img

জৈন্তাপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি পুলিশ হেফাজতে

প্রকাশিত :  ১৬:৪৬, ১১ জুলাই ২০২৬

 জৈন্তাপুরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী-শাশুড়ি পুলিশ হেফাজতে

সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলায় ফারজানা আক্তার শিমু (২৩) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা মেয়ের ওপর দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। ঘটনার পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রাসেল আহমদ (২৮) ও শাশুড়িকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

নিহত শিমুর বাড়ি জৈন্তাপুর উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের কমলাবাড়ি গ্রামে। প্রায় ছয় মাস আগে একই ইউনিয়নের রুপচেং উত্তর মহল্লার মৃত সামসুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

নিহতের বাবা কামরুজ্জামান সেলিম আহমদ অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবি, মানসিক নির্যাতন এবং বিভিন্ন বিষয় বিশেষ করে ইফতারের সামগ্রী, সম্প্রতি দেওয়া আম-কাঁঠাল এবং বাড়ি নির্মাণের জন্য টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায়ই তার মেয়েকে কটূক্তি ও চাপ প্রয়োগ করতেন। এসব বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত পারিবারিক কলহ চলছিল বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও জানান, গত ৬ জুলাই শিমুকে তার স্বামী ও শাশুড়ি চিকিৎসার জন্য জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে উভয় পক্ষের অভিভাবকদের মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি হলে শিমু অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা করিয়ে গত ১০ জুলাই বিকেলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাকে আবার শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে দেন।

নিহতের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (১১ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে শিমুর স্বামী রাসেল আহমদ ফোন করে জানান, শিমু ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যান।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর শিমুকে সেখানে আনা হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জৈন্তাপুর মডেল থানাকে অবহিত করলে পুলিশ হাসপাতালে এবং পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।

পরিবারের আরও অভিযোগ, তাদের জানানো হয়েছে শিমু তার স্বামীর চাচার বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়েছেন। তবে তারা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ নিহতের পরিবারের আনা নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে রাসেল আহমদের বসতঘরের একটি কক্ষে শিমুকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে এবং মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, \"খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।\"

এদিকে, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে বন্যার কবলে অর্ধলক্ষাধিক লোক

প্রকাশিত :  ১৬:৫৮, ১১ জুলাই ২০২৬

এক টানা বৃষ্টির ফলে উজানের ঢলে নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২২টি ইউনিয়ন এখনো প্লাবিত হয়ে আছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ১১ হাজারের বেশি পরিবার। এতে অর্ধ লক্ষাধিক লোক বন্যার কবলে পড়েছেন।

এই দুই জেলায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বসতবাড়ি, সড়ক ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ায় হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও আশ্রয় সংকট।

হবিগঞ্জে খোয়াই নদীর দুটি স্থানে পানি প্রবেশ করায় সদর, বানিয়াচং ও বাহুবল উপজেলার অন্তত ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে কালিগঞ্জ-চরহামুয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে এবং রাধাপুর এলাকায় নদীর পানি উপচে লোকালয়ে ঢুকতে শুরু করে। এতে নোয়াবাদ, চরহামুয়া, কালিগঞ্জ, যাদবপুর, বনগাঁওসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, তিন উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ছয় হাজারের বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়েছে। হবিগঞ্জ সদর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন। পানি বৃদ্ধির কারণে হবিগঞ্জ-মিরপুর সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গিয়ে যোগাযোগও ব্যাহত হচ্ছে।

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, খোয়াই নদীর দুটি স্থান দিয়ে পানি প্রবেশ করছে। প্রবল স্রোতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

হবিগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ওয়ারল্যাস অপারেটর মো. নুর উদ্দিন বলেন, জেলার তিনটি উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৬ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্যা আক্রান্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শুরু হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাঁচ লাখ টাকা, ১০০ টন চাল ও এক হাজার ৮২০ প্যাকেট শুকনো খাবার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় এক হাজার ৬২০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মৌলভীবাজারেও মনু ও ধলাই নদীর ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসাবে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। অনেক সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মনু নদীর পানি বিপদসীমার প্রায় ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙনকবলিত অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে।

বন্যা পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। টেংরা ইউনিয়নের আকুয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আশরফ মিয়া শুক্রবার বিকেলে বন্যার পানিতে আটকা পড়ে মারা যান। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেলেও তিনি ঘরে থেকে যান।

মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকতা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তবে এ পর্যন্ত চারটি উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর