img

খিলক্ষেতে শিশু নিখোঁজ, রাত আড়াইটায় অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খিলক্ষেতে শিশু নিখোঁজ, রাত আড়াইটায় অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন

রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে মো. হাবিবুল্লাহ নাঈম নামে ১২ বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে খিলক্ষেতের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুড়িটোলা স্কুলরোড এলাকার ভাড়া বাসা থেকে সে রাগ করে বের হয়।

এরপর থেকে তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন শিশুটির মা মোছা. শরীফা খাতুন।

স্বজনরা জানান, নাঈমের বাবার নাম মো. বাবুল ইসলাম এবং মায়ের নাম মোছা. শরীফা খাতুন। তাদের গ্রামের বাড়ি নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার হাজনা নাটোর গ্রামে।

বর্তমানে তারা খিলক্ষেতের কুড়িটোলা স্কুল রোড এলাকায় বসবাস করেন।

নাঈমের চাচা ‎গোলাম হুসাইন বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৬ বছর বয়সী ছোট ভাই আদিলের সঙ্গে নাঈমের ঝগড়া হয়। এতে তার মা বকাঝকা করলে নাঈম রাগ করে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। এরপর ‎‎নাঈমকে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

এ সময় নাঈমের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। ‎‎এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় জিডি করা হয়েছে। এ ছাড়া এসআরবি (র‌্যাব) ও ডিবি পুলিশের কাছে উদ্ধারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

এসআরবির কাছে করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনে বলা হয়, নাঈম তাদের হেফাজতে আছে।

এ সময় ফোনে শিশুটির কান্নার শব্দ শোনা যায়। ফোনে নাঈমকে শারীরিক নির্যাতন করে একটি বাথরুমে আটকে রাখার কথা জানানো হয়। পরে ‘হাজি বাড়ি ক্যাম্প এলাকায়’ রয়েছে বলে অজ্ঞাত ব্যক্তি ফোনটি কেটে দেন। এরপর থেকে ওই নম্বরে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহরাব আল হোসাইন বলেন, থানায় জিডি হয়েছে। আমরা শিশুটিকে খোঁজে পাওয়ার জন্য কাজ করছি।

জাতীয় এর আরও খবর

img

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে মাথায় আঘাত করে হত্যা: পুলিশ

প্রকাশিত :  ০৯:৫৫, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

পুলিশ সুপার বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে  অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নিয়ে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিলে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করেন। একপর্যায়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত হলে আইফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান তারা

তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করতে আমরা জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে আমরা নিশ্চিত হই যে, ১৮ সেপ্টেম্বর ২টা থেকে সোয়া ২টার দিকে তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধারের পর আমরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখি ও পর্যালোচনা করি। এতে অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা তুহিনকে মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার আগেই আমরা হেফাজতে নেই।

কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, একটানা জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন আমাদের কাছে স্বীকার করে যে, অপ্রতীমের মোবাইল আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে সে তাকে ওই নির্জন ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। তুহিন আরও জানায়, এই ঘটনায় ফাহাদ এবং ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করি এবং ফাহাদকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কামরুলকে হেফাজতে নিই।

পুলিশ সুপার বলেন, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো মতে, প্রথমে সে আমাদের ভুল পথে পরিচালিত করেছিল। আইফোনটি উদ্ধারের জন্য আমরা তিন জায়গায় অভিযান পরিচালনা করি। কোথাও না পাওয়ার পর অবশেষে তার স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে তার বাসায় অভিযান পরিচালনা করি। সেখানে তার দেখানো স্থান থেকে আইফোনটি আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হই।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামক স্থানে চারপাশে পাহাড়ঘেরা নির্জন বনের ভেতরে অপ্রতীমের আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে অপ্রতীম বাধা দেয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময় প্রথমে তুহিন এবং পরবর্তীতে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। একপর্যায়ে অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হলে তুহিন অপ্রতীমের আইফোনটি নিয়ে ফাহাদ ও কামরুলসহ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ছাড়া আমরা সিয়াম নামে আরেকজনকে আটক করেছি। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছি।

জেলা পুলিশ সুপার বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে এই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য বিষয় এবং অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে যাচ্ছি। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুতই পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট বিজ্ঞ আদালতে দাখিল করা হবে। আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আবেদন রাখব, লামিসা হত্যার মামলাটি যেমন দ্রুত রায় এসেছে, এই মামলাটিও যেন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর