img

জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অতিরিক্ত দায়িত্বে হুমায়ুন কবির

প্রকাশিত :  ১৩:২১, ৩০ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:২৪, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অতিরিক্ত দায়িত্বে হুমায়ুন কবির

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালনের সময় দেশের বাইরে থাকবেন। এ সময়ে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্যান্য বিষয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী প্রতিমন্ত্রীদ্বয়ের নিকট অর্পিত নির্দিষ্ট দায়িত্বের বাইরেও হুমায়ুন কবির অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তার এ অনুপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের কাজ যাতে ব্যাহত না হয় এবং বৈদেশিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, সেজন্যই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান ড. খলিলুর রহমান।

গত ২ জুন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে গোপন ব্যালটে ড. খলিলুর রহমান সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিসকে ৯৯-৯১ ভোটে হারিয়ে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এক বছরের জন্য তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন দেশে দীর্ঘ সময় অবস্থান করবেন।

বাংলাদেশ সর্বশেষ ১৯৮৬-৮৭ সালে এ পদ পেয়েছিল। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ পদে দায়িত্ব পাওয়া এক বিশাল গৌরবের।

উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভার রদবদলে হুমায়ুন কবিরকে টেকনোক্র্যাট হিসেবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়। শামা ওবায়েদ ইসলামও পদে বহাল থাকেন।

২৩ আগস্টের পরিপত্রে হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রী-১ এবং শামা ওবায়েদ ইসলামকে প্রতিমন্ত্রী-২ হিসেবে চিহ্নিত করে দায়িত্ব ভাগ করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বিষয়, অনিবাসী বাংলাদেশি সংক্রান্ত বিষয় এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী নির্ধারিত অন্যান্য বিষয়ে সহায়তা করবেন। নতুন পরিপত্র অনুযায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশে থাকাকালে তিনি মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রম, জরুরি সিদ্ধান্ত ও প্রশাসনিক বিষয়েও অতিরিক্ত ভূমিকা রাখবেন।

এদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম দেখবেন সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, মানবাধিকার, গবেষণা ও উদ্ভাবন, পরিবেশ ও জলবায়ু, সৃজনশীল অর্থনীতি, এলডিসি উত্তরণ, আইসিটি, সমুদ্র আইন, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতি।


জাতীয় এর আরও খবর

img

মক্কা চুক্তিতে যোগদানে কোনো ঝুঁকি দেখছে না ঢাকা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৯:১৪, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যুক্ত হলেও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তাঁর ভাষ্য, চুক্তির অংশ হলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়বে না। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের চলমান অংশীদারত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্কও এতে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

রোববার (৩০ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর বিন আবিয়াহর সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, এটি একটি অনন্য চুক্তি। নতুন সুযোগ তৈরি করছে। বাংলাদেশ প্রস্তাবিত চুক্তিটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। এখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। সব দ্বিপক্ষীয় অংশীদারের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে।

‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ বা মক্কা চুক্তি গত ৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। এখন পর্যন্ত সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক এতে যোগ দিয়েছে।

বাংলাদেশ চুক্তিতে যোগ দিলে কী ধরনের ঝুঁকি হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রেখে ঢাকা সমন্বিত ও নমনীয় পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করবে। বাংলাদেশের মতো দেশকে বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিশীলতার সঙ্গে মিলিয়ে অত্যন্ত নমনীয়ভাবে পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়গুলো সামলাতে হয়।

এক সাংবাদিক জানতে চান, চুক্তির সুবিধা ও সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। কিন্তু কোনো ঝুঁকি আছে কি না। জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, বাঁচার আগেই মরার চিন্তা করলে লাভ নেই। এটি একটি ইউনিক প্যাক্ট। নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। এ দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে মিল রেখেই আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রাখা হবে। বাংলাদেশের এ জোটে যোগদান কোনো ঝুঁকি তৈরি করবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে কোনো একটি ক্ষেত্রে সহযোগিতায় যুক্ত হওয়া মানেই অন্য জোট বা অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এতে পরিসর সীমিত হয় না।

আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অবদান রাখা যায়, সেখানেই ঢাকা কাজ করে যাবে। বাংলাদেশ বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে। যেখানে শান্তিই প্রধান লক্ষ্য, সেখানে দেশ সবসময় উপস্থিত থাকবে।

গত সপ্তাহে ওআইসির ২৩তম বিশেষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরিষদ সভায় যোগ দিতে জেদ্দা সফরকালে হুমায়ুন কবির সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে প্রস্তাবিত চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তার আলোচনাসঙ্গীদের প্রতিক্রিয়া ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক।

তবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ এখনো চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিক কোনো আমন্ত্রণ পায়নি। আমন্ত্রণ এলে অবশ্যই জানানো হবে।

চুক্তির প্রতি বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবের পেছনে রয়েছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দেশের দীর্ঘদিনের ভূমিকা। হুমায়ুন কবির বলেন, জাতিসংঘের কাঠামোর অধীনে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষায় বড় অবদান রাখছে। শান্তি বজায় রাখা আমাদের জন্য নতুন কিছু নয়। এ ক্ষেত্রে আমাদের ব্যাপক অভিজ্ঞতা আছে এবং বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। সারা বিশ্বে আমরা এ কাজ করি। তাহলে মুসলিম ভ্রাতৃসমাজের জন্য কেন করব না?

সৌদি আরব দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম। মুসলিম বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তার এমন উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা মোটেই খারাপ কিছু নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেদ্দায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়। ওআইসি বৈঠকের ফাঁকে তিনি কাতার, কুয়েত ও মালদ্বীপের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের সদিচ্ছার পদচিহ্ন এখন সামনের সারিতে রয়েছে উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, এ সদিচ্ছাকে কাজে লাগিয়ে অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

জাতীয় এর আরও খবর