যুক্তরাজ্য আওয়ামী যুবলীগ সাউদাম্পটন শাখার উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট নিহত তার পরিবারের সদস্যদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বক্তারা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাও উঠে আসে। বক্তারা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে সংঘটিত ওই হামলার নিন্দা জানান এবং নিহত ও আহতদের স্মরণ করেন।
বক্তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐক্যকে সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানানো হয়।
আরও বলা হয়,প্রবাসে বসবাস করলেও দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মকে সম্পৃক্ত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাউদাম্পটন যুবলীগ ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ইতিহাস ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
সাউদাম্পটন আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি জাহিদ ইসলাম এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দিলুয়ার হোসেন সুমন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো: হাসান আহমদ এর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ-সভাপতি জুনেদ আহমেদ, কমিউনিটি নেতা আব্দুল খালিক ময়না মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাসেল আহমেদ, সাউথাম্পটন যুবলীগ নেত্রী শেখ উম্মা সিনহা, সাউথাম্পটন আওয়ামী যুবলীগ নেতা নাঈম খান, আজিজ, আলম হোসাইন, পেয়ার চৌধুরী, মাহ্দীন প্রমুখ।
ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
টাওয়ার হ্যামলেটসে ২০৩টি নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ, এক সপ্তাহে পাঁচটি প্লানিং এপ্লিকেশন
প্রকাশিত :
০৭:৫০, ২৭ আগষ্ট ২০২৬
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর আওতায় এক সপ্তাহে পাঁচটি নতুন পরিকল্পনা আবেদন (প্লানিং এপ্লিকেশন) জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আবেদনের মাধ্যমে বরোতে মোট ২০৩টি নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৬টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি, যা এই সপ্তাহে জমা দেওয়া মোট আবাসনের ৭২ শতাংশ।
টেন্ট স্ট্রিট, গিল স্ট্রিট এবং ব্যাক চার্চ লেনের প্রস্তাবিত সব বাড়িই সোশ্যাল রেন্টের জন্য নির্ধারিত হবে।
মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ির পরিকল্পনা
এই পাঁচটি আবেদনের আগে মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রামের আওতায় আরও তিনটি পরিকল্পনা আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে:
- টমলিনসন ক্লোজ: ৫৫টি বাড়ি, যার মধ্যে ৩৩টি সোশ্যাল রেন্ট
- বেথনাল গ্রিন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার: ৪৪টি বাড়ি, যার মধ্যে ২৪টি সোশ্যাল রেন্ট
- স্ট্রাউটস প্লেস: ৫টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি
এর ফলে এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় আটটি পরিকল্পনা আবেদন জমা পড়েছে, যার মাধ্যমে মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
৩,৪০০টি বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য
মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩,৪০০টি পর্যন্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। এর অন্তত ৫১ শতাংশ হবে সাশ্রয়ী আবাসন।
কর্মসূচিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কাউন্সিলের মালিকানাধীন বর্তমানে কম ব্যবহার হওয়া জমি ও জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বারার আবাসন সংকট মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত, টেকসই ও সুপরিকল্পিত আবাসন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে বসবাস করা বা অনুপযুক্ত আবাসনে থাকা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বড় আকারের পারিবারিক বাড়ি তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিটি আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরির আগে কাউন্সিলের কর্মকর্তা, ডিজাইন ও কারিগরি টিমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অগ্রাধিকার, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামত প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিতে বিবেচনা করা হয়েছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এক সপ্তাহে পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন জমা দেওয়া টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জন্য সত্যিকার অর্থে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার আমাদের অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে ২০৩টি নতুন বাড়ি তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে ১৪৬টি হবে সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি। এর আগে জমা দেওয়া তিনটি আবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে এখন আমরা আটটি সাইটে মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ির পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছি।”
মেয়র বলেন, “আমরা জানি, আমাদের বারাতে আবাসনের চ্যালেঞ্জ কতটা বড়। বিশেষ করে অনেক পরিবার অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে বা অনুপযুক্ত আবাসনে বসবাস করছে। আমরা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছি, একই সঙ্গে বাসিন্দাদের মতামত শুনছি এবং আমাদের কমিউনিটির জন্য উচ্চমানের আবাসন উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”
প্রথম ধাপের নয়টি সাইটের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু
এই পরিকল্পনা অগ্রগতির পাশাপাশি কাউন্সিল কর্মসূচির প্রথম ধাপের নয়টি সাইটের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
গত ১৯ আগস্ট সম্ভাব্য উন্নয়ন অংশীদারদের আগ্রহ প্রকাশের জন্য প্রি-সিলেকশন প্রশ্নপত্রের নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সাইটে প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য অংশীদারদের কাছ থেকে আগ্রহ আহ্বান করা হয়েছে।
প্রোকিউরমেন্ট সংক্রান্ত আরও তথ্য ও নথি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের প্রোকনট্রাক্ট প্রোকিউরমেন্ট পোর্টাল-এ পাওয়া যাচ্ছে।
এখন জমা দেওয়া পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন পরবর্তী আইনানুগ প্লানিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার আরও সুযোগ পাবেন।
নতুন এই আবাসন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে টাওয়ার হ্যামলেটসে বিশেষ করে সোশ্যাল রেন্টের বাড়ির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং কাউন্সিলের মালিকানাধীন অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত জায়গাগুলোকে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করবে।