img

শ্রীমঙ্গলে খামারে ঢুকে পড়া বিশাল অজগর উদ্ধার, বাড়ছে সাপের আতঙ্ক

প্রকাশিত :  ১৯:০১, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে খামারে ঢুকে পড়া বিশাল অজগর উদ্ধার, বাড়ছে সাপের আতঙ্ক

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় একটি খামারে ঢুকে পড়া বিশাল আকৃতির অজগর সাপ উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন।  রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ইছবপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছবপুর এলাকার বাসিন্দা জসীম উদ্দিনের খামারে সকালে হঠাৎ একটি বড় অজগর ঢুকে পড়ে। সাপটি খামারের ভেতরে ঢোকার পর গরুগুলো অস্বাভাবিকভাবে চিৎকার ও নড়াচড়া শুরু করে। গরুর চেচামেচির শব্দ শুনে খামারের মালিক জসীম উদ্দিন সেখানে গিয়ে খামারের ভেতরে বিশাল আকৃতির অজগরটি দেখতে পান।

পরে গরুগুলোর চেচামেচি ও নড়াচড়ার কারণে অজগরটি খামারের ভেতর থেকে বাইরে চলে আসে। বিশাল আকৃতির সাপটি দেখে খামারে থাকা সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, সঞ্জিত দেব এবং পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে যান। তাঁরা অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পরে উদ্ধার করা অজগরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিনই অজগরসহ বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার করা হচ্ছে। একের পর এক সাপ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আতঙ্কও বাড়ছে।

তবে সাপ নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন কুমার দেব সজল। তিনি বলেন, সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। খবর পেলে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপগুলো উদ্ধার করে স্থানীয় বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করবেন।

বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সাপ না মেরে উদ্ধারের মাধ্যমে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের মতে, লোকালয়ে সাপের উপস্থিতি দেখা গেলে নিজেরা ধরতে বা মারতে না গিয়ে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারীদের খবর দেওয়াই নিরাপদ।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে দুই সহস্রাধিক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হলো দ্বিতীয় বিজ্ঞান মেলা

প্রকাশিত :  ০৮:৩১, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

লন্ডন, ২৯ আগস্ট ২০২৬: ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে দুই সহস্রাধিক শিশু-কিশোরের অংশগ্রহণে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হলো বিজ্ঞান মেলা। লন্ডন মুসলিম সেন্টারের দুটি হলজুড়ে আয়োজিত এ মেলায় শিশুদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাদের অভিভাবকরাও। নবীন-প্রবীণের অংশগ্রহণে সায়েন্স ফেয়ারটি এক মিলনমেলায় রূপ নেয়।

মূলত বিজ্ঞান বিষয়ে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের বিজ্ঞানমনস্ক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের মতো এ মেলার আয়োজন করা হয়। তরুণ প্রজন্মকে এ কথাও বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, ধর্ম ও বিজ্ঞান পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একটি অপরটির পরিপূরক।

২৯ আগস্ট শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত লন্ডন মুসলিম সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোর ও প্রথম তলায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।

সায়েন্স ফেয়ারের আয়োজন সম্পর্কে ইস্ট লন্ডন মসজিদের সিইও জুনায়েদ আহমদ বলেন, এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানসম্পর্কিত বিষয়ে লেখাপড়ায় আগ্রহী করে তোলা। আগামীতে তারা যেন বিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও প্রকৌশলী হয়ে উন্নত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, মেলা নিয়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রাইমারি, সেকেন্ডারি এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এতে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা শুধু মেলা ঘুরে দেখেননি, বরং বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবেও অংশ নিয়েছেন। আয়োজনটি সফল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনি ভলান্টিয়ারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মেলার কো-অর্ডিনেটর ও ইস্ট লন্ডন মসজিদের ইয়ুথ এনগেজমেন্ট কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুর রহমান বলেন, দিনব্যাপী এ আয়োজনে ছিল ইন্টারঅ্যাকটিভ স্টল, লাইভ এক্সপেরিমেন্ট এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতবিষয়ক নানা কার্যক্রম। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহর থেকে অভিভাবকেরা তাদের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মেলায় আসেন।

তিনি বলেন, পুরো আয়োজন ছিল আনন্দঘন। শিশু-কিশোরেরা আনন্দের মধ্য দিয়ে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পেয়েছে। লন্ডন মুসলিম সেন্টারের গ্রাউন্ড ফ্লোরের মধ্যবর্তী স্থানে একটি প্ল্যানেটারিয়াম স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে প্রতি ১০ মিনিট পরপর ভিডিও প্রদর্শন করা হয় । এটি দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

মেলা পরিচালনায় অংশ নেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত মুসলিম পেশাজীবীরা। এটি শুধু একটি শিক্ষামূলক মেলা ছিল না; বরং ছিল কৌতূহল, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ এবং কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণে শিক্ষার এক সুন্দর উৎসব।




কমিউনিটি এর আরও খবর