img

একাদশে ভর্তিতে বড় পরিবর্তন, থাকছে না মাইগ্রেশন

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

একাদশে ভর্তিতে বড় পরিবর্তন, থাকছে না মাইগ্রেশন

চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা বোর্ডগুলো আগের নিয়মেই ভর্তি নীতিমালা তৈরি করে কার্যক্রম শুরুর অনুমোদন চাইলেও তাতে সম্মতি দেয়নি মন্ত্রণালয়। কয়েকটি বিষয়ে পরিবর্তন এনে নতুন করে ভর্তি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার তিন ধাপের পরিবর্তে এক ধাপেই আবেদন নেওয়া হবে। থাকবে না মাইগ্রেশন বা কলেজ পরিবর্তনের সুযোগ। পাশাপাশি নভেম্বরে নয়, সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষ করে একই মাসের শেষ সপ্তাহে ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

নতুন নিয়মে ভর্তি আবেদন যেভাবে

বিগত বছরগুলোতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা তিন ধাপে অনলাইনে একাদশে ভর্তি জন্য আবেদনের সুযোগ পেতো। তবে এ বছর প্রথম পর্যায়ে একবারই সুযোগ পাবে। যেহেতু আবেদনের সুযোগ একবারই, সেহেতু আগের মতো মাইগ্রেশনের সুযোগও আর থাকছে না।

তবে খাতা চ্যালেঞ্জ বা পুনর্নিরীক্ষায় ফল পরিবর্তন হওয়া শিক্ষার্থীরা আরেকবার সুযোগ পাবে। সেই সঙ্গে কেউ বাদ পড়ে থাকলে বা কোনো কারণে নিশ্চায়ন না করলে বা কলেজ না পেলে সেও আবার আবেদনের সুযোগ পাবে।

ভর্তি শেষ হবে দ্রুত, সেপ্টেম্বরে ক্লাস শুরুর নির্দেশ

বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির প্রাথমিক প্রস্তাবে ১৫ সেপ্টেম্বর ভর্তি আবেদন শুরুর কথা ছিল। তাতে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত ভর্তি এবং ১২ নভেম্বর ক্লাস শুরুর প্রস্তাব ছিল।

কিন্তু বৈঠকে এ প্রস্তাবে সায় দেয়নি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এখন সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ, অর্থাৎ শুরুর দিকেই অনলাইন আবেদন শুরু হবে। আর একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে। যারা পুনর্নিরীক্ষার পর আবার আবেদন করে কলেজ পরিবর্তন করবে, তাদের ক্লাস আগামী ১ অক্টোবরের মধ্যেই শুরু হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, একাদশ শ্রেণির ভর্তি নীতিমালা নিয়ে কাজ চলছে। আশা করছি, আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে এটি চূড়ান্ত হবে। এরপর তা নীতিমালা আকারে জারি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

নীতিমালায় পরিবর্তনের কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ডিসিপ্লিন ফিরিয়ে আনা খুবই জরুরি। এজন্য ভর্তি কার্যক্রম ও ক্লাস এগিয়ে আনার ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। সেগুলো মাথায় রেখে আমরা নীতিমালা করছি। প্রস্তাব আকারে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এসব ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রণালয়।

জানা যায়, অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা ১ জুলাই থেকে। কিন্তু গত কয়েক বছর নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। গত বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয় ওই বছরের ১০ জুলাই। ভর্তিপ্রক্রিয়া শেষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয় ১৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এ বছর এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছে ১০ আগস্ট। এরপরও যে কোনোভাবে গত বছরের কাছাকাছি সময়ে ক্লাস শুরু করতে চায় মন্ত্রণালয়।


img

জিপিএ-৫ পেয়েও অনিশ্চিত রেশমির চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন

প্রকাশিত :  ০৯:১৫, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: অভাব-অনটন আর দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই পড়াশোনা করেছে রেশমি আক্তার সুমাইয়া। সীমাহীন কষ্টের মধ্যেও থেমে থাকেনি তার পথচলা। এবার এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে সেই অধ্যবসায়ের স্বীকৃতিও পেয়েছে সে। কিন্তু সাফল্যের পরই নতুন দুশ্চিন্তা সামনে এসেছে—অর্থের অভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে তো রেশমি?

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের জালালিয়া (কলেজের পাশে) গ্রামের দিনমজুর কাওসার আহমেদ ও রোশনা আক্তারের তৃতীয় সন্তান রেশমি। চলতি বছর কমলগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ-৫ অর্জন করেছে সে। বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া মাত্র দুজন শিক্ষার্থীর একজন রেশমি।

রেশমির স্বপ্ন, বড় হয়ে চিকিৎসক হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবারের আর্থিক সংকট। কলেজে ভর্তি, বইপত্র কেনা, যাতায়াতসহ নিয়মিত পড়াশোনার খরচ কীভাবে জোগাড় হবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।

রেশমির বাবা কাওসার আহমেদ দিনমজুরি করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান। সংসারের নিত্যদিনের খরচ সামলাতেই তাঁকে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে মেয়ের উচ্চশিক্ষার ব্যয় বহন করা তাঁর একার পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

শুধু অর্থের সংকট নয়, রেশমিদের বসতঘরটির অবস্থাও জরাজীর্ণ। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি পড়ে। এমন প্রতিকূল পরিবেশেই পড়াশোনা করে এসএসসিতে সাফল্য পেয়েছে রেশমি।

পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে রেশমির বড় বোন উর্মি আক্তার পিনকি, যিনি কমলগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে পড়েছেন, এবং মেজো বোন প্রমি আক্তারের, যিনি আব্দুল গফুর মহিলা কলেজে পড়েছেন, পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে যায়। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই রেশমির ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন পরিবার।

রেশমির বাবা কাওসার আহমেদ বলেন, “আমার মেয়েটি অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছে। আমি চাই সে আরও লেখাপড়া করে একজন ডাক্তার হোক। কিন্তু আমার একার পক্ষে সব খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।”

রেশমির এই সাফল্য শুধু তার পরিবারের নয়, কমলগঞ্জের জন্যও গর্বের। সীমিত সামর্থ্যের একটি পরিবার থেকে উঠে এসে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করা এই শিক্ষার্থীকে এখন উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়া গেলে তার মেধার বিকাশ ঘটতে পারে। অর্থের অভাবে যদি তার পড়াশোনা থেমে যায়, তাহলে তা হবে মেধার অপচয়।

এ অবস্থায় রেশমির চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সমাজের বিত্তবান, প্রবাসী ও হৃদয়বান মানুষদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোও কি এমন মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়াতে পারে না—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে। শিক্ষা-সহায়তা, বৃত্তি কিংবা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে রেশমির পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব হলে তার স্বপ্নের পথ অনেকটাই সহজ হতে পারে।

রেশমির মতো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে শুধু দারিদ্র্যের কারণে থেমে যেতে না দিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর এখনই সময়। সামান্য সহযোগিতাই হয়তো তাকে একদিন চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে দেবে।


শিক্ষা এর আরও খবর