শ্বাসরোধে মাকে হত্যা করে কলাবাগানে ফেলে রাখেন ছেলে
হবিগঞ্জ জেচলা শহেরের ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের গেটের সামনে মানুষের কঙ্কালসদৃশ হাড়গোড় ও একটি মাথার খুলি পড়ে থাকার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার (৩জুলাই) সকালে এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে সাধারণ মানুষ ও রোগী-স্বজনদের মাঝে সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল, পাশাপাশি উদ্বেগও।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, সকালেই হাসপাতালের মূল প্রবেশপথের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়গোড় ও একটি খুলি চোখে পড়ে। বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে ভিড় জমে যায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন এবং ঘটনাটির ব্যাখ্যা জানতে চান। তবে প্রশ্ন উঠেছে এ ধরনের সংবেদনশীল বস্তু কীভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগের মতো জনবহুল স্থানে এসে পড়ল?
হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য কিছু কঙ্কালসদৃশ হাড়গোড় ও খুলি হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবহেলা বা তদারকির ঘাটতির কারণেই এসব বাইরে চলে আসতে পারে।
অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি এটি কেবল অবহেলার বিষয় নাও হতে পারে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো বাইরে এনে ফেলেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। আবার কেউ কেউ বলছেন চুরি করে এনে হয়তো কেউ ফেলে রাখতে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কীভাবে হাড়গোড় ও খুলি বহির্বিভাগের সামনে এল, কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা শিক্ষার জন্য ব্যবহৃত মানবদেহের অংশ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এর ব্যত্যয় ঘটলে শুধু জনমনে আতঙ্কই সৃষ্টি হয় না, বরং এটি নৈতিক ও আইনগত প্রশ্নও তোলে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলেও, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।