img

বৃটেনের কার্ডিফে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

প্রকাশিত :  ০৭:৪৭, ২৭ আগষ্ট ২০২৬

বৃটেনের কার্ডিফে বঙ্গবন্ধুর ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ওয়েলস শাখার উদ্যোগে শোকার্ত হৃদয়ের স্রদ্ধা জানিয়ে ভাবগাম্ভীর্যের সাথে যথাযোগ্য মর্যাদায় আওয়ামী লীগকে ঘুরে দাঁড়ানোর দীপ্ত শপথ নিয়ে কার্ডিফ বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার সেন্টারে ২৫ আগষ্ট স্থানীয় সময় ১২টায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদাতবার্ষিকী জাতীয় শোক দিবস পালন করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ওয়েলস আওয়ামীলীগের সভাপতি সাবেক ছাত্রনেতা মোহাম্মদ মকিস মনসুর এর সভাপতিত্বে এবং ওয়েলস আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন ছাত্রনেতা এম.এ.মালিক এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় গোলাম মর্তুজা, শেখ মোহাম্মদ আনোয়ার, আবুল কালাম মুমিন, আনোয়ার আলী, ডা:মো ইরফান উদ্দিন, আব্দুর রুউফ, জহির আলী, জুয়েল মিয়া, সাজেল আহমেদ, ইমরান মিয়া,সোয়ানুর রহমান, ইফতেখার আহমেদ,সুমন রহমান,  বাবুল ইসলাম, আমিনুর রহমান চৌধুরী, কবির উদ্দিন, সেবুল আলী, শাহেদ মিয়া, কামরুল ইসলাম সহ কার্ডিফ, নিউপোর্ট, সোয়ানসি ও পটলবাট থেকে আগত নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

আলোচনা সভার শুরুতে মহান ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬২, ৬৪ এর ৬ দফা, এগারো দফা, শিক্ষা আন্দোলন ও স্বাধিকার আন্দোলন, ৬৯ এর গনঅভ্যুত্থান, আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা, ৭১এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৫ই আগষ্ট, ২১শে আগষ্ট, ৩রা নভেম্বরের নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড এবং স্বৈরাচার বিরোধী সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আত্মত্যাগী বীর এবং সম্ভ্রমহারা ২ লক্ষাধীক মা-বোনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দাড়িয়ে ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ওয়েলস আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং ওয়েলস ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন সত্য চিরন্তন সত্য সত্যকে কখনো ও মিথ্যা দিয়ে ঢেকে রাখা যায় না, আওয়ামীলীগ বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ এবং  বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন, বাঙালি জাতি যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন মানুষের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চীর অম্লান হয়ে থাকবেন বলে বক্তারা অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। 

ওয়েলস আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম.এ.মালিক সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বলেন,মাতৃভূমির সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন বলে উল্লেখ করে বক্তারা দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য, জাতীয় বীর ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারকসমূহের ওপর যেসব হামলা হচ্ছে এর প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বলেন, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। আজ শকুনের খামচিতে চিহ্ন ভিন্ন হয়ে যাচ্ছে! আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ। কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না, এই ঘটনা জাতি কখনো ভুলে যাবে না। যা ঘটছে তা মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে ধ্বংসের শামিল। বঙ্গবন্ধুকে ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা যারা করেন, তারা কেন বুঝতে চান না যে ইতিহাস কখনও মোছা যায় না। ইতিহাস তৈরির কারিগরদের নিজের প্রয়োজনেই ইতিহাস তার বুকে আগলে রাখে। বঙ্গবন্ধু এমনই এক ইতিহাস, বাঙালির অস্থিমজ্জায় যিনি মিশে আছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে ২০৩টি নতুন বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ, এক সপ্তাহে পাঁচটি প্লানিং এপ্লিকেশন

প্রকাশিত :  ০৭:৫০, ২৭ আগষ্ট ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রাম-এর আওতায় এক সপ্তাহে পাঁচটি নতুন পরিকল্পনা আবেদন (প্লানিং এপ্লিকেশন) জমা দেওয়া হয়েছে। এসব আবেদনের মাধ্যমে বরোতে মোট ২০৩টি নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৪৬টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি, যা এই সপ্তাহে জমা দেওয়া মোট আবাসনের ৭২ শতাংশ।

নতুন পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন হলো:

- টেন্ট স্ট্রিট, বেথনাল গ্রিন: ৬০টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি,

- গিল স্ট্রিট, লাইমহাউস: ১১টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি,

- দ্য ওভাল, বেথনাল গ্রিন: ২৩টি মার্কেট হোম,

- সাউদার্ন গ্রোভ, মাইল এন্ড: ৯০টি বাড়ি, যার মধ্যে ৫৬টি সোশ্যাল রেন্ট,

- ব্যাক চার্চ লেন, হোয়াইটচ্যাপেল: ১৯টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি।

টেন্ট স্ট্রিট, গিল স্ট্রিট এবং ব্যাক চার্চ লেনের প্রস্তাবিত সব বাড়িই সোশ্যাল রেন্টের জন্য নির্ধারিত হবে।

মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ির পরিকল্পনা

এই পাঁচটি আবেদনের আগে মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রামের আওতায় আরও তিনটি পরিকল্পনা আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে:

- টমলিনসন ক্লোজ: ৫৫টি বাড়ি, যার মধ্যে ৩৩টি সোশ্যাল রেন্ট

- বেথনাল গ্রিন প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার: ৪৪টি বাড়ি, যার মধ্যে ২৪টি সোশ্যাল রেন্ট

- স্ট্রাউটস প্লেস: ৫টি সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি

এর ফলে এখন পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় আটটি পরিকল্পনা আবেদন জমা পড়েছে, যার মাধ্যমে মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

৩,৪০০টি বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য

মেয়রের অ্যাক্সেলারেটেড হাউজিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসে ৩,৪০০টি পর্যন্ত নতুন বাড়ি নির্মাণের লক্ষ্য রয়েছে। এর অন্তত ৫১ শতাংশ হবে সাশ্রয়ী আবাসন।

কর্মসূচিটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো কাউন্সিলের মালিকানাধীন বর্তমানে কম ব্যবহার হওয়া জমি ও জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়ে বারার আবাসন সংকট মোকাবিলা করা। একই সঙ্গে প্রতিটি এলাকার প্রয়োজন অনুযায়ী মানসম্মত, টেকসই ও সুপরিকল্পিত আবাসন তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে বসবাস করা বা অনুপযুক্ত আবাসনে থাকা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বড় আকারের পারিবারিক বাড়ি তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি আবাসন প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরির আগে কাউন্সিলের কর্মকর্তা, ডিজাইন ও কারিগরি টিমের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় কমিউনিটি এনগেজমেন্টের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের অগ্রাধিকার, উদ্বেগ ও প্রত্যাশা সম্পর্কে মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব মতামত প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরিতে বিবেচনা করা হয়েছে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এক সপ্তাহে পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন জমা দেওয়া টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের জন্য সত্যিকার অর্থে সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার আমাদের অঙ্গীকারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে ২০৩টি নতুন বাড়ি তৈরি হতে পারে, যার মধ্যে ১৪৬টি হবে সোশ্যাল রেন্টের বাড়ি। এর আগে জমা দেওয়া তিনটি আবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে এখন আমরা আটটি সাইটে মোট ৩০৭টি নতুন বাড়ির পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়েছি।”

মেয়র বলেন, “আমরা জানি, আমাদের বারাতে আবাসনের চ্যালেঞ্জ কতটা বড়। বিশেষ করে অনেক পরিবার অতিরিক্ত মানুষ নিয়ে বা অনুপযুক্ত আবাসনে বসবাস করছে। আমরা উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও দ্রুততার সঙ্গে কাজ করছি, একই সঙ্গে বাসিন্দাদের মতামত শুনছি এবং আমাদের কমিউনিটির জন্য উচ্চমানের আবাসন উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।”

প্রথম ধাপের নয়টি সাইটের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু

এই পরিকল্পনা অগ্রগতির পাশাপাশি কাউন্সিল কর্মসূচির প্রথম ধাপের নয়টি সাইটের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোকিউরমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

গত ১৯ আগস্ট সম্ভাব্য উন্নয়ন অংশীদারদের আগ্রহ প্রকাশের জন্য প্রি-সিলেকশন প্রশ্নপত্রের নথি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব সাইটে প্রস্তাবিত আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য অংশীদারদের কাছ থেকে আগ্রহ আহ্বান করা হয়েছে।

প্রোকিউরমেন্ট সংক্রান্ত আরও তথ্য ও নথি টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের প্রোকনট্রাক্ট প্রোকিউরমেন্ট পোর্টাল-এ পাওয়া যাচ্ছে।

এখন জমা দেওয়া পাঁচটি পরিকল্পনা আবেদন পরবর্তী আইনানুগ প্লানিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বিস্তারিত পরিকল্পনা সম্পর্কে মতামত দেওয়ার আরও সুযোগ পাবেন।

নতুন এই আবাসন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে টাওয়ার হ্যামলেটসে বিশেষ করে সোশ্যাল রেন্টের বাড়ির চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং কাউন্সিলের মালিকানাধীন অব্যবহৃত বা কম ব্যবহৃত জায়গাগুলোকে স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করবে।

কমিউনিটি এর আরও খবর