img

করদাতাদের সতর্ক করে এনবিআরের ৪ নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ০৬:৩৩, ০৫ জুলাই ২০২৬

করদাতাদের সতর্ক করে এনবিআরের ৪ নির্দেশনা

করদাতাদের ফাইল অডিটে নেওয়ার ভয় দেখিয়ে একদল প্রতারক অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ ধরনের প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকতে এবং কোনো অবস্থাতেই প্রতারকদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত না হতে করদাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আজ রবিবার (৫ জুলাই) এনবিআর-এর রাজস্ব ভবন থেকে পাঠানো এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এনবিআর জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করা গেছে এক শ্রেণির প্রতারকচক্র করদাতাদের কর নথি (File) অডিটে পড়ার তথ্য দিয়ে বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে যোগাযোগ করছে। তারা অডিট থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বা আইনি জটিলতার ভয় দেখিয়ে করদাতাদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ দাবি করছে।

এই বিষয়ে করদাতাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে এনবিআর চার দফা নির্দেশনা দিয়েছে :

লিখিত নোটিশ ছাড়া কোনো যোগাযোগ নয় : এনবিআর-এর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী কর নথি অডিট সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর বা অননুমোদিত মাধ্যমে যোগাযোগ করেন না।

অডিটের জন্য ফাইল নির্বাচিত হলে তা আইনানুযায়ী কেবল আনুষ্ঠানিক লিখিত নোটিশের মাধ্যমে করদাতাকে জানানো হয়।

আর্থিক লেনদেনে সতর্কতা : কর সংক্রান্ত যেকোনো বকেয়া কর বা ফি শুধু সরকারি চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হয়। কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি করদাতার কাছ থেকে ব্যক্তিগতভাবে অথবা বিকাশ, রকেট, নগদ বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণের এখতিয়ার রাখেন না।

তথ্য যাচাই : এই ধরনের কোনো সন্দেহজনক ফোন কল, খুদে বার্তা (SMS) বা ইমেইল পেলে বিভ্রান্ত না হয়ে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনারের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা : কোনো প্রতারকচক্র যদি এনবিআর-এর কর্মকর্তা সেজে অর্থ দাবি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে (পুলিশ) অবহিত করতে এবং প্রতারকের ফোন নম্বরটি সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড করদাতাদের হয়রানিমুক্ত ও স্বচ্ছসেবা প্রদানে বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সন্দেহভাজন এই প্রতারকচক্রের হাত থেকে নিজের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে রাখতে করদাতাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে হাসপাতালের গেটের সামনে মানবদেহের হাড়গোড় ও মাথার খুলি!

প্রকাশিত :  ১৬:১০, ০৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫৯, ০৪ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ জেচলা শহেরের ২৫০ শয্যা আধুনিক সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগের গেটের সামনে মানুষের কঙ্কালসদৃশ হাড়গোড় ও একটি মাথার খুলি পড়ে থাকার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার (৩জুলাই) সকালে এ দৃশ্য দেখতে পেয়ে সাধারণ মানুষ ও রোগী-স্বজনদের মাঝে সৃষ্টি হয় ব্যাপক কৌতূহল, পাশাপাশি উদ্বেগও।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন জানান, সকালেই হাসপাতালের মূল প্রবেশপথের সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা হাড়গোড় ও একটি খুলি চোখে পড়ে। বিষয়টি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে ভিড় জমে যায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ধারণ করেন এবং ঘটনাটির ব্যাখ্যা জানতে চান। তবে প্রশ্ন উঠেছে এ ধরনের সংবেদনশীল বস্তু কীভাবে হাসপাতালের বহির্বিভাগের মতো জনবহুল স্থানে এসে পড়ল?

হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য কিছু কঙ্কালসদৃশ হাড়গোড় ও খুলি হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলো সংরক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অবহেলা বা তদারকির ঘাটতির কারণেই এসব বাইরে চলে আসতে পারে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি এটি কেবল অবহেলার বিষয় নাও হতে পারে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো বাইরে এনে ফেলেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। আবার কেউ কেউ বলছেন চুরি করে এনে হয়তো কেউ ফেলে রাখতে পারে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কীভাবে হাড়গোড় ও খুলি বহির্বিভাগের সামনে এল, কারা এর সঙ্গে জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাও পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা শিক্ষার জন্য ব্যবহৃত মানবদেহের অংশ সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। এর ব্যত্যয় ঘটলে শুধু জনমনে আতঙ্কই সৃষ্টি হয় না, বরং এটি নৈতিক ও আইনগত প্রশ্নও তোলে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলেও, দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

বাংলাদেশ এর আরও খবর