img

রাজধানীতে ঘরে ঢুকে নারী চিকিৎসককে হত্যা

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ০১ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২২, ০১ আগষ্ট ২০২৬

 রাজধানীতে ঘরে ঢুকে নারী চিকিৎসককে হত্যা

রাজধানীর দক্ষিণখান থানার ফায়দাবাদ এলাকার জামতলা গলির একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে এক নারী চিকিৎসককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকালে গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে ওই নারীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার মির্জা তারেক আহমেদ বেগ। ঘরের জিনিসপত্র লুট হওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

নিহত সারা রোকসানা পিনু কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ি এলাকার শিক্ষক মজিবুল হক বাচ্চুর মেয়ে। তার স্কুল পড়ুয়া দুটি ছেলে রয়েছে ও এক মেয়ে। তবে ঘটনার সময় ওই নারী বাসায় একাই ছিলেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ। 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা বালিশচাপা দিয়ে শ্বাসরোধে সারা রোকসানাকে হত্যা করে। পরে বাসায় থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।

নিহতের ছেলে বলেন, আমি বাসায় ছিলাম না। পরে এসে দেখি আমার আম্মুকে গেস্ট রুমে হত্যা করা হয়েছে। গ্রিল কেটে খুনি বাসায় ঢুকেছে। বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আমার আম্মুর কাছে যত স্বর্ণ ও টাকা ছিল, সব নিয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, স্বর্ণালংকারের জন্যই দুর্বৃত্তরা বাসায় ঢুকেছে বলে তাদের ধারণা। তবে বাসার কিছু জিনিসপত্র ও প্যাকেট এখনো পড়ে রয়েছে। পুলিশ আলামত সংগ্রহ ও তদন্ত শেষ করার পর সেগুলোতে হাত দেওয়া হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় সারা রোকসানা বাসায় একাই ছিলেন। তার স্বামী প্রতিদিনের মতো অফিসে ছিলেন এবং মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ বলেন, বিকেল ৩টার পর গ্রিল কেটে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পাশাপাশি ঘরের বিভিন্ন মালামালও লুট করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘরের জিনিসপত্র লুটের ঘটনাও ঘটেছে।

দক্ষিণখান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাবিব গণমাধ্যমকে বলেন, সাধারণত স্কুল ছুটির পর নিহত নারী মেয়েকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতেন। কিন্তু ওই দিন তিনি স্কুলে না যাওয়ায় মেয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নিজেই বাসায় ফিরে আসে। বাসায় এসে পরিস্থিতি দেখে আবার স্কুলে ফিরে শিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানায়। পরে শিক্ষক তার বাবাকে খবর দেন।

তিনি জানান, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পায়। তখন নিহতের স্বামী ও ছোট মেয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলের গ্রিল কাটা অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাসার আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় ছিল। তবে কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, কী কী মালামাল খোয়া গেছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড

প্রকাশিত :  ১৪:৪৫, ০১ আগষ্ট ২০২৬

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থার আওতায় আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ মোট ৫০টি দেশের নাগরিকরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। তবে বর্তমান তালিকায় ভারতের নাম নেই।

\r\n

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার জন্য আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে।

মার্কিন ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বছরব্যাপী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ভিসা গ্রহীতারা যেন তাদের অবস্থানের মেয়াদ ও শর্ত মেনে চলেন, তা নিশ্চিত করতে এই কর্মসূচিটি বেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। নতুন এই নিয়ম আগামী সোমবার থেকে কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে আরও একাধিক দেশকে এই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, ফেডারেল রেজিস্টারের এই বিজ্ঞপ্তি বি-১ এবং বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যা ব্যবসা ও পর্যটনের উদ্দেশ্যে ইস্যু করা হয়ে থাকে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভিসা ইস্যু করার শর্ত হিসেবে কনস্যুলার কর্মকর্তারা উপযুক্ত মনে করলে সংশ্লিষ্ট অ-অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে বলতে পারবেন।

এতে বলা হয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ডিপার্টমেন্ট অব দ্য ট্রেজারির জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা মূল্যায়নের একটি কাঠামো তৈরি করেছিল ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্প। এই প্রকল্পের প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্তে বন্ড নেওয়া ভিসা গ্রহীতাদের ওপর আইনি শর্ত নিশ্চিতে ভিসা বন্ড কর্মসূচিকে অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হিসেবে পরিষ্কার হওয়া গেছে।

পাইলট কর্মসূচির আওতায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ৫ হাজার ডলার, ১০ হাজার ডলার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ডের দাবি করতে পারতেন। তবে চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের বিকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বন্ডের সর্বোচ্চ পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার করা হয়েছে।

ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর আগামী ৩ আগস্ট থেকে এই নিয়মটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হবে। কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত বর্তমান ৫০টি দেশের মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার।

মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতেই এই নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অভিবাসনবিষয়ক অধিকারকর্মীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে বৈধভাবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মানুষকে নিরুৎসাহিত করতে পারে।

তারা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কঠোর অভিবাসন নীতি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে; যা একই সঙ্গে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে এবং বর্ণগত বৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে ট্রাম্প এসব পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে প্রতিরক্ষা করে আসছেন।

ট্রাম্প বলছেন, তিনি অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করতে চান। কিন্তু সমালোচকরা বলেছেন, তার প্রশাসন নির্দিষ্ট কিছু ভিসা আবেদনকারীর জন্য উচ্চ ফি আরোপ এবং দেশে থাকা কিংবা নতুন আবেদনকারী অভিবাসীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার মাধ্যমে বৈধ অভিবাসনকেও অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

• যেসব দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড

• আলজেরিয়া

• অ্যাঙ্গোলা

• অ্যান্টিগুয়া এবং বারবুডা