img

১০ দিনেও কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি সিলেটের নতুন ডিসি

প্রকাশিত :  ১০:৪৮, ০৭ জুলাই ২০২৬

 ১০ দিনেও কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি সিলেটের নতুন ডিসি

এখনও অবসান হয়নি সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) যোগদান নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার । প্রজ্ঞাপন জারির ১০ দিনেও কর্মস্থলে যোগ দিনে পারেননি নতুন ডিসি মু. রেজা হাসান। তার যোগদান নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

ডিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরও কী কারণে রেজা হাসান ওই পদে এখনও যোগ দেননি, এ নিয়ে স্পষ্ট কোনও তথ্যও দিতে পারছে না স্থানীয় প্রশাসন। তবে একাধিক সূত্র বলছে, রেজা হাসােকে নিয়ে এক প্রভাবশালী মন্ত্রীর আপত্তি রয়েছে। এই আপত্তির বিষয়টি তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও জানিয়েছেন। মন্ত্রীর আপত্তির তথ্য দিয়ে একাধিক গণমাধ্যমেও সংবাদ প্রকাশিত

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহা বলেন, ‘এটি (ডিসির যোগদান করা কিংবা না করা) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। এ বিষয়ে কিছু জানা নেই আমার।’

তবে সরকারদলীয় সিলেটের স্থানীয় একটি রাজনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে মু. রেজা হাসানের নিয়োগের বিষয়টি একজন মন্ত্রীর মনঃপূত হয়নি। বিষয়টি তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছেন। এখন সিলেটে আবার নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন হতে পারে।

রেজা হাসানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।

এর আগে ২১ জুন সিলেটের ডিসি মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

তবে জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহারের কারণ কিংবা নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে কে দায়িত্ব নেবেন, তখন জারি হওয়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ ছিল না। পরে ২৮ জুন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত মু. রেজা হাসানকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এক প্রজ্ঞাপনে জানায়। ওই প্রজ্ঞাপন জারির পর রেজা হাসান কুমিল্লার ডিসির দায়িত্ব ছাড়লেও সিলেটে আর যোগ দেননি।

প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক একটি সূত্র দাবি করেছে, সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নানা ঘটনায় আলোচিত ছিলেন সারওয়ার আলম। সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার ইস্যুতে জেলা প্রশাসকের কিছু উদ্যোগ আলোচিত-সমালোচিত হয়।

গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে যান সারওয়ার আলম। এ সময় তিনি মাজারের আয় ও ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এরই অংশ হিসেবে ১৮ জুন বিকালে মাজারে থাকা আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি মাজারে মানুষের দানের অর্থ রাখার জন্য থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়।

এ ঘটনার পর জেলা প্রশাসকের পক্ষে-বিপক্ষে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। কেউ জেলা প্রশাসকের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেন। আবার প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় দানবাক্স স্থাপনের বিষয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ রকম আলোচনা-সমালোচনা চলাকালেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। যদিও সরকারের একাধিক মন্ত্রী জেলা প্রশাসক বদলির ঘটনাকে ‘রুটিন ওয়ার্ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘদিনের চেনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন ডিসি সারওয়ার আলম। তার এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে যেমন প্রশংসা ও নানামুখী আলোচনার ঝড় ওঠে, তেমনি তৈরি হয় বিতর্কও। এরই মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। মাজারের দানবাক্সে হাত দেওয়ার পরপরই ডিসির এমন আকস্মিক বদলি হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

প্রত্যাহারের আদেশ জারির একদিন পরই সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহার কাছে দায়িত্ব অর্পণ করেন বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। নতুন জেলা প্রশাসক যোগদান না করা পর্যন্ত এডিএম পিংকি সাহা ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

তাহিরপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন: ইউপি চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রকাশিত :  ১১:০৯, ০৭ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলাস্থ যাদুকাটা নদীর পার কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

সোমবার তাহিরপুর উপজেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমল গ্রহণকারী) আদালতে এই চার্জশিট দাখিল করা হয়।

তদন্তে অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম এই অভিযোগপত্র জমা দেন।

চার্জশিটভুক্ত ২৭ জন আসামির মধ্যে অন্যতম হলেন, তাহিরপুর উপজেলার সোহালা গ্রামের ইউপি চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন, ঘাঘটিয়া আদর্শগ্রামের রানু মেম্বার, ঢালারপাড় (লাউড়েরগড়) গ্রামের জামাল মিয়া, বিল্লাল মিয়া এবং রাজারগাঁও জাঙ্গালহাটি গ্রামের বোরহান উদ্দিন।

পরিবেশ অধিদপ্তর সুনামগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ও মামলার বাদী মো. মোহাইমিনুল হক জানান, তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের পুরান লাউড় মৌজার অন্তর্গত যাদুকাটা-১ এবং পুরান লাউড় ও চালিয়ারঘাট মৌজার যাদুকাটা-২ বালুমহালের ইজারা-বহির্ভূত এলাকার নদীর পার কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছিল।

সিলেটের খবর এর আরও খবর