img

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৪৮, ২৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪১, ২৯ আগষ্ট ২০২৬

অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট, তথ্যদাতাকে ২ লাখ টাকা পুরস্কার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করতে বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এসব অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করে এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুট হওয়া টিয়ার গ্যাসের শেল ও অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতাকারীদের ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়া হবে।

তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিল করা অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দেওয়া হলে সেগুলোকে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। এ ধরনের অস্ত্রের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং সেগুলো উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অপরাধ দমনে পুলিশের জবাবদিহির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কর্মকর্তা প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, সারা দেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি রোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর এলাকার পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

ইউপি নির্বাচনে থাকবে না দলীয় প্রতীক: শামা ওবায়েদ

প্রকাশিত :  ০৬:২৪, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তার মতে, প্রতীক না থাকলে দলীয় পরিচয়ের বদলে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা, সততা, যোগ্যতা ও ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্কই নির্বাচনে বেশি গুরুত্ব পাবে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থীদের নিজস্ব গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ তৈরি হবে।

শনিবার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসবকথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সালথা ও নগরকান্দা এলাকায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা ও সংঘাতের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে জানিয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। কোনো পক্ষ যাতে সংঘাত সৃষ্টি করে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে না পারে, সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সালথা-নগরকান্দায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা রোধে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোনো ঘটনা বা বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলে তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি গুজব ও উসকানিমূলক প্রচারণা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। আইন নিজের হাতে না তুলে নিয়ে যেকোনো অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শও দেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিনের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খায়রুল হাসান, নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ এবং নগরকান্দা প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত আলী শরিফ।

সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সহসভাপতি আলিমুজ্জামান সেলু ও মাহবুব আলী মিয়া, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আসাদুজ্জামান আছাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান তারা মোল্লা, পৌর যুবদলের সাবেক সভাপতি তৈয়াবুর রহমান এবং জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন হেলালসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।

সভায় নগরকান্দা উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা, সন্ত্রাস ও কিশোর অপরাধ দমনসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ মোকাবিলায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব বিষয়ে প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় নাগরিকদের সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।


জাতীয় এর আরও খবর