img

শ্রীমঙ্গলে পিতার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই অজগর উদ্ধারে ছুটলেন সজল

প্রকাশিত :  ১৭:১৬, ১৬ জুলাই ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে পিতার মৃত্যুর শোক বুকে নিয়েই অজগর উদ্ধারে ছুটলেন  সজল

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বিশ্ব সাপ দিবসের দিন একটি অজগর সাপ উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা। তবে এ উদ্ধার অভিযানের পেছনে রয়েছে এক মানবিক গল্প। পিতার মৃত্যুর মাত্র তিন দিনের শোক বুকে নিয়েই অভিযানে অংশ নেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার উত্তর ভাড়াউড়া এলাকায় যোবায়ের আহমেদের বাড়িতে একটি অজগর সাপ দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, কয়েক দিন ধরে তাঁদের বাড়ি থেকে হাঁস ও মুরগির বাচ্চা নিখোঁজ হচ্ছিল। সকালে বাড়ির দেয়াল বেয়ে পাশের একটি গাছে একটি বড় অজগর উঠতে দেখে তাঁরা ধারণা করেন, নিখোঁজ হওয়া হাঁস ও মুরগির বাচ্চাগুলো সম্ভবত সাপটির শিকার হয়েছে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড় ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অজগর সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করেন। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে সাপটিকে উপযুক্ত বনাঞ্চলে অবমুক্ত করা হবে।

এই উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে আবেগঘন দিকটি হলো, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সীতেশ রঞ্জন দেবের মৃত্যু হয়েছে মাত্র তিন দিন আগে। গত ১৪ জুলাই তিনি শ্রীমঙ্গলের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পিতার মৃত্যুর শোকের মধ্যেও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের দায়িত্বকে প্রাধান্য দিয়ে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন তাঁর সন্তান স্বপন দেব সজল।

স্থানীয়দের মতে, ব্যক্তিগত শোকের মাঝেও বন্যপ্রাণী রক্ষায় এমন নিষ্ঠা দায়িত্ববোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশ্ব সাপ দিবসে শ্রীমঙ্গলের এ উদ্ধার অভিযান শুধু একটি অজগর সাপকে নিরাপদে উদ্ধার করার ঘটনাই নয়, বরং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সহাবস্থান এবং প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতারও একটি অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

হবিগঞ্জে ৩ মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল ৩ যুবকের

প্রকাশিত :  ১৭:১৯, ১৬ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন যুবক নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের নির্মাণাধীন আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দ্রুতগতির তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। গুরুতর আহত চারজনকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত বাকি দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নিহতরা হলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের চন্দন মিয়ার ছেলে অন্তর মিয়া (২৫), বানিয়াচং উপজেলার আমিরখানী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তানভীর (২৩) এবং একই গ্রামের নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (৩২)।

আহতরা হলেন জেলার চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের আব্দুস শহীদের ছেলে শহিদুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫), একই উপজেলার থৈগাঁও গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে মো. মিজান মিয়া (২৭)। আহত দুজনই ব্যুরো বাংলাদেশ এনজিওতে কর্মরত।

আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন জানান, জলসুখা ব্রিজ এলাকায় তিনটি মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর আরো দুজন মারা যান।

পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর