img

পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

প্রকাশিত :  ০৫:৪২, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

পুরো ইরানকে ‘ধ্বংস’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন । এ ক্ষেত্রে ইরানের ‘বাকি অংশও ধ্বংস করে দিতে হতে পারে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর আগে ট্রাম্প প্রশাসন কতটা স্বাধীনভাবে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় যুদ্ধ পরিচালনায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি বাড়াতে পারে। তবে কয়েকজন বিশ্লেষকের আশঙ্কা, নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্প সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক অতিথি মন্তব্য করেছেন, আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগের প্রায় দুই মাসের মধ্যে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারেন ট্রাম্প। তবে অন্য বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেই যে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যেও এক ধরনের অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। একদিকে তিনি সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত দিচ্ছেন, অন্যদিকে বড় ধরনের নতুন হামলার তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আপাতত বড় ধরনের আরেকটি হামলার পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তার ভাষায়, ‘প্রয়োজন হলে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

পলিটিকোকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে যুদ্ধেরও একটি ভূমিকা ছিল।

তবে ফক্স নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের কারণ হিসেবে যুদ্ধের চেয়ে জ্বালানি তেলের দামকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর কারণ পেট্রলের দাম।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

টাইমস অব ইসরায়েলের বিশ্লেষণ

img

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে শেষের পথে ইরান যুদ্ধ, ইসরায়েল নীতিতেও পরিবর্তন

প্রকাশিত :  ১২:০১, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ইরান যুদ্ধ বন্ধ এবং ইসরায়েলের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতি পরিবর্তনের চাপ বাড়তে যাচ্ছে। এর ফলে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক বড় সংকটে পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ইরান যুদ্ধের ব্যয় বন্ধ করা এবং ইসরায়েলের সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

মঙ্গলবারের নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, বছরের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ হয়ে যাবে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর তিনি স্বীকার করেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং এর কারণে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মার্কিন জনগণের অসন্তোষ এ ফলাফলের অন্যতম কারণ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পেছনে ভূমিকা রাখা কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

ইসরায়েলের পশ্চিম তীর ও গাজা নীতি নিয়ে নিষেধাজ্ঞার আইন আনার আগে ইরান যুদ্ধ বন্ধ করাকেই অগ্রাধিকার দিতে চান ডেমোক্র্যাটরা। সম্ভাব্য পরবর্তী সিনেট সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা চাক শুমার বলেছেন, কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দের ক্ষমতা ব্যবহার করে এ লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করবেন তারা।

ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেস অতীতে যে কৌশল নিয়েছিল, ডেমোক্র্যাটরা এবারও তা অনুসরণ করতে পারেন। সরকারি কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় পরবর্তী অর্থায়ন বিলে ইরানের উপকূলের কাছে মার্কিন সামরিক অভিযানে অর্থ বরাদ্দ বন্ধের শর্ত যুক্ত করা হতে পারে। ট্রাম্প বিলে স্বাক্ষর না করলে সরকারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে, যার দায় তার ওপর পড়তে পারে।

তাই ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরুর আগেই ট্রাম্পকে যুদ্ধ গুটিয়ে নেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। তবে যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও নির্বাচনী ফল ইরানকে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করতে পারে। কারণ, মার্কিন জনগণের মধ্যে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব বেড়েছে; এটি বুঝে তেহরান সমঝোতায় ছাড় দিতে অনাগ্রহী হতে পারে।

ইসরায়েলকে বছরে ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি সমঝোতা রয়েছে, যা ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। তবে প্রতিবছর এ অর্থ কংগ্রেসের অনুমোদন নিয়ে বরাদ্দ করতে হয়। ফলে ডেমোক্র্যাটরা চাইলে আগামী বছর থেকেই সহায়তা বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারেন।

গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনার জন্য ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর অর্থায়ন নিয়েও কংগ্রেসে আপত্তি উঠতে পারে। এ বোর্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী জ্যারেড কুশনারের ব্যবসায়িক সম্পর্ক নিয়ে তদন্তের দাবি তুলেছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা। তদন্ত ও অর্থায়ন নিয়ে জটিলতা তৈরি হলে গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্গঠনে নতুন সরকারের প্রতিনিধিদের দেশটির বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, ইসরায়েলের সমালোচকদের সবাই দেশটির বিরোধী নন; তাদের অনেকেই বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও নেতানিয়াহু সরকারের নীতির বিরোধিতা করছেন।

তবে নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য ব্র্যাড ল্যান্ডার লাপিদের প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, মার্কিন ভোটাররা শুধু আলোচনাসফর চান না, তারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান দেখতে চান। মিশিগানের ডেমোক্র্যাট নেতা জর্ডান অ্যাকারও বলেছেন, ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে সাধারণ মার্কিন ভোটারদের ক্ষোভ ইসরায়েলিরা ঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন না।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান শাপিরোর মতে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতায় রেখে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করলে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন আসবে না। তার মতে, নেতানিয়াহু শুধু ডেমোক্র্যাটদের নয়, অনেক রিপাবলিকানের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছেন। সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত ইসরায়েলের নেতৃত্বে নতুন মুখ আনা।

বিশ্লেষক জোয়েল ব্রাউনল্ডের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের মধ্যেই ইসরায়েলের বর্তমান নীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ডেমোক্র্যাটরা জানতে চায়, ইসরায়েল কোন মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়াচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি কতটা শ্রদ্ধাশীল।

অন্যদিকে ভ্যান্সের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইরান, লেবানন, সিরিয়া, গাজা কিংবা পশ্চিম তীর কোনো ক্ষেত্রেই ইসরায়েল যেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির জন্য বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। ফলে শুধু প্রধানমন্ত্রী পরিবর্তন নয়, ইসরায়েলের সামগ্রিক নীতিতেও বড় পরিবর্তনের চাপ তৈরি হতে পারে।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর