img

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ও ঘাঁটিগুলোর ধ্বংসচিত্র প্রকাশ্যে

প্রকাশিত :  ০৫:৪০, ০১ নভেম্বর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ও ঘাঁটিগুলোর ধ্বংসচিত্র প্রকাশ্যে

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডজনের বেশি সামরিক ঘাঁটিতে হামলার সময় ইরান প্রথমে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও আগাম সতর্কীকরণ রাডারকে লক্ষ্যবস্তু করে। এসব ব্যবস্থা ধ্বংস বা অকার্যকর করার পর বিমান, সামরিক সরঞ্জাম, গুদাম ও সেনাদের আবাসনসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় কয়েকশ ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ ও আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য উঠে এসেছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতি স্বাধীনভাবে যাচাই করেছে এপি। পাশাপাশি হামলায় কী কী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে অবগত বা সরাসরি তথ্য জানা চার আঞ্চলিক কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা বলেছে সংস্থাটি।

এপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত ইরান বা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ১১৫টির বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দায় স্বীকার করেছে। এসব হামলায় ২৬টি সামরিক ঘাঁটি ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম থাকা অন্যান্য স্থাপনার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

হামলার শুরুতে ইরান বিমান রাখার হ্যাঙ্গার এবং শত্রুপক্ষের হামলা শনাক্ত করার ব্যবস্থাগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়। এরপর গুদাম, সেনাদের আবাসন ও ঘাঁটির অন্যান্য স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে।

দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাদের অনেক সামরিক সরঞ্জাম সরিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, যোগাযোগ সরঞ্জাম এবং সামরিক ঘাঁটির কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণ। একজন কর্মকর্তা জানান, এসব সরঞ্জামের অনেকগুলোই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে নতুন করে হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। অন্যদিকে তেহরানও বড় ধরনের পাল্টা আঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কতটা কার্যকর, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আবার সংঘাত শুরু হলে ঘাঁটিগুলোতে আরও ব্যয়বহুল ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধ শেষে যুক্তরাষ্ট্র এসব ঘাঁটি ও সরঞ্জাম পুনর্গঠন করবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এপির বিশ্লেষণে যুদ্ধের আট মাসে ইরানের পাল্টা হামলার কৌশল এবং মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র উঠে এসেছে। পেন্টাগনের মহাপরিদর্শকের দপ্তরসহ বিভিন্ন স্বাধীন পর্যালোচনায় প্রকাশিত তথ্যের বাইরেও এতে নতুন কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুনের মধ্যে ইরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে শত শত ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

সংঘাতে হতাহত ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও সামরিক বাহিনী খুব কম তথ্য প্রকাশ করেছে। এমনকি স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশে বিলম্বের মতো পদক্ষেপের কারণে বাইরের পক্ষের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতি পর্যালোচনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে এ ধরনের বিশ্লেষণই সংঘাতের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়ার অন্যতম উপায় হয়ে উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ঘাঁটি ও সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে মন্তব্য করতে বা বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সাধারণত এ ক্ষেত্রে তারা সামরিক কার্যক্রমের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করে থাকে। এ প্রতিবেদন নিয়েও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ইরানের হামলার সবচেয়ে বেশি শিকার হয়েছে কুয়েতের মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো। এ ছাড়া বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন স্থাপনাগুলোও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

ইরান যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন সেনাদের ওপর সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনাটি ঘটে কুয়েতে। ১ মার্চ পোর্ট শুয়াইবা বন্দরে ড্রোন হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন।

কুয়েতের আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে অন্তত ৩০ বার হামলা চালানো হয়েছে। এতে অন্তত ১৫টি বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, বেশ কয়েকটি গুদাম এবং আবাসিক এলাকার কাছের ১০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।

কুয়েতের আরেকটি মার্কিন ঘাঁটি ক্যাম্প বুহরিংয়ে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল আরও বেশি। ইরানের হামলায় ঘাঁটির অধিকাংশ হ্যাঙ্গার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সেখানে যুদ্ধবিমানের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকায় সেনাদের সমাবেশ ও বিনোদনের স্থানগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চে ঘাঁটির জিমনেসিয়াম ধ্বংস হয়। জুলাইয়ের শেষ দিকে সেনাদের কেনাকাটার জন্য থাকা একটি দোকানেও হামলা হয়।

ওই দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলায় ঘাঁটির গাড়ি রাখার গ্যারেজ ও খাবার ঘরও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের কারণে নাম গোপন রাখার শর্তে তারা এপিকে এসব তথ্য দেন। তাদের সঙ্গে কথা বলা অন্য দুজনও আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি হলেও মার্কিন বাহিনীর সরঞ্জাম হারানো ছিল অনিবার্য বলে মনে করেন র‌্যান্ড স্কুল অব পাবলিক পলিসির জাতীয় নিরাপত্তা কর্মসূচির পরিচালক রাফায়েল কোহেন। তার মতে, আধুনিক যুদ্ধের ধরন এমন যে তুলনামূলক কম খরচের বড় পরিসরের ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে সব দেশের সামরিক বাহিনীই রয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সতর্কবার্তা হওয়া উচিত।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরান প্রথমে শত্রুপক্ষের হামলা শনাক্ত ও প্রতিহত করার ব্যবস্থাগুলোতে নির্ভুল হামলা চালায়। এরপর মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে কার্যকর ও বসবাসের উপযোগী রাখে; এমন ভবন ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে হামলার পরিধি বাড়ায়।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দুই দিনের মধ্যেই কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজান এবং বাহরাইনের নৌ-সহায়তা কার্যক্রমের স্থাপনায় মার্কিন রাডার সুরক্ষায় ব্যবহৃত কাঠামো ধ্বংস করে ইরান। এ ছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে থাকা বহনযোগ্য রাডারেও হামলা চালানো হয়।

প্রযুক্তিগত গোয়েন্দা পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্মামেন্ট রিসার্চ সার্ভিসেসের পরিচালক এন আর জেনজেন-জোনস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত আগাম সতর্কীকরণ রাডারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে লক্ষ্যবস্তু করেছিল ইরান। এসব রাডার মেরামত বা প্রতিস্থাপন করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল।

জর্ডানে একটি রাডারে হামলা চালিয়ে সেটি ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রেথিয়নের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে এ ধরনের রাডার রয়েছে মাত্র ১৩টি। বাজেটসংক্রান্ত নথিতে প্রতিটির দাম প্রায় ৫০ কোটি ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কাতারে থাকা আরেকটি রাডারও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে সেটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। ২০১৩ সালে ১১০ কোটি ডলারের একটি চুক্তির আওতায় উপসাগরীয় দেশটি রাডারটি কিনেছিল। ওই অঞ্চলে এ ধরনের এটিই একমাত্র রাডার বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেনজেন-জোনসের মতে, এসব স্থাপনায় হামলার উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পরবর্তী হামলা প্রতিহত করার সক্ষমতা ব্যাহত ও দুর্বল করে দেওয়া।

রাডারগুলোতে হামলার পর যুদ্ধের প্রথম মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম থাকা ১৮টি স্থাপনায় ৫০টির বেশি সফল হামলা চালায় ইরান। এসব হামলায় বিমান রাখার এলাকাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।

দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা জানান, বিভিন্ন ঘাঁটিতে হামলায় জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, যোগাযোগব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং সেনাদের আবাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি নজরদারি বিমানের পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের একটি সিআইএ ইউনিটেও হামলা হয়।

সম্প্রতি সৌদি বিমানঘাঁটিটি পরিদর্শন করা আরেক আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা গেছে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিল ধ্বংসাবশেষ ও ভাঙা নির্মাণসামগ্রী। বোমার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যারাক ও খাবার ঘরসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও তিনি দেখেছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, নজরদারি বিমানটিতে আঘাত হানা হামলায় আরও কয়েকটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী দুটি ট্যাংকার বিমানও ছিল। অক্টোবরে হালনাগাদ করা মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে মোট ১৫টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত আল ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও যুদ্ধের শুরুর দিকে ঘন ঘন হামলা চালানো হয়। ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে সরাসরি জানা আরেক আঞ্চলিক সামরিক কর্মকর্তা জানান, সেখানে বিমান রাখার হ্যাঙ্গারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে আগাম সতর্কীকরণ রাডার ও নজরদারি ড্রোনের মতো সামরিক সরঞ্জামেও আঘাত হানা হয়েছে।

সূত্র : অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

তৃতীয় দেশে ইউরেনিয়াম সরানোর প্রস্তাব, হরমুজ প্রণালি খুলতে চায় ইরান

প্রকাশিত :  ০৯:৪২, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রাথমিক কাঠামোয় তেহরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা কমানো এবং প্রাথমিক সমঝোতা সম্পন্ন হওয়ার সাত দিনের মধ্যে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল আরাবিয়া ইংলিশের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য সমঝোতার খসড়া কাঠামোয় ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তৃতীয় কোনো দেশে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়ন ও তা দীর্ঘস্থায়ী করতে নিশ্চয়তাদাতা পক্ষ হিসেবে চীনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি আলোচনা ইস্তাম্বুলের পরিবর্তে কাতারের রাজধানী দোহায় আয়োজনের প্রস্তাবও রয়েছে।

প্রস্তাবিত সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে সম্মত হলে দেশটির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ শিথিল করবে যুক্তরাষ্ট্র।

চুক্তির শর্তগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ও যাচাইব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোনো পক্ষ চুক্তি বাস্তবায়নে বিলম্ব করলে বা শর্ত লঙ্ঘন করলে তা সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতা পক্ষগুলোর সমন্বয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোও এ ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে কাতারের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে তেহরানে অবস্থান করছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি শুক্রবার সকালে তেহরানে পৌঁছায়। ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করেই তাদের এ সফর।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে মার্কিন সামরিক হামলা এড়াতে কূটনৈতিক আলোচনার পথ তৈরির প্রস্তাবসংবলিত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের একটি চিঠি ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কাতারের দূতেরা।

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আলোচনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আলোচনা চলছে। তারা কথা বলতে চায়। তারা আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’

ইরানের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটি তাদের সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বেতন দিতে পারছে না। তারা বড় ধরনের সংকটের মধ্যে রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে যথেষ্ট সময় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘এটি একটি যুদ্ধ, তবে প্রচলিত ধরনের যুদ্ধ নয়; আমরা সেখানে সাত মাস ধরে রয়েছি।’


 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর