img

৩৫২টি শেয়ারে লাল সংকেত: পুঁজিবাজার কি আবার আস্থার সংকটে?

প্রকাশিত :  ১৫:১৫, ২৪ আগষ্ট ২০২৬

৩৫২টি শেয়ারে লাল সংকেত: পুঁজিবাজার কি আবার আস্থার সংকটে?

ঢাকার পুঁজিবাজারের সোমবারের চিত্র শুধু একটি খারাপ দিনের বাজারদর নয়, এটি বিনিয়োগকারীদের আস্থার গভীর সংকটের একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৮ দশমিক ৬৪ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে নেমেছে। সূচকের পতন ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস কমেছে ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ এবং ব্লুচিপ সূচক ডিএস৩০ কমেছে শূন্য দশমিক ৬৮ শতাংশ।

কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গাটি সূচকের পতনে নয়, বাজারের ব্যাপক অংশে একসঙ্গে বিক্রির চাপে। দিনের হিসাবে ৩৫২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, বিপরীতে বেড়েছে মাত্র ১৩টির। ১৭টি কোম্পানির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ বাজারে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার আধিপত্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট।

এমন পরিস্থিতিকে শুধু স্বাভাবিক বাজার সংশোধন বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, সূচকের পতনের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও দুর্বল হয়েছে। আপনার দেওয়া চার্ট অনুযায়ী দিনের মোট লেনদেনের মূল্য ছিল প্রায় ৬০১ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, এটি আগস্ট মাসের এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন দৈনিক লেনদেনের কাছাকাছি এবং আগের দিনের তুলনায় লেনদেনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কেন এমন হচ্ছে?

পুঁজিবাজারে আস্থা নষ্ট হলে প্রথমে যে জিনিসটি দেখা যায়, তা হলো বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার আগ্রহ কমে যাওয়া। তখন ভালো কোম্পানির শেয়ারও বিক্রির চাপ থেকে পুরোপুরি রেহাই পায় না। বর্তমান বাজারচিত্রে সেই প্রবণতাই দৃশ্যমান।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অর্থনীতির বাস্তব কিছু চাপ। সাম্প্রতিক বাজার বিশ্লেষণে জ্বালানি সংকট, শিল্প উৎপাদনে বিঘ্ন এবং কোম্পানিগুলোর আয় নিয়ে উদ্বেগকে বিনিয়োগকারীদের মনোভাব দুর্বল হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব শেয়ারবাজারে কেন পড়বে, সেটি বোঝা কঠিন নয়। একটি কারখানা যদি গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কমায় বা বন্ধ রাখে, তাহলে তার বিক্রি কমবে, খরচ বাড়বে, মুনাফা কমবে। শেষ পর্যন্ত তার শেয়ারের মূল্যায়নেও চাপ পড়বে। সম্প্রতি একটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কারখানা গ্যাস সংকট ও কাঁচামালের উচ্চমূল্যের কারণে ছয় মাসের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণার পর শেয়ারের দরে বড় পতন হয়েছে।

অর্থাৎ পুঁজিবাজারের সমস্যা কেবল পুঁজিবাজারের ভেতরে নেই। অর্থনীতির বাস্তব সংকটও এখন সরাসরি শেয়ারের দরে প্রতিফলিত হচ্ছে।

বাজারে ভয় বাড়ছে, নাকি বিশ্বাস কমছে?

এই প্রশ্নটি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কোনো বাজারে ৩৫২টি শেয়ারের দর কমে গেলে ধরে নিতে হয়, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একজন বিনিয়োগকারী হয়তো একটি কোম্পানির দুর্বল ফলাফলের কারণে শেয়ার বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু যখন বাজারের অধিকাংশ শেয়ার একই দিনে পড়ে যায়, তখন বিষয়টি আর একটি বা দুটি কোম্পানির সমস্যা থাকে না। তখন সেটি হয়ে যায় বাজারব্যাপী আস্থার প্রশ্ন।

পুঁজিবাজারের সবচেয়ে বড় সম্পদ টাকা নয়, আস্থা। সেই আস্থা দুর্বল হলে ভালো নীতিও বাজারকে দ্রুত ঘুরিয়ে দাঁড় করাতে পারে না।

সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা অবশ্য সংস্কারের কথা বলছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বাজার সংস্কার, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, বিনিয়োগকারী শিক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে আইপিও প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, তথ্য প্রকাশ এবং বিনিয়োগকারী সুরক্ষা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

এগুলো অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। কিন্তু বাজারে নীতির ঘোষণা আর বিনিয়োগকারীর আস্থার মধ্যে একটি বড় পার্থক্য আছে। বিনিয়োগকারী ফলাফল দেখতে চান।

সরকারের করণীয় কোথায়?

এখন সরকারের সবচেয়ে বড় কাজ হওয়া উচিত বাজারকে কৃত্রিমভাবে ওপরে তোলা নয়, বরং বাজারকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা।

প্রথমত, বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম বাড়ায় বা কমায়, গুজব ছড়ায় কিংবা সংঘবদ্ধভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে, তাহলে তদন্ত ও শাস্তির প্রক্রিয়া দৃশ্যমান হতে হবে।

দ্বিতীয়ত, তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক তথ্যের মান নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন, অস্পষ্ট মালিকানা কাঠামো, অনিয়মিত তথ্য প্রকাশ কিংবা পরিচালকদের স্বার্থের সংঘাত বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে ধ্বংস করে। ভালো কোম্পানি ও দুর্বল কোম্পানিকে একই পাল্লায় রাখলে বাজার কখনো গভীর হবে না।

তৃতীয়ত, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় করতে হবে। বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। পেনশন ফান্ড, মিউচুয়াল ফান্ড, বীমা কোম্পানি ও অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি তহবিলকে শক্তিশালী না করলে বাজার বারবার খুচরা বিনিয়োগকারীর আবেগনির্ভর লেনদেনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে। বাংলাদেশি পুঁজিবাজারের দীর্ঘদিনের দুর্বলতার মধ্যে মানসম্মত সিকিউরিটিজের ঘাটতি ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণের দুর্বলতাকেও সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

চতুর্থত, ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনতে হবে। শুধু আইপিওর সংখ্যা বাড়ালেই হবে না। প্রয়োজন শক্তিশালী ব্যবসা, স্বচ্ছ আর্থিক হিসাব, ভালো করপোরেট গভর্ন্যান্স এবং দীর্ঘমেয়াদে মুনাফা করার সক্ষমতা রয়েছে এমন কোম্পানি। আইপিও বাজারকে কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের জায়গা বানাতে হবে, দুর্বল কোম্পানির জন্য বেরিয়ে যাওয়ার দরজা বানানো যাবে না।

পঞ্চমত, করব্যবস্থা বিনিয়োগবান্ধব করতে হবে। পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে করনীতি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য হওয়া জরুরি। বারবার নীতির পরিবর্তন বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

ষষ্ঠত, জ্বালানি ও শিল্পখাতের সমস্যা সমাধান করতে হবে। কারণ পুঁজিবাজার অর্থনীতির আয়না। অর্থনীতির উৎপাদন যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে শেয়ারবাজারকে আলাদা করে সুস্থ রাখা কঠিন। বর্তমান পতনের সঙ্গে জ্বালানি সংকট ও করপোরেট আয়ের উদ্বেগের যে সম্পর্ক দেখা যাচ্ছে, সেটি সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

শুধু সূচক নয়, দরকার কাঠামোগত পরিবর্তন

সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় ভুল হবে প্রতিদিনের সূচক দেখে পুঁজিবাজারের স্বাস্থ্য বিচার করা। আজ ডিএসইএক্স বাড়ল, কাল কমল, এটিই বাজারের পূর্ণ চিত্র নয়।

প্রশ্ন হওয়া উচিত, বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী আসছেন কি না। বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ছে কি না। ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হচ্ছে কি না। মিউচুয়াল ফান্ড শক্তিশালী হচ্ছে কি না। কোম্পানিগুলো সময়মতো সঠিক তথ্য দিচ্ছে কি না। কারসাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হচ্ছে কি না। সাধারণ বিনিয়োগকারী বাজারে ন্যায়বিচার পাওয়ার বিশ্বাস রাখছেন কি না।

এই প্রশ্নগুলোর উত্তর ইতিবাচক না হলে সূচক কয়েকশ পয়েন্ট বাড়িয়েও পুঁজিবাজারকে টেকসই করা যাবে না।

সরকার ইতিমধ্যে পুঁজিবাজারে সংস্কার ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীও বাজারের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, পণ্য বৈচিত্র্য এবং বিনিয়োগকারী শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন।

এখন প্রয়োজন সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের গতি বাড়ানো।

পুঁজিবাজারকে অবহেলা করার সুযোগ নেই

বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন একটি কার্যকর পুঁজিবাজারের প্রয়োজন আরও বেশি। ব্যাংকনির্ভর অর্থনীতি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সব ধরনের বিনিয়োগের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। বড় শিল্প, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, জ্বালানি ও নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের বিকল্প উৎস দরকার।

সেই জায়গায় পুঁজিবাজারের ভূমিকা অপরিসীম।

কিন্তু পুঁজিবাজার যদি সাধারণ মানুষের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনির্ভরযোগ্য জায়গা হিসেবে পরিচিত হয়, তাহলে অর্থনীতির জন্যও এটি বড় ক্ষতি। তাই আজকের ৩৫২টি দরপতনকে শুধু লাল দিনের হিসাব হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাজারের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে একটি সতর্কবার্তা।

বার্তাটি খুব পরিষ্কার।

পুঁজিবাজারকে কৃত্রিমভাবে টেনে তোলার দরকার নেই। দরকার এমন একটি বাজার তৈরি করা, যেখানে বিনিয়োগকারী জানবেন, ভালো কোম্পানির মূল্য একদিন না একদিন বাজার দেবে, আর অনিয়ম করে কেউ পার পেয়ে যাবে না।

আজ ডিএসইএক্স ৭৮ পয়েন্ট কমেছে। কাল হয়তো আবার বাড়বে। কিন্তু সরকারের লক্ষ্য হওয়া উচিত আগামীকালকের সূচক নয়, আগামী দশকের পুঁজিবাজার।

কারণ একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার শুধু বিনিয়োগকারীর সম্পদ বাড়ায় না, শিল্পকে মূলধন দেয়, উদ্যোক্তা তৈরি করে, কর্মসংস্থান বাড়ায় এবং শেষ পর্যন্ত অর্থনীতির ভিত শক্ত করে।

তাই প্রশ্ন এখন আর পুঁজিবাজার কেন পড়ছে, তা নয়। প্রশ্ন হলো, আস্থা ফিরিয়ে আনতে সরকার আর কত দিন অপেক্ষা করবে?

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

পুঁজিবাজারে ধস: বিনিয়োগকারীরা কি সরকারের কাছে অপ্রয়োজনীয়?

প্রকাশিত :  ১৪:২১, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৯৭ পয়েন্টের পতন শুধু সূচকের হিসাব নয়, এটি আস্থার সংকেত। নির্বাচিত সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল পরিবর্তনের, এখন সেই প্রত্যাশার জায়গায় জমছে হতাশা

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ 

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের দিকে তাকালে এখন একটি দৃশ্যই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে। সংখ্যাগুলো নিচের দিকে যাচ্ছে, আর মানুষের আস্থা তার চেয়েও দ্রুত কমছে।

ডিএসইএক্সের প্রায় ৯৭ পয়েন্ট পতন হয়তো বাজারের এক দিনের হিসাব। কিন্তু এই পতনের অভিঘাত কেবল একটি সূচকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো পোর্টফোলিও, লাখো মানুষের সঞ্চয় এবং বহু পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।

পুঁজিবাজারকে তাই শুধু শেয়ারের দামের ওঠানামার জায়গা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে যে অর্থ প্রবাহিত হয়, তার সঙ্গে মানুষের শ্রম, সঞ্চয়, স্বপ্ন এবং নিরাপত্তা জড়িয়ে থাকে।

এই জায়গাতেই আজকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি দাঁড়িয়েছে।

সরকার কি সত্যিই পুঁজিবাজারের সংকটকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে?

প্রশ্নটি রাজনৈতিকও, অর্থনৈতিকও। কারণ বাজারের প্রতিটি দিনের পতনের জন্য সরকারকে দায়ী করা যায় না। শেয়ারের দাম বাজারের চাহিদা ও সরবরাহ, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশাসহ বহু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে।

কিন্তু একটি বাজার দীর্ঘদিন দুর্বল থাকলে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ভেঙে পড়লে, অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এবং নতুন বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হলে রাষ্ট্র তার দায় এড়িয়ে যেতে পারে না।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব সূচক কৃত্রিমভাবে ওপরে তুলে রাখা নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব এমন একটি বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে নিয়ম কার্যকর, আইন সবার জন্য সমান এবং বিনিয়োগকারীরা জানেন যে তাঁদের অর্থের নিরাপত্তার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।

এই জায়গাতেই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সংকট সবচেয়ে গভীর।

প্রত্যাশা ছিল, হতাশা কেন?

নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ নতুন আশায় বুক বেঁধেছিলেন।

তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে অর্থনীতিতে গতি আসবে। ব্যবসা বাড়বে, বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন শিল্প গড়ে উঠবে এবং তার প্রভাব পড়বে পুঁজিবাজারেও।

এই প্রত্যাশা অমূলক ছিল না।

একটি শক্তিশালী অর্থনীতির জন্য কার্যকর পুঁজিবাজার প্রয়োজন। ব্যাংকনির্ভর অর্থায়নের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মূলধন সংগ্রহের ক্ষেত্রে শেয়ারবাজারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে, সাধারণ মানুষ বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে, এটাই একটি সুস্থ পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক কাঠামো।

কিন্তু বাস্তবতা এখন বিনিয়োগকারীদের অনেককে হতাশ করছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে পুঁজিবাজার রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের তালিকায় যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে না।

এই ধারণা সত্য কি না, সেটি সরকারেরই পরিষ্কার করা উচিত।

কারণ নীরবতা অনেক সময় সন্দেহকে আরও বড় করে তোলে।

৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের প্রশ্ন

বাজারসংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষ পুঁজিবাজারের সঙ্গে যুক্ত। এই সংখ্যা সরকারি পরিসংখ্যান দিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা না গেলেও পুঁজিবাজারের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

এই মানুষগুলো কেবল বিনিয়োগকারী নন। তাঁরা বাবা, মা, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি, চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী এবং তরুণ প্রজন্মের সদস্য।

কারও বিনিয়োগ সন্তানের শিক্ষার জন্য। কারও অবসর জীবনের নিরাপত্তার জন্য। কেউ ব্যবসার লাভের অর্থ বাজারে রেখেছেন। কেউ হয়তো চাকরির পাশাপাশি বছরের পর বছর সামান্য করে সঞ্চয় করেছেন।

একটি শেয়ারের দাম যখন ১০ টাকা কমে যায়, তখন বাজারের পর্দায় সেটি শুধু একটি সংখ্যা।

কিন্তু কোনো পরিবারের কাছে সেই ১০ টাকার পতন হয়তো কয়েক মাসের সঞ্চয়ের সমান।

এই পার্থক্যটি নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন

পুঁজিবাজার নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে একটি সুস্পষ্ট অবস্থান প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী চাইলে কি এই বাজারের জন্য একটি সমন্বিত সংস্কার উদ্যোগ নিতে পারেন না?

অবশ্যই পারেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়, বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে নিয়ে একটি সময়বদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব। বাজার কারসাজি প্রতিরোধ, করপোরেট গভর্ন্যান্স উন্নত করা, মানসম্মত কোম্পানি তালিকাভুক্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদারের জন্য আলাদা লক্ষ্য নির্ধারণ করা সম্ভব।

প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের একটি পুঁজিবাজার সংস্কার কমিটিও গঠন করা যেতে পারে।

প্রশ্ন হলো, উদ্যোগটি কোথায়?

একটি নির্বাচিত সরকারকে প্রতিটি বাজার পতনের ব্যাখ্যা দিতে হবে না। কিন্তু বাজারের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা এবং আস্থার সংকট নিয়ে একটি নীতিগত অবস্থান জানানো তার দায়িত্ব।

বিনিয়োগকারীরা অন্তত জানতে চান, সরকার সমস্যাটি দেখছে কি না এবং দেখলে কী করতে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রীর সামনে বড় পরীক্ষা

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী পুঁজিবাজারের সঙ্গে অপরিচিত নন। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার ইতিহাস রয়েছে।

এই অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর প্রতি প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থমন্ত্রীর সামনে শুধু সামষ্টিক অর্থনীতির হিসাব নেই। রয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জও।

এখন প্রয়োজন একটি পরিষ্কার রোডম্যাপ।

কোন সংস্কার আগে হবে? কোনটি পরে? বাজার কারসাজি ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? ভালো কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে কী প্রণোদনা থাকবে? সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ কীভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি হবে? প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কেন বাড়ছে না?

এসব প্রশ্নের উত্তর শুধু বক্তব্যে নয়, কার্যকর নীতির মাধ্যমে দিতে হবে।

অর্থনীতি পরিচালনার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আস্থা। আর আস্থা তৈরি হয় কথায় নয়, ধারাবাহিক ফলাফলে।

বিএসইসির সাফল্যের মাপকাঠি কী?

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। এর দায়িত্ব শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা নয়, বরং এমন একটি কাঠামো তৈরি করা, যেখানে অনিয়মের সুযোগই সীমিত হয়ে আসে।

বর্তমান চেয়ারম্যান মাসুদ খান দায়িত্ব নেওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন, বাজারের সুশাসন শক্তিশালী করা এবং মানসম্মত কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

এসব উদ্যোগের গুরুত্ব রয়েছে।

কিন্তু বাজার শেষ পর্যন্ত বক্তব্যের মূল্যায়ন করে ফল দিয়ে।

তাহলে প্রশ্ন উঠবে, কারসাজি কি কমেছে? বিনিয়োগকারীদের অভিযোগের নিষ্পত্তি কি দ্রুত হচ্ছে? দুর্বল কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কি দৃশ্যমান? তালিকাভুক্ত কোম্পানির সুশাসন কি উন্নত হচ্ছে? বাজারে তথ্যের স্বচ্ছতা কি বেড়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তরই বিএসইসির কার্যকারিতার প্রকৃত মাপকাঠি।

বিএসইসির চেয়ারম্যান পরিবর্তনের দাবি উঠতে পারে। দক্ষ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হতে পারে। কিন্তু শুধু চেয়ারম্যান পরিবর্তন করে বাজারের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর হবে না।

প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত বিচার এবং আইনের দৃশ্যমান প্রয়োগ।

সূচক নয়, আস্থা বাঁচাতে হবে

সরকারের একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা প্রয়োজন।

পুঁজিবাজারের সূচক কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে রাখার দায়িত্ব সরকারের নয়।

সূচক কমবে, বাড়বে। বাজারে ঝুঁকি থাকবে। বিনিয়োগে লাভ যেমন থাকবে, ক্ষতিও থাকবে।

সরকারের দায়িত্ব হলো ন্যায্য খেলার মাঠ তৈরি করা।

কেউ বাজার কারসাজি করলে তাকে শাস্তি পেতে হবে।

কোনো কোম্পানি ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে তার পরিচালনা পর্ষদকে জবাবদিহি করতে হবে।

কেউ অভ্যন্তরীণ তথ্য ব্যবহার করে অন্যায় সুবিধা নিলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

কোনো দুর্বল কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে ফেললে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সময়মতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

এই মৌলিক নিশ্চয়তাগুলো না থাকলে কোনো বাজার দীর্ঘদিন টেকসই হতে পারে না।

সরকার বিনিয়োগকারীদের লাভের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। কিন্তু ন্যায্য বাজারের নিশ্চয়তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

সংখ্যার পেছনের মানুষগুলো কোথায়?

বাজারের দৈনিক প্রতিবেদনে আমরা বলি, সূচক এত পয়েন্ট কমেছে। বাজার মূলধন এত কোটি টাকা কমেছে। লেনদেন হয়েছে এত টাকা।

কিন্তু সংখ্যার পেছনে থাকা মানুষটির গল্প কোথায়?

একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি হয়তো জীবনের শেষ সঞ্চয় নিয়ে বাজারে এসেছেন।

একজন তরুণ হয়তো ভেবেছেন, বেতনের সামান্য অংশ বিনিয়োগ করে ভবিষ্যৎ তৈরি করবেন।

একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হয়তো ব্যবসার মুনাফা বাজারে রেখেছেন।

তাঁদের প্রত্যেকের কাছে পুঁজিবাজারের অর্থ আলাদা।

কারও কাছে এটি স্বপ্ন। কারও কাছে নিরাপত্তা। কারও কাছে শেষ আশ্রয়।

তাই বাজারের পতনকে কেবল একটি পরিসংখ্যান হিসেবে দেখলে অর্থনীতির মানবিক বাস্তবতাটি হারিয়ে যায়।

এখনই সংস্কারের সময়

সরকার চাইলে বর্তমান সংকটকে একটি সুযোগে পরিণত করতে পারে।

একটি সময়বদ্ধ পুঁজিবাজার সংস্কার কর্মসূচি ঘোষণা করা যেতে পারে। বিএসইসির নজরদারি আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে। স্টক এক্সচেঞ্জের প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ বাড়ানো যেতে পারে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন ও করপোরেট গভর্ন্যান্সে কঠোরতা আনা যেতে পারে।

বাজার কারসাজির মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত বিচারব্যবস্থা কার্যকর করা দরকার।

ভালো কোম্পানিকে বাজারে আনার জন্য নীতিগত প্রণোদনা প্রয়োজন।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো দরকার।

আর সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ শুরু করা জরুরি।

কারণ যে বাজারে বিনিয়োগকারীরা কথা বলার সুযোগ পান না, সেই বাজারে আস্থা স্থায়ী হয় না।

দায় কার?

আজকের পুঁজিবাজারের সব সমস্যার দায় কোনো একজন ব্যক্তির নয়। বর্তমান সংকট দীর্ঘদিনের।

দুর্বল সুশাসন, নীতিগত অসঙ্গতি, বাজার কারসাজির অভিযোগ, মানসম্মত কোম্পানির ঘাটতি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের দুর্বলতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা একসঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বর্তমান সরকার দায়মুক্ত।

কারণ সরকার পুরোনো সমস্যার উত্তরাধিকার গ্রহণ করার পাশাপাশি সেগুলো সমাধানের দায়িত্বও গ্রহণ করে।

একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা তাই খুব বেশি কিছু নয়।

তাঁরা লাভের নিশ্চয়তা চান না।

তাঁরা শুধু চান, আইন যেন সবার জন্য সমান হয়।

তাঁরা চান, কারসাজি যেন শাস্তি পায়।

তাঁরা চান, ভালো কোম্পানি যেন বাজারে আসে।

তাঁরা চান, নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান যেন কার্যকর হয়।

তাঁরা চান, তাঁদের সঞ্চয় যেন নীতিনির্ধারকদের কাছে গুরুত্ব পায়।

এখন উত্তর দেওয়ার সময়

ডিএসইএক্সের ৯৭ পয়েন্ট পতন একটি দিনের ঘটনা হতে পারে।

কিন্তু আস্থার পতন এক দিনের নয়।

আস্থা তৈরি হতে সময় লাগে। ভাঙতে লাগে খুব অল্প সময়। একটি বাজারে মানুষ একবার বিশ্বাস হারালে তা ফিরিয়ে আনা শুধু অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয় থাকে না, এটি হয়ে ওঠে দীর্ঘ রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষা।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার সেই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সরকার চাইলে এখনো পরিস্থিতি বদলাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী চাইলে বিষয়টিকে জাতীয় অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারে আনতে পারেন। অর্থমন্ত্রী চাইলে একটি স্পষ্ট সংস্কার রোডম্যাপ দিতে পারেন। বিএসইসি চাইলে কঠোর ও দৃশ্যমান প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারে।

কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন সিদ্ধান্ত।

প্রয়োজন সমন্বয়।

প্রয়োজন জবাবদিহি।

সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

বিনিয়োগকারীরা এখন আর শুধু সূচকের দিকে তাকিয়ে নেই। তাঁরা তাকিয়ে আছেন রাষ্ট্রের দিকে।

তাঁদের প্রশ্ন, এই বাজার কি সরকারের কাছে সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ?

তাঁদের আরেকটি প্রশ্ন, তাঁদের সঞ্চয়, তাঁদের উদ্বেগ, তাঁদের ক্ষতি এবং তাঁদের ভবিষ্যৎ কি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নীতিতে কোনো বাস্তব মূল্য বহন করে?

এই প্রশ্নের উত্তর কেবল একটি বিবৃতি দিয়ে দেওয়া যাবে না।

উত্তর দিতে হবে কার্যকর সংস্কারে।

উত্তর দিতে হবে আইনের প্রয়োগে।

উত্তর দিতে হবে দৃশ্যমান জবাবদিহিতে।

কারণ পুঁজিবাজারের সূচক আবার উঠবে। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে পারে। ভালো কোম্পানি নতুন করে বাজারে আসতে পারে।

কিন্তু মানুষের আস্থা যদি একবার পুরোপুরি হারিয়ে যায়, তখন শুধু সূচক বাড়িয়ে সেই ক্ষত পূরণ করা যায় না।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সামনে তাই আজ সবচেয়ে বড় লড়াই পতন ঠেকানোর নয়।

আস্থা ফিরিয়ে আনার লড়াই।

আর সেই লড়াইয়ে সরকার যদি নীরব থাকে, ইতিহাসের প্রশ্নটি আরও কঠিন হয়ে উঠবে:

যখন বিনিয়োগকারীরা রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, তখন রাষ্ট্র তাঁদের জন্য কী করেছিল?