img

‘জোর করে প্রিপেইড মিটার বসানোর চেষ্টা হলে দায় বিদ্যুৎ বিভাগের’

প্রকাশিত :  ১৪:৪৫, ০৫ আগষ্ট ২০২৬

‘জোর করে প্রিপেইড মিটার বসানোর চেষ্টা হলে দায় বিদ্যুৎ বিভাগের’

নারায়ণগঞ্জে কোনো ধরনের গণশুনানি ছাড়াই প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার স্থাপনের উদ্যোগের সমালোচনা করে স্থানীয় বিশিষ্টজনরা অভিযোগ করেছেন, সাবেক সরকারের আমলের এ প্রকল্পটি জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, যা সরকারকে অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে ফেলতে পারে। তারা দাবি জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরা সতর্ক করে বলেন, জনমত উপেক্ষা করে মিটার স্থাপনের চেষ্টা করা হলে এর দায়ভার বিদ্যুৎ বিভাগকেই বহন করতে হবে।

সোমবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ শহরের কিল্লারপুলে ডিপিডিসির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে ডিপিডিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এসব কথা বলেন তারা।

বৈঠকে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রিপেইড মিটার প্রকল্পের পরিচালক (পিডি) মো. হানিফ, ডিপিডিসির আইসিটি বিভাগের ডিজিএম কামরুল হাসান, প্রধান প্রকৌশলী (সাউথ) মুহাম্মদ কামাল হোসেন এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান মাসুম, ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুর রহমান ইসমাইল, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী নুরুদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন মন্টু, সহসভাপতি কুতুবউদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা রমজানুল রশিদ, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বাগে জান্নাত পঞ্চায়েত পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক শরীফ সুমনসহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত, মসজিদ কমিটি ও সমাজ উন্নয়ন কমিটির নেতারা।

বৈঠকে বক্তারা অভিযোগ করেন, ডিপিডিসি কোনো আগাম নোটিশ, জনমত বা গণশুনানি ছাড়াই একতরফাভাবে গ্রাহকদের ওপর প্রিপেইড মিটার চাপিয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, এটি সাবেক সরকারের আমলে নেওয়া একটি প্রকল্প, যার বাস্তবায়ন নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

তারা আরও বলেন, যেসব এলাকায় ইতোমধ্যে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়েছে সেখানে ব্যালেন্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। গভীর রাতে, মুমূর্ষু রোগী, নবজাতক কিংবা পরীক্ষার্থীদের জন্য এটি মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হচ্ছে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, রিচার্জ প্রক্রিয়া অস্বচ্ছ এবং প্রতি মাসের প্রথম রিচার্জেই ডিমান্ড চার্জ, মিটার ভাড়া ও ভ্যাটের নামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া অনলাইন রিচার্জ সিস্টেমে ত্রুটি, সার্ভার অচল থাকা, কার্ড পাঞ্চের জটিলতা এবং মিটার লক হয়ে গেলে দ্রুত কারিগরি সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।

বৈঠকে আন্দোলনকারীরা বলেন, সাধারণ মানুষ প্রিপেইড মিটার চায় না। তাই প্রধানমন্ত্রী ও জ্বালানি উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে জনগণের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরতে চান তারা। ওই বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জে নতুন করে কোনো প্রিপেইড মিটার স্থাপন না করার দাবি জানান তারা। অন্যথায় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তার দায় বিদ্যুৎ বিভাগকেই নিতে হবে বলেও সতর্ক করেন।

এ বিষয়ে ডিপিডিসির কর্মকর্তারা বলেন, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত দাবিগুলো তারা শুনেছেন এবং বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবেন।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ৯৮৫৬ টাকা

প্রকাশিত :  ০৬:১৬, ০৬ আগষ্ট ২০২৬

আবারও দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) বৃহস্পতিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। 

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরি প্রতি ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৯ হাজার ৪৪৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ৮ হাজার ১০৬ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের গহনার দাম ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা। 

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী স্বর্ণ ও রৌপ্যের (পিওর গোল্ড ও সিলভার) মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং-এর এক সভায় দাম সমন্বয়ের এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, স্বর্ণ ও রৌপ্যালংকারের বিক্রয় মূল্যের সাথে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের নিকট থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। তবে অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। 

স্বর্ণের পাশাপাশি দেশের বাজারে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার মূল্য ২৯২ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৩৩ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৩৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।