img

শেরওয়ানির জন্য ফ্লাইট আটকে রাখা কে এই বিমান কর্মকর্তা?

প্রকাশিত :  ১৮:১২, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২৪, ০৩ জুলাই ২০২৬

শেরওয়ানির জন্য ফ্লাইট আটকে রাখা কে এই বিমান কর্মকর্তা?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স চট্টগ্রামে নিজের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে তাড়াহুড়োয় শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন। পরে উড্ডয়নের প্রস্তুতির মধ্যেই তিনি বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এ সিদ্ধান্তের ফলে ফ্লাইটে থাকা শিশু, বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রীকে দীর্ঘ ভোগান্তিতে পড়তে হয়। উড়োজাহাজ ছাড়তে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কেবিন ক্রু প্রিন্সকে জানান, জরুরি চিকিৎসা বা নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ে (বিমানবন্দরের এমন একটি নির্দিষ্ট পথ, যেখানে বিমান রানওয়েতে উড্ডয়ন বা অবতরণের আগে ও পরে নিজস্ব ইঞ্জিনের সাহায্যে ধীরে ধীরে চলাচল করে) থেকে বিমান ফিরিয়ে আনার নিয়ম নেই।এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ওই যাত্রী। নিজের পরিচয় দেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার হিসেবে। বের করেন পরিচয়পত্র। সেই পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে চাপ সৃষ্টি করেন বিমান থামাতে। শেষ পর্যন্ত সব নিয়ম, প্রটোকল ও প্রায় ১০০ যাত্রীর ভোগান্তি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইট ২এ-৪১৫ ট্যাক্সিওয়ে (বিমানবন্দরের এমন একটি নির্দিষ্ট পথ, যেখানে বিমান রানওয়েতে উড্ডয়ন বা অবতরণের আগে ও পরে নিজস্ব ইঞ্জিনের সাহায্যে ধীরে ধীরে চলাচল করে) থেকেই ঘুরিয়ে আবার টার্মিনালে ফিরিয়ে আনা হয়।

অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম যুগান্তরকে বলেন, গুরুতর চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা, নিরাপত্তার হুমকি, যান্ত্রিক ত্রুটি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের নির্দেশ ছাড়া বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ ট্যাক্সিওয়ে থেকে ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। কোনো যাত্রীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিমান ফিরিয়ে আনা হলে সেটি অপারেশনাল সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা প্রটোকল এবং পেশাগত নৈতিকতা- এ তিন ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তৈরি করে। এমন পরিস্থিতিতে যাত্রী নেমে গেলে তার লাগেজও নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী নামানো, পুনরায় সিকিউরিটি চেক এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা উচিত। তিনি অন্য এয়ারলাইন্সের অফিসার হলেও এ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রী। সরকারি পরিচয় বা পদমর্যাদার প্রভাব খাটিয়ে যাত্রী নিরাপত্তা হুমকি তৈরির কারণে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

সূত্রমতে, শুক্রবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে উড্ডয়নের কথা ছিল। বোর্ডিং শেষে বিমানটি ট্যাক্সিওয়ে করলে হঠাৎ করেই বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স ফ্লাইট থেকে নেমে যেতে চান। নিয়ম অনুযায়ী অনুরোধ জানানো হলেও বিমান না থামায় তিনি নিজের অফিসিয়াল পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) দেখিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি ককপিটে গিয়ে নিজের পরিচয় দেন।

অভিযোগ রয়েছে, এয়ার অ্যাস্ট্রার দায়িত্বে থাকা পাইলট তার পূর্বপরিচিত হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিমানটি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সেই ফার্স্ট অফিসার গোলাম রাব্বি প্রিন্স পরিবারের ছয় সদস্যকে নিয়ে চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। তবে তাড়াহুড়োয় শেরওয়ানি বাসায় ফেলে আসেন তিনি। এ কারণে উড্ডয়নের প্রস্তুতি চলাকালেই তিনি বিমান থেকে নেমে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার এ খামখেয়ালিপূর্ণ আচরণের কারণে ফ্লাইটে থাকা শিশু-বৃদ্ধসহ প্রায় ১০০ যাত্রীকে চরম ভোগান্তি ও দীর্ঘ বিলম্বের মুখে পড়তে হয়।

সূত্র জানায়, যাত্রীদের প্রায় তিন ঘণ্টা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে হয়। এ সময় শেরওয়ানি এনে পুনরায় বিমানবন্দরে ফেরার পর দুপুর প্রায় ১টার দিকে ফ্লাইটটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও যাত্রীদের জন্য এয়ার অ্যাস্ট্রার পক্ষ থেকে ন্যূনতম খাবার বা পানীয়ের ব্যবস্থাও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন একাধিক যাত্রী।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) বিধি অনুযায়ী, গুরুতর জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ট্যাক্সিওয়ের পর বিমান ফিরে আসার সুযোগ নেই। এমনকি কোনো যাত্রী মাঝপথে নেমে গেলে নিরাপত্তার স্বার্থে ওই যাত্রীর সব লাগেজও বিমান থেকে নামিয়ে (অফলোড) পুনরায় নিরাপত্তা পরীক্ষা (সিকিউরিটি রিচেক) করতে হয়। এতে ফ্লাইটের আগের ক্লিয়ারেন্স বাতিল হয়ে যায় এবং নতুন করে স্লট নিতে হয়। অভিযোগ উঠেছে, একজন কর্মকর্তার পরিচয়পত্রের প্রভাবের কারণে এয়ার অ্যাস্ট্রা এসব নিরাপত্তা প্রটোকল লঙ্ঘন করেছে।

এ ঘটনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও এয়ার অ্যাস্ট্রা— উভয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, যাত্রীদের কিছুটা দুর্ভোগ হয়েছে, সেটি আমরা অস্বীকার করছি না। তবে কোনো যাত্রী অভিযোগ করলে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, এটি খুব গুরুতর ঘটনা। এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি বিষয়টির খোঁজখবর নিচ্ছি। তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এয়ার অ্যাস্ট্রা এবং সংশ্লিষ্ট বিমানের পাইলট উভয়কেই তদন্তের আওতায় আনা হবে।

যাত্রী হয়রানির বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।


জাতীয় এর আরও খবর

img

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বহনকারী ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, জরুরি অবতরণ

প্রকাশিত :  ১৭:০৩, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫৫, ০৩ জুলাই ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র ও বেসামরিক বিমান পরিবহন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে বহনকারী ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী নভোএয়ারের একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবতরণ করেছে। 

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা (০৩) পৌনে আটটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। এতে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিমানবন্দর সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নভোএয়ারের ভিকিউ-৯৩৫ ফ্লাইটটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে উড়াল দেয়। তবে ১৫ মিনিট পরও ল্যান্ডিং গিয়ার ওপরে না ওঠায় পাইলট ঢাকাতেই জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। ককপিট থেকে তিনি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ারে (এটিসি টাওয়ার) যোগাযোগ করেন। ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণের অনুমতি পাওয়ার পর পাইলট ৪০-৪৫ মিনিট ধরে আকাশে চক্কর দিয়ে জ্বালানি খরচ করেন। ততক্ষণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি অবতরণের সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়। শেষ পর্যন্ত ফ্লাইটটি নিরাপদে অবতরণ করে।

ওই ফ্লাইটের যাত্রী প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘উড্ডয়নের প্রায় ১০-১৫ মিনিট পরই বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ে। ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে ওপরে উঠছিল না। ক্যাপ্টেন বারবার চেষ্টা করলেও সেটি প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমানটি ঢাকায় ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৪৫ মিনিট আকাশে অবস্থান করার পর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়েছে, ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্তটি একেবারেই সঠিক ছিল। যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তিনি ঢাকায় ফিরে আসেন। তবে এ সময় বিমানের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের কান্নাকাটি এবং যাত্রীদের উদ্বেগ পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তোলে।’

এমন ঘটনার পর পুরোনো উড়োজাহাজের ফিটনেস পরীক্ষা আরও কঠোর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো যে পুরোনো উড়োজাহাজ পরিচালনা করছে, সেগুলোর ফিটনেস আরও কঠোরভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই।’

জরুরি অবতরণের বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে নভোএয়ারের কোনো কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিক কথা বলতে রাজি হন নি। তবে নাম প্রকাশ না করে একজন কর্মকর্তা জানান, উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গন্তব্যে না গিয়ে ফ্লাইটটি ঢাকায় ফিরে আসে। প্রকৌশলীরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন।


জাতীয় এর আরও খবর