img

নুসরাত হত্যা: হাইকোর্টের রায়ে অসঙ্গতি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির

প্রকাশিত :  ১০:১৩, ২৪ আগষ্ট ২০২৬

নুসরাত হত্যা: হাইকোর্টের রায়ে অসঙ্গতি দেখছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

\r\n

হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে রায়ের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান শিশির মনির।

শিশির মনির বলেন, মামলায় কে কাকে কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে আদালতের রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বিষয় উঠে এসেছে। তবে নুসরাতকে কীভাবে তিনতলার ওপর সাইক্লোন শেল্টারের মতো স্থানে আগুন দেওয়া হলো এবং আশপাশের কেউ কোনো শব্দ শুনল না—এ বিষয়ে রহস্য রয়ে গেছে।

তিনি বলেন, একা একা আগুন লেগে গেল, আশপাশের কেউ জানল না, কেউ শব্দ পেল না—এই অংশের রহস্য থেকেই গেল। ফলে আমরা এর বিরুদ্ধে আপিল করব। আশা করি, আপিল বিভাগে গিয়ে এই রহস্যের উন্মোচন হবে।

আসামিপক্ষের এ আইনজীবী বলেন, নুসরাত মৃত্যুকালীন জবানবন্দি দিয়েছিলেন এবং সেই জবানবন্দির অডিও ও ভিডিও রয়েছে। হাইকোর্টে ওই অডিও-ভিডিও দেখানোর জন্য আমি আবেদন করেছিলাম।

মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নুসরাত বোরকা পরা চার নারী বা মেয়ের কথা বলেছিলেন উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, আজকে দেখবেন, সাজা হয়েছে জুবায়ের সাইফুর রহমানের, তিনি পুরুষ। সাজা হয়েছে শাহজাদা হোসেন শামীমের, তিনিও পুরুষ। কিন্তু মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে নুসরাত চারজন মেয়ের কথা বলেছিলেন। চারজনের মধ্যে একজন নারী পপি সাজা পেয়েছেন, বাকি তিনজন পুরুষ হয়ে গেলেন কীভাবে—এই রহস্য আমরা আশা করি আপিল বিভাগে উন্মোচিত হবে।

বোরকা কেনার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আসামিপক্ষের এই আইনজীবী। তিনি বলেন, বোরকা কেনার দায়িত্বে থাকার অভিযোগে কামরুন নাহার মনি আসামি ছিলেন। কিন্তু আদালত তাকে খালাস দিয়েছেন। বোরকা বিক্রেতাদের সাক্ষী করা হলেও তারা কামরুন নাহার মনিকে চিনতেন না বলে আদালতে জানিয়েছেন।

শিশির মনিরের ভাষ্য, যদি কামরুন নাহার মনিকে খালাস দেওয়া হয় এবং বোরকা বিক্রেতারা তাকে না চিনে থাকেন, তাহলে বোরকা এলো কোথা থেকে? কামরুন নাহার মনি ছাড়া আর কেউ বোরকা নিয়ে আসেনি বলে মামলায় বলা হয়েছে। তাহলে সেই বোরকার অস্তিত্ব কীভাবে এলো—এই রহস্যগুলো আমরা আশা করি পরবর্তী আদালতে উন্মোচিত হবে।

কোনো ফৌজদারি মামলায় অতিমাত্রায় মিডিয়া ট্রায়াল হলে অনেক সময় নিম্ন আদালতের বিচারকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে দাবি করেন এ আইনজীবী। তিনি বলেন, বিচারের আগেই অনেক সময় টেলিভিশনে বিচার হয়ে যায়, বিচারের আগেই পাবলিক ডোমেনে বিচার হয়ে যায়। এগুলো হলে প্রকৃত অর্থে ন্যায়বিচার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিশির মনির বলেন, নুসরাত হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। কিন্তু হাইকোর্টে এসে ১০ জন খালাস পেয়েছেন এবং বাকি ছয়জনের মধ্যে মাত্র দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। এ বিষয়টিও নিম্ন আদালতের রায়ের যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।

আসামিপক্ষের এ আইনজীবী জানান, তারা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যাবেন এবং সেখানে মামলার বিভিন্ন অসংগতি ও নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দির বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

মিড-ডে মিলে খাবারের মান নিয়ে কোনো আপস নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৫২, ২৪ আগষ্ট ২০২৬

বিদ্যালয় পর্যায়ের মিড-ডে মিল কর্মসূচিতে খাবারের মান ও পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা খাবার অবশ্যই পুষ্টিকর, নিরাপদ ও মানসম্মত হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা যাবে না। একই সঙ্গে খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের ব্যবস্থাপনাও যথাযথভাবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। 

আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের বৈঠককালে এ নির্দেশনা দেন তিনি।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের চলমান কার্যক্রম, এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে ঝরে পড়া রোধে ট্রাস্টের ভূমিকা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করা হয়।

একইসঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে মেয়েদের জন্য চালু হওয়া সার্বজনীন উপবৃত্তি কর্মসূচির প্রভাব ও অর্জন নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় মেয়েদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি ও শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং বাল্যবিবাহ নিরুৎসাহিত করার ক্ষেত্রে সার্বজনীন উপবৃত্তির ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়গুলো উঠে আসে।

এ প্রেক্ষাপটে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা পর্যালোচনার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে সম্ভাব্য ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং প্রত্যাশিত সামাজিক ও শিক্ষাগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

একইসঙ্গে ছেলেদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে উপবৃত্তি দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিকেও শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। মিড-ডে মিল কার্যক্রম বাস্তবায়নে ব্যয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, স্থানীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ এবং খাবারের মান নিয়ন্ত্রণের বিষয় বিবেচনায় রেখে দুটি বিকল্প পদ্ধতি নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। উভয় পদ্ধতির কার্যকারিতা, বাস্তবায়নযোগ্যতা ও সম্ভাব্য ফলাফল যাচাই করার লক্ষ্যে পৃথক দুটি জেলায় প্রতিটি পদ্ধতির পাইলট প্রকল্প চালুর নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মাহদী আমিন, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জাতীয় এর আরও খবর