তার মা মজিদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ কলাবাগানে ফেলে রেখে যান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জনিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) মতলব উত্তর থানা পুলিশ এ তথ্য জানায়।

পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন সকালে ৯৯৯-এ খবর পেয়ে মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের হানিরপাড় এলাকার একটি কলাবাগান থেকে প্রায় ৫০ বছর বয়সী এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের মাথার খুলি থেকে চুল খসে যায় এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ শিয়াল খেয়ে ফেলায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, লোকেশন বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে একপর্যায়ে মো. জনিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি স্বীকার করেন বলে জানায় পুলিশ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানান, ছোটবেলা থেকেই মায়ের প্রতি তার ক্ষোভ ছিল। তার অভিযোগ, মার একাধিক বিয়ের কারণে তিনি বাবা-মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়ে মামার বাড়িতে অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই ক্ষোভ থেকেই গত ১৭ জুন ছেংগারচর বাজার থেকে মাকে অটোরিকশায় করে কলাকান্দার ওই কলাবাগানে নিয়ে গিয়ে পানিতে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন একটি পুকুরে ফেলে দেন।

জনির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি ছিল পুলিশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহের সমন্বয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রকৃত আসামিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই আইনের বাইরে রাখা হবে না।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে হাসপাতালের গেটের সামনে মানবদেহের হাড়গোড় ও মাথার খুলি!

প্রকাশিত :  ১৬:১০, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫৯, ০৪ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ জেচলা শহেরের ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের গেটের সামনে মানুষের কঙ্কালসদৃশ হাড়গোড় ও একটি মাথার খুলি পড়ে থাকার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার (৩জুলাই) সকালে এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে সাধারণ মানুষ ও রোগী-স্বজনদের মাঝে সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল, পাশাপাশি উদ্বেগও।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, সকালেই হাসপাতালের মূল প্রবেশপথের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়গোড় ও একটি খুলি চোখে পড়ে। বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে ভিড় জমে যায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন এবং ঘটনাটির ব্যাখ্যা জানতে চান। তবে প্রশ্ন উঠেছে এ ধরনের সংবেদনশীল বস্তু কীভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগের মতো জনবহুল স্থানে এসে পড়ল?

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য কিছু কঙ্কালসদৃশ হাড়গোড় ও খুলি হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবহেলা বা তদারকির ঘাটতির কারণেই এসব বাইরে চলে আসতে পারে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি এটি কেবল অবহেলার বিষয় নাও হতে পারে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো বাইরে এনে ফেলেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। আবার কেউ কেউ বলছেন চুরি করে এনে হয়তো কেউ ফেলে রাখতে পারে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কীভাবে হাড়গোড় ও খুলি বহির্বিভাগের সামনে এল, কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা শিক্ষার জন্য ব্যবহৃত মানবদেহের অংশ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এর ব্যত্যয় ঘটলে শুধু জনমনে আতঙ্কই সৃষ্টি হয় না, বরং এটি নৈতিক ও আইনগত প্রশ্নও তোলে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলেও, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বাংলাদেশ এর আরও খবর