img

জাতিসংঘে ইরানকে দুটি প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৭:৩৮, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘে ইরানকে দুটি প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের সামনে দুটি ভিন্ন পথের প্রস্তাব দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করে পুনর্গঠনের সুযোগ, অন্যদিকে চুক্তি না হলে সম্ভাব্য ভয়াবহ সংঘাতের মুখে পড়ার সতর্কতা দিয়েছেন তিনি।

বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, ভাষণের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন। তাঁর দাবি, দেশটির বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অবস্থায় আছেন। চুক্তি না করলে ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি তাদেরকে এমন নরকে ঠেলে দেব, যেখান থেকে বেঁচে ফেরার সুযোগ থাকবে না?’ হুমকির সুরে এমন কথা বললেও পরে জানান, আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আছে বলে তিনি মনে করেন।

ভাষণে এরপর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তোলেন ট্রাম্প। বলেন, যুদ্ধ অবসানে নিকট ভবিষ্যতে মস্কো-কিয়েভের মধ্যে চুক্তি হতে পারে। আমরা দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। বিষয়টির সমাধান করব। মানুষ যতটা ধারণা করছে, তার চেয়েও দ্রুত সময়ে এটি ঘটবে।

আট যুদ্ধ বন্ধের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণের একাংশ নিজেদের লাইভ ব্লগে তুলে ধরেছে আল জাজিরা। যুদ্ধ বন্ধে নিজের চেষ্টার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন। এটি তাঁর কাছে অত্যন্ত সম্মানের বিষয়। অন্যরা যখন শুধু কথা বলে বেড়ায়, তখন তিনি শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছেন।

গত বছর জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার সময় সাতটি যুদ্ধ বন্ধের দাবি করেছিলেন ট্রাম্প। সেগুলো হলো আজারবাইজান-আর্মেনিয়া, কঙ্গো-রুয়ান্ডা, ভারত-পাকিস্তান, ইরান-ইসরায়েল, থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া, মিশর-ইথিওপিয়া এবং কসোভো-সার্বিয়া।

তাঁর দাবিগুলোর তখন ফ্যাক্ট চেক করেছিল দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। এক প্রতিবেদনে তারা লিখেছিল, ট্রাম্পের আহ্বানে দেশগুলো ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করলেও পরে আবার সংঘাতে জড়ায়। এছাড়া, ওই ঘোষণাপত্রগুলো কোনো শান্তি চুক্তি ছিল না। 

কিউবার ওয়াকআউট

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের পর ট্রাম্প কিউবার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি বলেন, দেশটির পরিস্থিতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে। এটি পুরোপুরি একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও বেশি ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তারা পতনের মুখে পড়বে।

ট্রাম্পের এমন কথার পর কিউবার প্রতিনিধিদল পরিষদ থেকে বেরিয়ে যান। তখন ট্রাম্প জানান, কিউবার বংশোদ্ভূত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দেশটির সঙ্গে আলোচনা করছেন। আমেরিকার দরজার পাশে দাঁড়িয়ে কোনো বিদেশি প্রতিপক্ষকে আমরা হুমকি হতে দেব না।

কৃত্রিম নয়, অতিবুদ্ধিমত্তা

ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর আন্তর্জাতিক তদারকির আহ্বান দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি এটিকে নতুন প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের একটি ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেন।

ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এখন থেকে মার্কিন সরকার তাদের যোগাযোগে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতিবুদ্ধিমত্তা শব্দ ব্যবহার করবে। বাকি বিশ্বও একই পথ অনুসরণ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জাতিসংঘে অবস্থানরত বিবিসির সাংবাদিক সারাহ স্মিথ গণমাধ্যমটির লাইভ ব্লগে লিখেছেন, ট্রাম্প তাঁর ভাষণে অর্থনীতি, অভিবাসন ও সীমান্ত পরিস্থিতিতে নিজের কর্মকাণ্ডের নানা দিক তুলে ধরেন। এমনভাবে নিজের সফলতার দাবি করেন, যা শুনে মনে হয় তিনি বিশ্বনেতাদের সামনে নয় বরং মার্কিন ভোটারদের সামনে কথা বলছেন।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ৩ ঘণ্টার বৈঠক: হরমুজ প্রণালি সচলে যে শর্ত দিল তেহরান

প্রকাশিত :  ১৪:১৫, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে পরোক্ষ বৈঠক হয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি মুখোমুখি হয়েছিলেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার মধ্যস্থতাকারীরা পুরো সময় ধরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বার্তা বিনিময় করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে উইটকফ বলেন, ‘জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ বৈঠকের ফাঁকে আমরা মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছি। তারা (মধ্যস্থতাকারী) দিনজুড়ে দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করেছেন।’

উইটকফ আরও লিখেছেন, ‘তারা সফলভাবে এক দফা আলোচনা শেষ করেছেন। আমরা আশা করি, এটি গঠনমূলক ও আশাব্যঞ্জক হবে। মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য আরও সরাসরি বক্তব্য দিয়েছেন। জাতিসংঘে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিন ঘণ্টা বৈঠক করেছেন। তাদের খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। খুব ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। এতে চুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার গতি এসেছে বলে তিনি মনে করেন।

হোয়াইট হাউসের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি কিম্বার্লি হ্যালকেট জানিয়েছেন, ট্রাম্প বৈঠকে ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে উইটকফ ও কুশনার প্রতিনিধিত্ব করেন।

তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানান, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে উইটকফের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ছিল না। এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বৈঠকটি হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বার্তা ও শর্তগুলো জানা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি খোলার বিষয়ে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের দেওয়া শর্তের মধ্যে আছে- যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া, আটকে রাখা ইরানি সম্পদ ছাড় এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

এই বৈঠকের আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র। তিনি জানিয়েছিলেন, কূটনীতি এগিয়ে নেওয়ার জন্য নিউইয়র্কে থাকা প্রতিনিধিদলের পূর্ণ ক্ষমতা আছে। আলোচনায় ফেরার জন্য এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন একটি স্বর্ণালী সুযোগ।

রয়টার্সকে ওই সূত্র জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ১৬ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনের কাছে একটি প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। যুদ্ধ বন্ধে সম্ভাব্য একটি চুক্তির বিস্তারিত নানা দিক নিয়ে নিউইয়র্কে আলোচনা হতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিলে ইরান সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পারে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর