img

টয়লেটে প্রসবের পরপরই জানালা দিয়ে নবজাতককে ফেলে দিলেন কিশোরী মা, মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশিত :  ০৮:১৯, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

টয়লেটে প্রসবের পরপরই জানালা দিয়ে নবজাতককে ফেলে দিলেন কিশোরী মা, মর্মান্তিক মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলায় একটি বেসরকারি নার্সিংহোমের টয়লেটে সন্তান জন্ম দেওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নবজাতককে জানালা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে। মাটিতে পড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সদ্যোজাত কন্যাশিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে হুগলির উত্তরপাড়া পুরসভা এলাকার একটি নার্সিংহোমে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় পুলিশ।

উত্তরপাড়া থানার এক জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাতে তীব্র পেটে ব্যথার কথা জানালে পরিবারের সদস্যরা ওই কিশোরীকে উত্তরপাড়া পুরসভা পরিচালিত নার্সিংহোমে এনে ভর্তি করান। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শনিবার সকালে পেটের ব্যথা মারাত্মক আকার ধারণ করলে সে নিজে হেঁটে টয়লেটে যায়। সেখানে কারও কোনো ধরনের সহায়তা ছাড়াই সে এক কন্যাশিশুর জন্ম দেয়। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রসবের পরপরই নবজাতকটিকে টয়লেটের জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয় ওই কিশোরী।

ঘটনার কিছু সময় পর নার্সিংহোমের বাইরে রক্তাক্ত অবস্থায় নবজাতকটিকে পড়ে থাকতে দেখেন এক পথচারী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে একজন নার্স দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে ভেতরে নিয়ে এলেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা ছিল—এমন তথ্য তাদের জানা ছিল না বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছে তার পরিবার। পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, পরিবারটি কেবল সাধারণ পেটে ব্যথার চিকিৎসা করানোর উদ্দেশ্যেই তাকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিল বলে দাবি করছে। তবে তাদের এই দাবির সত্যতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ প্রশাসন।

নার্সিংহোমের মালিক সুচেতা মুখোপাধ্যায় গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, শুক্রবার গভীর রাতে ওই কিশোরীকে ভর্তি করা হয়েছিল এবং শনিবার সকালে তার রক্ত পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

তিনি বলেন, ‘শনিবার সকালে পেটের ব্যথা তীব্র হলে সে নিজেই হেঁটে টয়লেটে যায়। সেখানে কারও কোনো সাহায্য ছাড়াই সে সন্তান প্রসব করে এবং প্রসবের পরই নবজাতকটিকে জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দেয়।’ সুচেতা মুখোপাধ্যায়ের আরও দাবি, রোগী ভর্তির সময় নার্সিংহোমের কর্মীরা পরিবারের সদস্যদের কাছে মেয়েটি গর্ভবতী কি না সে বিষয়ে বারবার জানতে চেয়েছিলেন, তবে স্বজনেরা বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছিলেন।

মেয়ের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়ে পরিবারের অজ্ঞতার দাবি পুনর্ব্যক্ত করে কিশোরীর মা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মেয়ে যে গর্ভবতী ছিল, সে বিষয়ে আমাদের বিন্দুমাত্র ধারণা ছিল না। গত সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটে ব্যথার কথা বলায় আমরা তাকে নার্সিংহোমে এনে ভর্তি করি। আজ সকালে হাসপাতাল থেকে ফোন পাওয়ার পরই আমরা পুরো ঘটনাটি জানতে পারি।’

ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিয়ে সব দিক থেকে তদন্ত শুরু করেছে উত্তরপাড়া থানা পুলিশ। তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঠিক কী পরিস্থিতিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখে উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে নার্সিংহোমের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কিশোরীর বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মৃত নবজাতকের মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে নার্সিংহোমটিতে এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয় বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শঙ্খ শুভ্র ব্যানার্জি নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা দাবি করেন, এ ধরনের ঘটনা ওই চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়মিতই ঘটে থাকে এবং এর আগেও নার্সিংহোম চত্বর থেকে একটি ভ্রূণ উদ্ধার করা হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নেতানিয়াহু বাদ, ইসরায়েলের সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

প্রকাশিত :  ০৪:২৮, ০৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসরায়েলের বিরোধীদল ইয়াশারের নেতা গাদি আইজেনকট পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির । বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাশ কাটিয়ে সাবেক সেনাপ্রধানকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ।

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আইজেনকটকে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানান হারজগ। রোববার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে সরকার গঠনের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।

গত ২৭ অক্টোবরের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে চলতি সপ্তাহে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করেন হারজগ।

এতে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সংসদ সদস্যসহ মোট ৬৭ জন আইনপ্রণেতা পরবর্তী সরকার গঠনের জন্য আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানান। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সমর্থন দেন ৪৬ জন। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন পাওয়ায় আইজেনকটকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।

ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

সরকার গঠনের জন্য আইজেনকট ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

অক্টোবরের নির্বাচনে চার দলের জোট নিয়ে আইজেনকটের পক্ষ ৪৮টি আসন পায়। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোট পায় ৫৩টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসন পায়নি। এ নির্বাচনে ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো রেকর্ড ১৯টি আসন পেয়েছে।

তবে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন আইজেনকট। ওই দলগুলোর সমর্থন পেলে তার জোটের আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ৬৭। এ ছাড়া কট্টর ইহুদিদের দল ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজম ও শাসকে পাশে পেলে ঠিক ৬১টি আসনের সমর্থন পাবেন তিনি।

অবশ্য পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে জয়ী হতে পারলে ৬১ আসনের সমর্থন ছাড়াও সরকার গঠন করতে পারবেন আইজেনকট।

আল-জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ থেকে জানান, প্রেসিডেন্ট হারজগের সিদ্ধান্ত ছিল প্রত্যাশিত। কারণ, সরকার গঠনের জন্য সবচেয়ে বেশি আইনপ্রণেতার সুপারিশ পেয়েছিলেন আইজেনকট।

ওদেহ বলেন, এখন আইজেনকটের সামনে কঠিন কাজ হলো এমন একটি সরকার গঠন করা, যা একদিকে নির্বাচনি প্রচারের সময় দেওয়া তার প্রতিশ্রুতিগুলোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে না, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোটের বিরোধিতাও মোকাবিলা করতে পারবে।

আইজেনকট নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য একজনকে দায়িত্ব দেবেন। দ্বিতীয় মনোনীত প্রার্থীও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা তৃতীয় কাউকে সমর্থন করতে পারবেন। তাকে সরকার গঠনের জন্য শেষবারের মতো ১৪ দিন সময় দেওয়া হবে। এরপরও সরকার গঠন সম্ভব না হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন নেতানিয়াহু।

২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের সেনাপ্রধান ছিলেন আইজেনকট। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর প্রথম আট মাস নেতানিয়াহুর যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় পর্যবেক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

শনিবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর জোট জয়েন্ট লিস্টের জ্যেষ্ঠ সদস্য আহমদ তিবি বলেন, হারজগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিতই ছিল। তবে আইজেনকট ও নেতানিয়াহুর মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন ছিলেন।

তিবি বলেন, শেষ পর্যন্ত আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো আইজেনকটের প্রতি সমর্থন জানানোয় তিনি সরকার গঠনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পেয়েছেন। তার ধারণা, আরব দলগুলোর বাইরে থেকে পাওয়া সমর্থনে আইজেনকট একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠন করতে পারেন।

সূত্র : আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর