img

রাতে মুক্তিপণ দাবি, সকালে মিলল ৮ বছরের সেঁজুতির লাশ

প্রকাশিত :  ১৩:৪০, ২২ জুন ২০২৬

রাতে মুক্তিপণ দাবি, সকালে মিলল ৮ বছরের সেঁজুতির লাশ

নিখোঁজের দুই দিন পর টাঙ্গাইলের সখীপুরে সেঁজুতি (৮) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, শিশুটিকে অপহরণের পর তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ না পেয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আজ সোমবার (২২ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সখীপুর উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৃত সেঁজুতি সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র মালুর মেয়ে। সে সখীপুর আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ হয়।

পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় শনিবার রাতেই শিশুটির বাবা ফালু চন্দ্র সখীপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরিবারের একাধিক সদস্যের দাবি, রবিবার রাতে তাদের কাছে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোনকল আসে।

ফোনে সেঁজুতিকে জীবিত ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মৃত সেঁজুতির মা শোভা চন্দ্র বলেন, ‘আমার অনেক শত্রু আছে। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আমার ছোট মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।’

সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে সোমবার সকালে পুলিশ উপজেলা পরিষদের পুকুর থেকে ভাসমান অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।

ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো বলেন, এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মুক্তিপণ দাবির বিষয়টিসহ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

নাইক্ষ্যংছড়ির জারুলিয়াছড়ি সীমান্তে বিজিবির মাদকবিরোধী অভিযানে ১ লক্ষ ৭৯০ পিস বার্মিজ ইয়াবা জব্দ

প্রকাশিত :  ১৭:৩৮, ২২ জুন ২০২৬

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি সীমান্তবর্তী কাজু বাদাম বাগান নামক স্থানে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১,০০,৭৯০ পিস ইয়াবা জব্দ করেছে বিজিবি।

আজ (২২ জুন) আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ জারুলিয়াছড়ি বিওপির টহলদল দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। উক্ত অভিযানে বিজিবি টহলদল সীমান্ত পিলার ৪৭/৩-এস এর নিকটবর্তী  বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘কাজু বাদাম বাগান’ এলাকায় গোপনে অবস্থান নেয়। এ সময় কয়েকজন চোরাকারবারী মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করে। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে চোরাকারবারীরা তাদের বহনকৃত ইয়াবার চালান ফেলে জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১০টি কার্টনে রাখা মোট ১,০০,৭৯০ পিস বার্মিজ ইয়াবা জব্দ করে। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ কোটি ২ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক বলেন, “দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং মাদক পাচার রোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”