img

লাভেলো: দরপতনের ভেতরেই কি তৈরি হচ্ছে নতুন বিনিয়োগের গল্প?

প্রকাশিত :  ১৬:৩৯, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:৫৪, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মুনাফা, বিক্রি ও পরিচালন নগদ প্রবাহে উন্নতি, বাজারদরে বড় সংশোধন এবং সম্ভাব্য পুনর্মূল্যায়নের অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা

লাভেলো: দরপতনের ভেতরেই কি তৈরি হচ্ছে নতুন বিনিয়োগের গল্প?

নিজস্ব প্রতিবেদক: শেয়ারবাজারে কোনো কোম্পানির গল্প কখনো শুধু তার শেয়ারদর দিয়ে শেষ হয় না। কখনো কখনো বাজারদর দ্রুত কমে যায়, অথচ কোম্পানির ব্যবসা একই সময়ে আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। আবার কখনো ভালো ব্যবসার শেয়ারও বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট, বাজারের সামগ্রিক দুর্বলতা কিংবা স্বল্পমেয়াদি বিক্রির চাপে তার মৌলভিত্তির তুলনায় অনেক নিচে নেমে যেতে পারে।

তাউফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিম পিএলসি, বাজারে পরিচিত LOVELLO নামে, বর্তমানে এমনই একটি আলোচনার কেন্দ্রে থাকা কোম্পানি। সর্বশেষ CSE তথ্য অনুযায়ী, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ শেয়ারটির শেষ লেনদেন মূল্য ছিল ৪৮.২০ টাকা। একই সঙ্গে শেয়ারটির ৫২-সপ্তাহের পরিসর ৪৮.৪০ থেকে ১০৪.৮০ টাকা। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারটি তার এক বছরের উচ্চস্তরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে অবস্থান করছে।

এখানেই বিনিয়োগকারীদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি হয়। শেয়ারের দাম কমেছে, কিন্তু ব্যবসার মৌলভিত্তি কি একইভাবে দুর্বল হয়েছে?

প্রকাশিত আর্থিক তথ্য বলছে, অন্তত সাম্প্রতিক নয় মাসের পারফরম্যান্সে সেই চিত্রটি সরল নয়।

মুনাফার প্রবৃদ্ধিই সবচেয়ে বড় আলোচনার জায়গা

লাভেলোর ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসের অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীতে EPS হয়েছে ৩.০৬ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে EPS ছিল ১.৫৯ টাকা। অর্থাৎ EPS প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, একই সময়ে কোম্পানির পরিচালন কার্যক্রম থেকে শেয়ারপ্রতি নিট নগদ প্রবাহ বা NOCFPS হয়েছে ৬.৫৫ টাকা, যা আগের বছরের ২.৮২ টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ৩১ মার্চ ২০২৬ তারিখে NAV per share দাঁড়িয়েছে ১৩.৪৫ টাকা, যেখানে ৩০ জুন ২০২৫-এ তা ছিল ১২.০১ টাকা।

কোম্পানির প্রকাশিত ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বিক্রি ৪৩ শতাংশ বেড়েছে এবং কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ১০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে EPS-এও বড় ধরনের উন্নতি এসেছে।

বাজার বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

কারণ শুধু বিক্রি বাড়লেই কোনো কোম্পানির শেয়ারকে আকর্ষণীয় বলা যায় না। বিনিয়োগকারীদের দেখতে হয় বিক্রির প্রবৃদ্ধি কতটা মুনাফায় রূপান্তরিত হচ্ছে এবং সেই মুনাফার বিপরীতে নগদ প্রবাহ কেমন থাকছে। লাভেলোর সাম্প্রতিক তথ্যের ক্ষেত্রে এই দুই জায়গাতেই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

প্রথম প্রান্তিকেও ছিল ইতিবাচক গতি

লাভেলোর প্রবৃদ্ধি শুধু একটি ত্রৈমাসিকের ঘটনা নয়। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সময়েও কোম্পানির EPS ছিল ১.০২ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ০.৯১ টাকা।

সেই সময়ে NOCFPS ছিল ২.৪৩ টাকা, আগের বছরের ১.৬৮ টাকার তুলনায় বেশি। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ওই প্রান্তিকে বিক্রি ১৫ শতাংশ এবং কর-পরবর্তী মুনাফা ২৪ শতাংশ বেড়েছিল।

অর্থাৎ লাভেলোর সাম্প্রতিক আর্থিক গল্পটি কেবল শেয়ারদরের গল্প নয়। ব্যবসার ভেতরেও প্রবৃদ্ধির কিছু দৃশ্যমান সূচক রয়েছে।

তাহলে শেয়ারদর এত নিচে কেন?

এখানেই শেয়ারবাজারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সামনে আসে।

একটি কোম্পানির শেয়ারদর শুধু কোম্পানির আয় দিয়ে নির্ধারিত হয় না। বাজারের সামগ্রিক মনোভাব, তারল্য, বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার সক্ষমতা, সেক্টরের মূল্যায়ন, সরবরাহ ও চাহিদা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এবং প্রত্যাশা, সবকিছু মিলেই শেয়ারদর তৈরি হয়।

লাভেলোর ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক দরপতনকে শুধুমাত্র কোম্পানির ব্যবসার দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যথেষ্ট নয়।

৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ CSE-তে শেয়ারটির লেনদেন হয়েছে ৪৮.২০ টাকায় এবং ওই দিনের সর্বনিম্ন দর ছিল ৪৮.১০ টাকা। একই দিনে মোট ১৩,৪৫৭টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে এবং মোট লেনদেনমূল্য ছিল প্রায় ৬.৫৬ লাখ টাকা।

এ ধরনের দরপতন স্বাভাবিকভাবেই বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দৃষ্টিকোণ থেকে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত, ব্যবসার আয় ও নগদ প্রবাহের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা কী?

লাভেলোর ব্র্যান্ড শক্তিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

লাভেলো শুধু একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানির নাম নয়। এটি একটি ভোক্তা ব্র্যান্ড। কোম্পানির লাভেলো আইসক্রিম ব্যবসা ২০১৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়।

ভোক্তা পণ্যের ব্যবসায় ব্র্যান্ডের মূল্য অনেক সময় আর্থিক বিবরণের বাইরে গিয়ে কাজ করে। বাজারে পরিচিতি, বিতরণ নেটওয়ার্ক, গ্রাহকের অভ্যাস, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং মৌসুমি চাহিদা, এগুলো ভবিষ্যৎ বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।

আইসক্রিম ব্যবসার ক্ষেত্রে গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে একই সঙ্গে কাঁচামালের মূল্য, বিদ্যুৎ ও উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন, ডিস্ট্রিবিউশন খরচ এবং প্রতিযোগিতার বিষয়গুলোও বিনিয়োগকারীদের নজরে রাখতে হবে।

অর্থাৎ লাভেলোর গল্পে সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি অপারেটিং চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

লভ্যাংশও বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বার্তা

২০২৫ অর্থবছরের জন্য কোম্পানি ১১ শতাংশ নগদ এবং ৫ শতাংশ স্টক, মোট ১৬ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। CSE-এর কোম্পানি তথ্যেও এই লভ্যাংশের তথ্য রয়েছে।

একটি কোম্পানি যখন ব্যবসা থেকে মুনাফা তৈরি করে এবং তার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডারদের কাছে ফেরত দেয়, তখন সেটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি ইতিবাচক দিক হতে পারে।

তবে শুধু লভ্যাংশের হার দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ভবিষ্যতে কোম্পানি কতটা ধারাবাহিকভাবে মুনাফা করতে পারে, নগদ প্রবাহ কেমন থাকে এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য কত মূলধন প্রয়োজন হবে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমান মূল্যায়ন নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন

লাভেলোর সর্বশেষ প্রকাশিত CSE তথ্য অনুযায়ী P/E প্রায় ৩০.৮৩ এবং EPS ১.৫৭ টাকা হিসেবে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে NAV per share ১৩.৪৫ টাকা।

এখানে বিনিয়োগকারীদের একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি। শেয়ারদর কমেছে বলেই শেয়ারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সস্তা হয়ে যায় না।

বরং মূল্যায়ন নির্ধারণ করতে হলে ভবিষ্যতের আয়, EPS প্রবৃদ্ধি, নগদ প্রবাহ, ঋণ, মুনাফার মার্জিন এবং একই খাতের অন্য কোম্পানির মূল্যায়নের সঙ্গে তুলনা করতে হয়।

তবে বিপরীত দিকটিও সত্য। যদি কোনো কোম্পানির আয় ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে এবং বাজার সেই প্রবৃদ্ধিকে বর্তমান দামে পুরোপুরি প্রতিফলিত না করে, তাহলে ভবিষ্যতে পুনর্মূল্যায়নের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

লাভেলোকে ঘিরে বর্তমান বিনিয়োগ-গল্পের মূল আকর্ষণ সম্ভবত এখানেই।

১০৮ টাকা কি আবার সম্ভব?

বাজারে লাভেলোর ১০৮ টাকার কাছাকাছি মূল্যস্তর নিয়ে আলোচনা থাকতেই পারে। কিন্তু এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ মূল্য বা গ্যারান্টিযুক্ত টার্গেট হিসেবে দেখা উচিত নয়।

বরং একটি সম্ভাব্য bull-case scenario হিসেবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যায়।

ধরা যাক, কোম্পানি আগামী কয়েকটি প্রান্তিকে বিক্রির প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হলো, মুনাফা আরও বাড়ল, EPS উন্নত হলো এবং বাজারের সামগ্রিক পরিবেশও ইতিবাচক হলো। সে ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের মূল্যায়ন বা valuation multiple পরিবর্তিত হতে পারে।

তখন বর্তমান দরের তুলনায় অনেক বেশি মূল্যস্তর নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা তৈরি হওয়া অসম্ভব নয়।

কিন্তু সেটি নির্ভর করবে বাস্তব আর্থিক ফলাফল এবং বাজারের আচরণের ওপর।

আতঙ্ক নয়, তথ্যই হওয়া উচিত বিনিয়োগের ভিত্তি

শেয়ারবাজারে গুজব দ্রুত ছড়ায়। কোনো শেয়ারের দাম কয়েক দিনে কমলে অনেক বিনিয়োগকারী ভয় পেয়ে বিক্রি করেন। আবার একই সময়ে অন্য কেউ সেই দরপতনকে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা হিসেবে দেখেন।

দুই পক্ষের মধ্যে কে শেষ পর্যন্ত সঠিক হবেন, তা নির্ধারণ করবে কোম্পানির ভবিষ্যৎ ব্যবসা।

লাভেলোর ক্ষেত্রে তাই বিনিয়োগকারীদের নজর রাখা উচিত পরবর্তী আর্থিক ফলাফল, EPS, NOCFPS, বিক্রির প্রবৃদ্ধি, মুনাফার মার্জিন, ঋণের অবস্থান, লভ্যাংশ এবং করপোরেট ঘোষণা নিয়ে।

কোম্পানির কোনো মূল্যসংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ হলে সেটিও গুরুত্ব দিয়ে পড়তে হবে।

সামনে কী দেখতে হবে?

লাভেলোর বিনিয়োগ-গল্পের পরবর্তী অধ্যায় নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর।

প্রথমত, বিক্রির প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকে কি না।

দ্বিতীয়ত, বিক্রির তুলনায় মুনাফা আরও দ্রুত বাড়ে কি না।

তৃতীয়ত, পরিচালন নগদ প্রবাহ শক্তিশালী থাকে কি না।

চতুর্থত, কোম্পানি ঋণ ও আর্থিক ব্যয় কীভাবে পরিচালনা করে।

পঞ্চমত, ভবিষ্যতে লভ্যাংশের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে কি না।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাজার কোম্পানির উন্নত আর্থিক ফলাফলকে কতটা মূল্যায়ন করে।

লাভেলোর বর্তমান গল্পকে এক লাইনে ব্যাখ্যা করলে বলা যায়, দরপতনের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পরিচিত ভোক্তা ব্র্যান্ড, যার সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফলে প্রবৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ সংকেত দেখা যাচ্ছে।

বর্তমান বাজারদর বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় মনে হতে পারে, আবার মূল্যায়নের কিছু সূচক সতর্ক থাকার কথাও বলে। তাই এটিকে নিশ্চিত লাভের শেয়ার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট, লাভেলোর সাম্প্রতিক আর্থিক ফলাফল নতুন করে নজর দেওয়ার মতো।

বিক্রি বেড়েছে, মুনাফা বেড়েছে, EPS বেড়েছে এবং পরিচালন নগদ প্রবাহও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।

এখন প্রশ্ন একটাই, এই প্রবৃদ্ধি কতটা ধারাবাহিক হয় এবং বাজার কখন সেই প্রবৃদ্ধিকে শেয়ারদরে প্রতিফলিত করে।

শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় সুযোগ অনেক সময় তখনই তৈরি হয়, যখন বাজারের দৃষ্টি স্বল্পমেয়াদি আতঙ্কে আটকে থাকে আর কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসার পরিবর্তন ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করে।

লাভেলোর ক্ষেত্রেও তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হতে পারে “ধৈর্য”।

তবে প্রতিটি বিনিয়োগকারীর উচিত নিজের ঝুঁকি গ্রহণক্ষমতা, বিনিয়োগের সময়সীমা এবং আর্থিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। কোনো নির্দিষ্ট মূল্যস্তর বা ভবিষ্যৎ মুনাফা নিশ্চিত নয়।

img

ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৫:৩০, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৩৩, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রাহকের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে (ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অধিকতর সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে। এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা রয়েছে। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরও দুটি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর