img

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা, বেতন কমল ৫ জনের

প্রকাশিত :  ০৮:৪৭, ১৯ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৩, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

বাধ্যতামূলক অবসরে বিএসইসির ১৭ কর্মকর্তা, বেতন কমল ৫ জনের

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১৭ কর্মকর্তাকে একসঙ্গে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে শাস্তি হিসেবে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল বা গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি প্রতিষ্ঠার পর একসঙ্গে এত কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর ঘটনা এটিই প্রথম।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসইসি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আজ বুধবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ তৎকালীন বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ ও কয়েকজন কমিশনারকে ৪ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনায় মোট ২২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ওই ঘটনার পর ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি সরকারি বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তে অভিযুক্ত ও অভিযোগকারীদের বক্তব্য নেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে ২৩ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তাদের মধ্যে একজন এরই মধ্যে অন্য একটি অভিযোগে চাকরিচ্যুত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

২০২৫ সালের ৫ মার্চ বিএসইসির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তৎকালীন চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের ৪ ঘণ্টার বেশি সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন।

বিএসইসির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রতিবাদে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ওই কর্মসূচি পালন করেন। একই সঙ্গে তারা কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে কর্মবিরতিও পালন করেন। এতে কয়েক দিন বিএসইসিতে অচলাবস্থা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ওই ঘটনায় করা মামলার অভিযোগে বলা হয়, কমিশনের সভা চলাকালে একদল কর্মকর্তা-কর্মচারী জোর করে সভাকক্ষে প্রবেশ করে চেয়ারম্যান ও কমিশনারদের অবরুদ্ধ করেন।

পরে কমিশনের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সিসিটিভি ও ওয়াই-ফাই সংযোগ বন্ধ, লিফট অচল এবং বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়।

সরকারি তদন্ত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে ওই ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এবার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো।

img

একনেকে ৯৩৩৩ কোটি টাকার ১০ প্রকল্প অনুমোদন

প্রকাশিত :  ১১:৪২, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় মোট ৯ হাজার ৩৩৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছয়টি নতুন এবং চারটি সংশোধিত। 

বুধবার (১৯ আগস্ট) পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৮ হাজার ৪৮৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা। বাকি অর্থ প্রকল্প ঋণ থেকে জোগান দেওয়ার কথা রয়েছে।

সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এগুলো হলো ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ’ এবং ‘১০টি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আধুনিক সুবিধা সংবলিত ১৯টি হোস্টেল ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘Capacity Development for Smart Maintenance Technology of Bridges under Roads and Highways Department in Bangladesh’ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো ‘ধরলা নদীর ডান তীরের ভাঙন হতে লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা রক্ষা’ এবং ‘চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট এবং বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাট হতে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বাঁধ শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্প।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রাম সড়ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সক্ষমতা জোরদারকরণ’ তৃতীয় সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প হলো ‘জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জে ১০০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ’ দ্বিতীয় সংশোধিত প্রকল্প এবং ‘ঢাকাস্থ ডেসকো এলাকায় বৈদ্যুতিক অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ’ প্রথম সংশোধিত প্রকল্প।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘রামু সেনানিবাসের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পটিও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এরই মধ্যে অনুমোদন দেওয়া ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত নয়টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বিএসএল-৩ গবেষণাগার স্থাপন ও ভ্যাকসিন এবং বায়োলজিক্স গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) প্রথম সংশোধিত, সুন্দরবন সুরক্ষা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ দ্বিতীয় সংশোধিত, ঢাকার গুলশানে ১৩২/৩৩/১১ কেভি ভূগর্ভস্থ গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ, ডিপিডিসির আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন দ্বিতীয় সংশোধিত, মসজিদ পাঠাগার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ চতুর্থ পর্যায় এবং তথ্য ও সম্প্রসারণ মন্ত্রণালয়ের জনসেবা প্রদানে নিউ মিডিয়ার সর্বোত্তম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রকল্প।


অর্থনীতি এর আরও খবর