img

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আর রাষ্ট্রপতি থাকছেন না

প্রকাশিত :  ০৯:২৩, ২৩ জুলাই ২০২৬

মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন আর রাষ্ট্রপতি থাকছেন না

রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চুপ্পু আর দায়িত্বে বহাল থাকছেন না। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি পদত্যাগ করবেন বলে জানা গেছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিষয়টি বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন খুব শিগগির পদত্যাগ করতে পারেন। নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন নিয়ে সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলেও সূত্রটি দাবি করেছে।

তিন সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করা রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে কয়েক দিন ধরেই বেশ গুঞ্জন ছিল। তিনি যে রাষ্ট্রপতি পদ থেতে ইস্তফা দিচ্ছেন সেটি নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তাও। তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতির শরীররটা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না। ওপেন হার্ট সার্জারি করিয়েছেন। এখন তিনি সম্মানজনক বিদায় নিয়ে চলে যেতে চান। সরকার হয়তো সেটা বিবেচনা করছে।

অপর এক সূত্র জানিয়েছে, স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগের কথা জানানো হয়েছে। ২৫ জুলাইয়ের আগেই পদত্যাগপত্রে সই করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় দেরি হলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের অভ্যন্তরে কোনো সংশয় নেই বলেও সূত্রটি জানিয়েছে।

বিএনপির একটি নির্ভরশীল সূত্র বলেছে, পদত্যাগ করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনকে দলের উচ্চপর্যায় থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন নির্বাচিত হন। ওই বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। দায়িত্বপালনরত অবস্থায় সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ওপেন হার্ট সার্জারি করান। এরপর যুক্তরাজ্যে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলাকালে তার হৃদযন্ত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্লক শনাক্ত হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে সফলভাবে এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্ট (রিং) স্থাপন করা হয়।

এরপর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণ, রাজনৈতিক সংকট নিরসন এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনে অভিভাবকত্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ ও ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেন এবং নতুন সরকারকে শপথ পাঠ করান।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন জোর আলোচনায় রূপ নেয় প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে। গতকাল বুধবার তিনি নিজের ফেসবুকে পোস্টে লেখেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর চাইতেও বিস্ময়কর খবর হলো নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির কোনো শীর্ষ নেতার পরিবর্তে পছন্দের তালিকায় রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।

বিএনপি সূত্র বলছে, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি ছাড়াও বিএনপির সিনিয়র নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খানসহ দলটির শীর্ষ কয়েকজনের নাম আলোচনায় আছে। আলোচনায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারও।


জাতীয় এর আরও খবর

img

মোদির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, এবার ভারতজুড়ে বিক্ষোভের ডাক

প্রকাশিত :  ১৭:৪৭, ২৩ জুলাই ২০২৬

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সমর্থকরা প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। এরপরও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি পূরণ না হওয়ায় এবার দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। শুক্রবারের এই কর্মসূচিতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ বৃহস্পতিবার সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা দেশজুড়ে কর্মসূচির ডাক দিয়ে বলেন, দিল্লির বাইরেও আন্দোলন ছড়িয়ে দিতে হবে। প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে হবে। চলুন এই বিক্ষোভকে জাতীয় স্তরে নিয়ে যাই। অনুগ্রহ করে ২৪ জুলাই (শুক্রবার) সারা দেশের প্রতিটি শহর ও গ্রামে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করুন। 

এদিকে আন্দোলন দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দাবিও বৃহৎ পরিসরে নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিত দীপকে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অভিজিত বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি উপেক্ষা করা হলে বিক্ষোভ আরও বাড়বে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে এই আন্দোলন শুধু শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

অভিজিত বলেন, ‘মোদিজিকে আবারও অনুরোধ করছি, আপনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করুন। না হলে বিষয়টা আপনার পদত্যাগের দাবি পর্যন্ত গড়াবে।’ 

শিক্ষামন্ত্রীকে অযোগ্য ও ব্যর্থ উল্লেখ করে অভিজিত বলেন, একজন মন্ত্রীকে বাঁচানোর চেয়ে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর স্বার্থ আগে দেখা উচিত। ছাত্রছাত্রীর চেয়ে একজন অযোগ্য মন্ত্রী বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারেন না। যদি ব্যর্থ ও অযোগ্য মন্ত্রীকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ভারতের নির্বাচনে কেউ আপনাদের ভোট দেবে না।

পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেই বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা বলেছেন, সরকার বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আরেক দফায় আলোচনা করতে প্রস্তুত। বৈঠকের স্থান হিসেবে তিনি নিজের অফিস কিংবা বাসভবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তবে সিজেপির পক্ষ থেকে এর আগে বলা হয়েছিল, পরবর্তী দফার আলোচনা হয় বিক্ষোভস্থলে, নয়তো কোনো নিরপেক্ষ জায়গায় করতে হবে। 

পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিল্লির সংসদ মার্গ-টলস্টয় লেন এলাকায় বেশ উত্তপ্ত পরিস্থিতি দেখেছেন হিন্দুস্থান টাইমসের সাংবাদিকরা। সেখানে বিক্ষোভকারী ও পুলিশ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। উভয়ের মাঝে কেবল দড়ির ব্যারিকেড ছিল। এক পর্যায়ে পুলিশের দিকে বোতল ছোড়া হলে উত্তেজনা বাড়ে।

আন্দোলন দমাতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সময়সীমাও বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এই অঞ্চলে মধ্যরাত পর্যন্ত ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে মোবাইল অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করতে নিজের বাসভবনে বৈঠকের ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাত দিয়ে হিন্দুস্থান টাইমস জানিয়েছে, বৈঠকে অন্য বিরোধী দলগুলোর নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা। তবে এর আগেই রাহুলের বাসভবনের সামনে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্ভাব্য বাজে পরিস্থিতি এড়াতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লেখার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী আন্না হাজারে। বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর যাতে বলপ্রয়োগ না করা হয়, সেজন্য তিনি মোদিকে চিঠি লিখেছেন।

আন্না হাজারে বলেন, সহিংসতা দিয়ে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। সহিংসতা কাজ আরও বাড়িয়ে দেবে।


জাতীয় এর আরও খবর