img

মৃদু দরপতনের মধ্যেও কিছু খাতে ক্রয়চাপ, আগামীকাল নজরে থাকতে পারে ব্যাংক, প্রকৌশল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত :  ১৮:০৭, ০৩ আগষ্ট ২০২৬

মৃদু দরপতনের মধ্যেও কিছু খাতে ক্রয়চাপ, আগামীকাল নজরে থাকতে পারে ব্যাংক, প্রকৌশল ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: লেনদেনের শেষ ঘণ্টায় বিক্রির চাপ বাড়ায় সপ্তাহের এ দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক (ডিএসইএক্স) ১০.০৯ পয়েন্ট বা ০.১৭ শতাংশ কমে ৫,৮৮৫.৬৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। তবে সূচকের এই সামান্য পতনের আড়ালে বাজারের খাতভিত্তিক সক্রিয়তা এবং নির্বাচিত শেয়ারে ক্রয়চাপের উপস্থিতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আগামীকালের বাজার নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।

দিনভর ১,২১০ কোটি ৫২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য। এ দিন মোট ১৬৪টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, ঠিক সমান সংখ্যক ১৬৪টির দাম কমেছে এবং ৫৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ সূচক নেতিবাচক থাকলেও বাজারজুড়ে ক্রেতা ও বিক্রেতার শক্তির মধ্যে একধরনের ভারসাম্য ফুটে উঠেছে।

বাজারের খাতভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, টেক্সটাইল, প্রকৌশল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে লেনদেন ও অংশগ্রহণ তুলনামূলক বেশি ছিল। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতেও দরবৃদ্ধিকারী কোম্পানির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য ছিল, যা এই খাতে নতুন করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের ইঙ্গিত দেয়।

বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের সামান্য এই সংশোধনকে বড় ধরনের দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং উচ্চ লেনদেনের পাশাপাশি নির্বাচিত খাতে ক্রয়চাপ অব্যাহত থাকলে আগামী কার্যদিবসে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, টেক্সটাইল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে যেসব মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির শেয়ার সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা সংশোধনের মধ্য দিয়ে গেছে, সেগুলোতে নতুন করে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, কেবল এক দিনের চার্ট দেখে পরবর্তী দিনের বাজারদর সম্পর্কে নিশ্চিত পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ, কোম্পানির মূল্যসংবেদনশীল তথ্য এবং সামগ্রিক বাজারের মনোভাব—এসব বিষয়ও আগামী দিনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সব মিলিয়ে, সূচকের সামান্য পতনের মধ্যেও খাতভিত্তিক সক্রিয়তা এবং এক হাজার ২০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বাজারে তারল্য ও আগ্রহ এখনো বিদ্যমান। তাই আগামীকালের লেনদেনে বিনিয়োগকারীদের মূল দৃষ্টি থাকতে পারে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, প্রকৌশল, টেক্সটাইল ও ওষুধ ও রসায়ন খাতের ওপর। তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি কোম্পানির মৌলভিত্তি, আর্থিক সক্ষমতা এবং ঝুঁকি বিবেচনা করাই হবে বিচক্ষণতার পরিচয়।

img

ম্যানমেড ফাইবার পোশাকে ‘বড় সম্ভাবনা’ বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ০৭:৫৪, ০৩ আগষ্ট ২০২৬

নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পের সক্ষমতা উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক ম্যান-মেড ফাইবার (এমএমএফ) পোশাক বাজারের প্রায় ১২ শতাংশ দখল করতে পারে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে তৈরি পোশাক শিল্পে তুলার ওপর নির্ভরতা কমবে, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ত্বরান্বিত হবে এবং বৈশ্বিক পোশাক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব পোশাকশিল্প দ্রুত তুলাভিত্তিক পণ্য থেকে কৃত্রিম তন্তু বা ম্যান-মেড ফাইবারভিত্তিক পোশাকের দিকে ঝুঁকছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা জোরদারের একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এমএমএফ পোশাক বাজারের আকার প্রায় ৩৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি কৌশলের অংশ হিসেবে এ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

বিএফটিআইয়ের দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলেন, বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তনের সুযোগ হাতছাড়া করার সুযোগ নেই। বৈশ্বিক এমএমএফ বাজারে উল্লেখযোগ্য অংশীদারত্ব নিশ্চিত করতে পারলে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং দেশের পোশাকশিল্পের দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

গবেষণায় বাংলাদেশকে এমএমএফ পোশাক উৎপাদনের একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত করার রোডম্যাপও তুলে ধরা হয়েছে। এতে ধাপে ধাপে নীতিগত সংস্কার, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বিকাশ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এমএমএফ কাঁচামালের শুল্ক কাঠামো যৌক্তিক করা, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) অনুমোদনের প্রক্রিয়া দ্রুত করা, দেশে পলিয়েস্টার স্ট্যাপল ফাইবার ও সিনথেটিক সুতা উৎপাদন সম্প্রসারণ, সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও বাংলাদেশের রপ্তানি এখনো মূলত তুলাভিত্তিক পণ্যের ওপর নির্ভরশীল। অথচ বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা ক্রমেই সিনথেটিক ও মিশ্র তন্তুর পোশাকের দিকে সরে যাচ্ছে। ফলে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য পরিবেশে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এমএমএফ খাতের সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।

ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, শক্তিশালী নীতিগত সহায়তা এবং সমন্বিত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এমএমএফ উৎপাদনে শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে বাংলাদেশ।

প্রতিবেদনে এমএমএফ উৎপাদনকারীদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত ঋণ কর্মসূচি চালু, প্রযুক্তি স্থানান্তরে উৎসাহ দেওয়া এবং অ্যাকটিভওয়্যার, স্পোর্টসওয়্যার ও টেকনিক্যাল টেক্সটাইলের মতো উচ্চমূল্য সংযোজিত পণ্যের উৎপাদন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে দেশের রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য আরও বাড়বে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ড. সাইফ উদ্দিন আহমেদ আশা প্রকাশ করেন, সরকারের প্রণীত রোডম্যাপ সময়মতো বাস্তবায়ন এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে আগামী এক দশকে কৃত্রিম তন্তুর পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক বাজারের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। 

সূত্র: বাসস