img

প্রতারণার অভিযোগে ওসমানী বিমানবন্দরে ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ১২:০১, ১৪ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:০৩, ১৪ জুলাই ২০২৬

 প্রতারণার অভিযোগে ওসমানী বিমানবন্দরে ব্রিটিশ বাংলাদেশি নারী গ্রেপ্তার

সিলেটে প্রতারণার অভিযোগে ব্রিটেন প্রবাসী এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া মাকসুদা চৌধুরী (৫৬) মৌলভীবাজার জেলার সদর উপজেলার রাউটগাঁও গ্রামের শাহ মো. ছালেক হোসেনের স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, তিনি সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার একটি মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাকসুদা রবিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের BG-201 ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যান। তবে তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সাধারণ ডায়েরি করে তাকে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুল কুদ্দুসের কাছে হস্তান্তর করে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, আম্বরখানা মৌজার একটি ভূমি বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। অভিযোগকারী মো. শুকুর মিয়ার দাবি, বিবাদিনী পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভূমি বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়ের স্বামী প্রবাসী ফুজাইল আহমদের কাছ থেকে মোট ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা গ্রহণ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা এবং অতিরিক্ত ৮ লাখ টাকা গ্রহণ করা হলেও পরবর্তীতে ভূমির দলিল সম্পাদন না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন মাকসুদা চৌধুরী। একপর্যায়ে তিনি টাকা গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেন।

এ ঘটনায় অভিযোগকারী আর্থিক ও মানসিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম বলেন, প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত নারীকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণ : সাড়ে ৪ লাখ টাকা পাবেন সেই গৃহবধূ

প্রকাশিত :  ১৮:৪৫, ১৪ জুলাই ২০২৬

সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বহুল আলোচিত মামলার রায়ে একজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে অপর চার আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মামলায় যাবজ্জীবন কারাদন্ডপ্রাপ্ত ৩ জনকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। এই টাকা ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালত সূত্র জানায়, রায়ে মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে অতিরিক্ত একলাখ টাকা অর্থদন্ড এবং অপর একটি ধারায় ১৪ বছরের সশ্রম কারাদন্ডের পাশাপাশি আরও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদন্ডে দন্ডিত করেন আদালত। জরিমানার টাকা ভিকটিমকে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সেই সাথে ঘটনার সময় জব্দকৃত আলামত ঢাকা মেট্রো ভ-০২-১৩৬২ প্রাইভেট কারটি এজহারকারী ব্যক্তিকে ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়।

এছাড়া জব্দকৃত লাল রংয়ের পুরাতন পালসার মোটরসাইকেলটির কেউ দাবিদার না থাকায় তা রাষ্ট্র বরাবর বাজেয়াপ্ত করেন আদালত। সেই সাথে অপর জব্দকৃত আলামত নকিয়া ব্রান্ডের মোবাইল দুটি আসামী সাইফুর রহমানের ব্যক্তিগত সম্পদ হিসাবে তার কক্ষ থেকে জব্দ হওয়া মোবাইলগুলো তার পরিবারকে ফেরত দেয়ারও আদেশ দেন বিচারক।

অন্যদিকে, পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল, মিসবাউল ইসলাম ওরফে রাজন, রবিউল ও মাহফুজুর রহমানকে অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছেন আদালত। অন্য কোন মামলায় আটকাদেশ না থাকলে তাদেরকে এখনই অবমুক্ত করার আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় চার দণ্ডপ্রাপ্তসহ আট আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর