img

তিন শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে লন্ডনের ফেয়ারলপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকের বর্ণাঢ্য পিকনিক অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ০৫:৫৬, ২১ আগষ্ট ২০২৬

তিন শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে লন্ডনের ফেয়ারলপে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকের বর্ণাঢ্য পিকনিক অনুষ্ঠিত

লন্ডনের ফেয়ারলপ ওয়াটার্স অ্যান্ড লেক পার্কে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কমিউনিটি ইউকের উদ্যোগে গত রবিবার ৯ই আগস্ট দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পিকনিক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় তিন শতাদিক ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী ও তাঁদের পরিবারের সদস্য এতে অংশ নেন।

শিশু-কিশোর, যুবক, নারী ও প্রবীণদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে আয়োজনটি প্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়। খেলাধুলা, গল্প-আড্ডা, আপ্যায়ন, পারিবারিক বিনোদন ও র‍্যাফেল ড্রসহ নানা কার্যক্রমে দিনটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

সংগঠনের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহিম মোল্লার পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ইয়াছিন আহমেদ।

বক্তব্যে তিনি সংগঠনের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর মধ্যে যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংগঠনের উপদেষ্টা নসরুল্লাহ খান জুনায়েদ ও ওমর ফারুক শাহজাদা এবং সিনিয়র সহসভাপতি ইব্রাহিম মিয়া। 

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের বিভিন্ন পর্ব সঞ্চালনা করেন সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মারুফ আলম ও যুগ্ম সম্পাদক সলিসিটর সাজ্জাদ হোসাইন। তাঁদের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের কার্যক্রম সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়।

পিকনিকের প্রস্তুতি, নিবন্ধন, অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং খেলাধুলার ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল ভুঁইয়া। দিনব্যাপী কার্যক্রম সফল, সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের উপদেষ্টা ড. সামিরুজ্জামান সামির ও কবির হোসাইন, সহসভাপতি নুরুল আমিন সজল, মাসুদুর রহমান, জসিম আহমেদ, মিজান খান ও জহিরুল হক, মনিরুল ইসলাম টিটু, ক্রীড়া সংগঠক বাপ্পী বণিক, মাহবুবুর রহমান, মোহাম্মদ তারেক, ইকবাল হোসাইন, রাব্বি ইসলাম, সুমন হাসান, অলি উল্লাহ , সাব্বির হোসাইন , মোহাম্মদ হালিম, শরিফ আব্বাসী ও মোহাম্মদ মিয়া এবং সাংবাদিক মাসুদুজ্জামানসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সংগঠনের ৯ থানার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাশাপাশি শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন।

পিকনিকের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল শিশু, নারী-পুরুষ, যুবক ও প্রবীণদের জন্য আয়োজিত বিভিন্ন খেলাধুলা ও আনন্দদায়ক প্রতিযোগিতা। শিশুদের জন্য দৌড়সহ বিভিন্ন খেলার আয়োজন করা হয়। ছোটদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, হাসি ও উচ্ছ্বাস পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

নারীদের মার্বেল দৌড় ও বালিশ খেলা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। 

খেলাধুলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় করেন মারুফ আলম, জামিল ভুঁইয়া ও সলিসিটর সাজ্জাদ হোসাইন। নারীদের খেলাধুলাসহ পিকনিকের বিভিন্ন আয়োজনে সহযোগিতা করেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা ফারজানা আফরোজা। 

খেলাধুলা ও প্রতিযোগিতা শেষে অতিথিরা সন্তানদের নিয়ে ফেয়ারলপ পার্কের বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম উপভোগ করেন। অনেকে প্যাডেল বোটে লেক ভ্রমণ, সাঁতার, সাইকেল চালানো এবং পার্কের ট্রেনে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ নেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পার্কটির মনোরম পরিবেশ ও লেকের অপরূপ দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করে।

পিকনিকে আগত প্রায় ৩০০ অতিথি ও অংশগ্রহণকারীর জন্য দিনব্যাপী তিন দফায় খাবার ও পানীয় পরিবেশন করা হয়। 

আপ্যায়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ওমর ফারুক শাহজাদা, সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ বশির, সহযুগ্ম সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন এবং শাহাদাত মোমিন। তাঁদের প্রচেষ্টা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় খাবার ও পাুনীয় পরিবেশনের কার্যক্রম সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়।

আয়োজকেরা বলেন, প্রবাসে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর মধ্যে পারস্পরিক পরিচয়, সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 -সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

জিসিএসই পরীক্ষায়ও টাওয়ার হ্যামলেটসের শিক্ষার্থীদের সাফল্য অব্যাহত

প্রকাশিত :  ২০:২৭, ২১ আগষ্ট ২০২৬

এ লেভেল পরীক্ষার পর জিসিএসই পরীক্ষায়ও অসাধারন ফলাফল বয়ে এনেছে টাওয়ার হ্যামলেটস বারার শিক্ষার্থীরা। তারা সার্বিকভাবে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফলাফল অর্জন করেছেন। ২০ অগাস্ট, বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণার পর স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দ উচ্ছ্বাস দেখা গেছে ।

শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যে শুভেচ্ছা জানাতে এবং তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে সোয়ানলি সেকেন্ডারী স্কুলে উপস্থিত ছিলেন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কেবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস, কাউন্সিলার ফয়সাল আহমেদ।

টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান “জিসিএসই-তে অসামান্য ফলাফল অর্জনকারী সকল শিক্ষার্থীকে আন্তরিক অভিনন্দন\" জানিয়ে বলেন, \"আমি জানি, এই অর্জনের পেছনে শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি তাদের পরিবার, শিক্ষক এবং স্কুলের স্টাফদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।\"

মেয়র আরো বলেন, \" জিসিএসই-পরবর্তী জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের সামনে বহু সুযোগ অপেক্ষা করছে। শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে যে পথই বেছে নিক না কেন, আমি তাদের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করছি। তাদের লক্ষ্য অর্জনের পথে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থনে সবসময়ই পাশে থাকবে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল।”

কেবিনেট মেম্বার ফর চিলড্রেন, ইয়াং পিপল এন্ড লাইফ চান্সেস, কাউন্সিলার ফয়সাল আহমেদ বলেন, “আমাদের তরুণদের মেধা ও কঠোর অধ্যবসায় উদযাপনের দিন আজ। ফলাফলপ্রাপ্ত প্রত্যেককে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমরা চাই প্রতিটি তরুণ-তরুণী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ গ্রহন করুক। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল শিক্ষা ও কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে শিশু ও তরুণদের জন্য সর্বোত্তম সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

সোয়ানলি স্কুলের এক্সিকিউটিভ হেড টিচার কবির মিয়া তাঁর স্কুলের সাফল্যে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা এ বছর স্কুলের ইতিহাসে সেরা রেজল্ট বয়ে এনেছে। আমাদের ৪০ শতাংশেরও বেশি শিক্ষার্থী ৭ থেকে ৯ গ্রেড অর্জন করেছে, যা পূর্বের এ গ্রেডের সমতুল্য উচ্চ মানের ফলাফল। এছাড়া ৬৮ শতাংশ শিক্ষার্থী স্ট্রং পাস (গ্রেড ৫ বা তার বেশি) এবং ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থী সিকিউর পাস (গ্রেড ৪ বা তার বেশি) অর্জন করেছে।

“স্কুলের টিচার্স ও স্টাফদের কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অভিভাবকসুলভ সাপোর্ট স্টাফদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।

হেডটিচার আরো বলেন, “আজ স্কুলের জন্য বছরের সবচেয়ে সেরা দিন, আমরা শিক্ষার্থীদের পরিবার-পরিজনের সঙ্গে এই অসাধারণ সাফল্য উদযাপন করতে পেরেছি। টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি কমিউনিটি স্কুল হিসেবে তাদের এই যাত্রার অংশ হতে পেরে আমরা গর্বিত।”

উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল তরুণদের শিক্ষা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এটি দেশের একমাত্র কাউন্সিল, যেখানে এডুকেশন মেইনটেন্যান্স অ্যালাউন্স পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং অল্পসংখ্যক কাউন্সিলের মধ্যে একটি, যেখানে ইউনিভার্সিটি ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য অনুদান অব্যাহত রয়েছে। কর্মসূচিটি পুনরায় চালুর পর থেকে কাউন্সিল ১ দশমিক ৯ মিলিয়ন পাউন্ড অনুদান বিতরণ করেছে এবং চলমান অর্থায়ন পর্বে আরও ২ মিলিয়ন পাউন্ড বিতরণ করা হবে।

এছাড়া, টাওয়ার হ্যামলেটস ছিল দেশের প্রথম লোকাল অথরিটি, যেখানে সকল প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য সার্বজনীন বিনামূল্যের স্কুল মিল চালু করে। একই সঙ্গে, এ বছরের সেপ্টেম্বর থেকে স্কুলে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নতুন স্কুল ইউনিফর্ম অনুদান কর্মসূচি পরিচালনা করছে।

কাউন্সিলের ইয়ুথ সার্ভিস, ইয়াং টাওয়ার হ্যামলেটস স্কুল-সময়ের বাইরে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক, মানসিক ও শারীরিক দক্ষতা বিকাশের বিভিন্ন কার্যক্রম ও সুযোগ প্রদান করে।

যেসব শিক্ষার্থী ফলাফল পাওয়ার পরও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে অনিশ্চিত, তারা এই সেবার মাধ্যমে সরাসরি, টেলিফোনে অথবা ভিডিও কলে ক্যারিয়ার পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে। বিস্তারিত তথ্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর