img

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ১ বছরেও সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:৪০, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটের সমাধান ১ বছরেও সম্ভব নয়: অর্থমন্ত্রী

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চলমান সংকট সমাধানে কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর মতে, ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে এ সংকটের পূর্ণাঙ্গ সমাধান সম্ভব নয়। তবে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।

 আজ রোববার (১৬ আগিস্ট) রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আমেরিকা বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট প্রসঙ্গে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘সবাই বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে কথা বলছেন। আমরা এক ধরনের সমস্যার মধ্যে আছি। আমাকে স্বীকার করতেই হবে, এটা অতীত থেকে পাওয়া।’ তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার কোনো সমাধান ছয় মাসের মধ্যে সম্ভব নয়। এমনকি এক বছরেও এর সমাধান করা সম্ভব হবে না। এ জন্য সর্বনিম্ন দুই বছর সময় প্রয়োজন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাস ছাড়া যে অর্থনীতির কথা বলছেন, তা আসলেই সামনে এগিয়ে যেতে পারে না।’ তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে বলেও ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেন তিনি।

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল ও স্থলভাগে গ্যাস সংরক্ষণের (অনশোর স্টোরেজ) সুবিধা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের ক্ষেত্রে—ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, অনশোর (স্থলভাগ) স্টোরেজ সুবিধার সব বিষয় চূড়ান্ত করা হচ্ছে, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জানতে পারবেন।’

বিদ্যুৎ খাতের সংকট প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, দেশে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, বাস্তবে বিদ্যুতের যে পরিস্থিতি রয়েছে, বিভিন্ন পরিসংখ্যানে তার চেয়েও বেশি সক্ষমতা দেখানো হচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন, পাওয়ার মিক্স ও এনার্জি মিক্স নিয়ে সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতের জ্বালানি ব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির পাশাপাশি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ থাকবে। দেশের কয়লা সম্পদ নিয়েও সরকার পর্যালোচনা করছে।তিনি বলেন, ‘তাই জ্বালানির একটি সমন্বিত মিশ্রণ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি।’

এই জ্বালানি সংমিশ্রণের কাঠামো মোটামুটিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে আমীর খসরু বলেন, যথাসময়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে।

 

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

মাছ চাষিদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৪:০৫, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

মাছ চাষিদের খুব শিগগির ‘কৃষি কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬’-এর উদ্বোধনকালে তিনি এ ঘোষণা দেন। 

‘রুপালি মৎস্যে স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মৎস্য খাতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশের মোট ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ‘জাতীয় মৎস্য পদক’ বিতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ১৬ লাখ নারীসহ মোট ২ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল।

তাই পরিকল্পিত ও যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হলে এই খাতে বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিদেশে রপ্তানি করে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। দেশের মৎস্যসম্পদ আরো বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। 

একই সঙ্গে জেলেদের সামাজিক সুরক্ষায় তাদের পরিচয়পত্র প্রদান এবং নিবন্ধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

অর্থনীতি এর আরও খবর