প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা থেকে মন্ত্রিসভায় হুমায়ুন কবির
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো হুমায়ুন কবির এবার সরাসরি মন্ত্রিসভায় যুক্ত হয়েছেন। টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এই বিএনপি নেতাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ান। এর আগে একই স্থানে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল। তাকে শপথ পড়ান জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারে যোগ দেওয়ার পর হুমায়ুন কবির প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাকে সক্রিয় দেখা গেছে।
বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক নেতা
হুমায়ুন কবির ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক-বিষয়ক) হন। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের পররাষ্ট্রবিষয়ক ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবেও তিনি পরিচিত। বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন তিনি।
রাজনীতিতে তার আগ্রহের কেন্দ্র ছিল নিজ এলাকা সিলেট-২ আসন। বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। তবে বিএনপি ওই আসনে গুমের শিকার নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে দলীয় মনোনয়ন দেয়। নির্বাচনে তিনি জয়ী হন। এরপর হুমায়ুন কবির জাতীয় রাজনীতি ও কূটনীতিসংশ্লিষ্ট দায়িত্বে আরও সক্রিয় হন।
ব্রিটেনে শৈশব ও শিক্ষাদীক্ষা
হুমায়ুন কবিরের জন্ম সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নের হাবশপুর গ্রামে। শৈশবেই তিনি যুক্তরাজ্যে প্রবাসী হন। সেখানে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেন।
তিন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি
যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন হুমায়ুন কবির। পরে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ এবং লিডস ল স্কুল থেকে তিন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
ব্রিটিশ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন
কর্মজীবনের শুরুতে হুমায়ুন কবির লন্ডনের মেয়রের কার্যালয়ে কৌশল সহকারী হিসেবে কাজ করেন। পরে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যুক্তরাজ্য সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও তিনি কাজ করেছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি টিমে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে যুক্তরাজ্যের ন্যায় মন্ত্রণালয়ে একাধিক ক্যাবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মন্ত্রিসভায় চতুর্থ টেকনোক্র্যাট সদস্য
হুমায়ুন কবিরের মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সংখ্যা বাড়লো। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় সংসদ সদস্য নন, এমন দুই পূর্ণমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ রয়েছেন। এবার তাদের সঙ্গে টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হলেন হুমায়ুন কবির।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে তিনটি মন্ত্রণালয়বিষয়ক দায়িত্ব পালনের পর এবার সরকারের মন্ত্রিসভার অংশ হলেন তিনি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে শিক্ষাজীবন, ব্রিটিশ প্রশাসনে কাজের অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন দায়িত্ব পালন করবেন হুমায়ুন কবির।



















