img

দেশে মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

প্রকাশিত :  ১০:৩০, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৫৬, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে মানুষের মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা

দেশের মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকারও বেশি বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ অর্থমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, ‘বর্তমানে দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ কত, ২০২৬ সালে কত ছিল এবং ঋণের বোঝা কমাতে সরকার কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে?’

জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ দশমিক ১৯ টাকা। সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ ব্যবস্থাপনাকে আরও সুশৃঙ্খল করার ওপর জোর দিচ্ছে সরকার।

এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ছয় ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে গত ৩০ জুনের হিসাব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসিএর খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেসিক ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮ হাজার ১৩১ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ২৮১ কোটি ৭৪ হাজার কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক পিএলসির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ হাজার টাকা।

img

ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করছে বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৫:৩০, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:৩৩, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রাহকের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ ও আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে আরও সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ঢাকা-৪ আসনের বিরোধী দলের জামায়াতে (ইসলামী) সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবেদীনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে গ্রাহকদের ধর্মীয় ও আর্থিক প্রয়োজন অনুযায়ী প্রচলিত এবং শরিয়াহভিত্তিক ইসলামী ব্যাংকিং সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ইসলামী অর্থব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক খাতকে অধিকতর সংযুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ইসলামী ব্যাংকগুলোকে মোট ১ হাজার ৬৯৯টি শাখার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১ হাজার ৭৪টি এবং গ্রামাঞ্চলে ৬২৫টি শাখা রয়েছে। এসব শাখার মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ৪০০টি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২২৬টি, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৪১টি, স্ট্যান্ডার্ড ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৩৮টি এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখা রয়েছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ৭৬১টি শাখার মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ২০৬টি, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১৮১টি, এক্সিম ব্যাংক পিএলসির ১৫৫টি, ইউনিয়ন ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১১৪টি এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসির ১০৫টি শাখা রয়েছে। এছাড়া আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের ৩৩টি শাখাও এর আওতায় রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ৩৫টি প্রচলিত (কনভেনশনাল) ব্যাংকে মোট ৭৫টি ইসলামী ব্যাংকিং শাখা এবং ১ হাজার ১০২টি ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডোর মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া আরও দুটি কনভেনশনাল ব্যাংককে ইসলামী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ডুয়াল ব্যাংকিং ব্যবস্থার পরিধি আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর