img

বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন

প্রকাশিত :  ০৬:১৬, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতন

বিশ্ববাজারে টানা বাড়ার পর এবার কমেছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার (২৬ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। তবে সৌদি আরবে হুথিদের অব্যাহত হামলার কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩২ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ১৪ সেন্ট বা ২ দশমিক ০৭ শতাংশ কমে। এতে ১০১ ডলার ১৩ সেন্টে নেমে আসে তেলের দামে। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ ডলার ১২ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলার ৬০ সেন্টে দাঁড়ায়।

গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ দামের কাছাকাছি পৌঁছেছিল তেল। শুক্রবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় সেদিন তেলের দাম প্রায় ৩ ডলার বেড়ে যায়। পুরো সপ্তাহে ব্রেন্টের দাম ৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছিল।

সপ্তাহান্তেও হামলা অব্যাহত ছিল। শনিবার সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করে হুথিরা। রোববার সৌদি আরব জানায়, তারা আরও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। এর আগে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া দেশটির প্রধান বিমানবন্দরে রোববার আংশিক কার্যক্রমও শুরু হয়। তবে ওই স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।

এদিকে আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল করতে ২০২৭ সালের দ্বিতীয়ার্ধ থেকে সিঙ্গাপুরে অপরিশোধিত তেল মজুতের পরিকল্পনা করেছে সৌদি আরব। সোমবার দুই দেশের জ্বালানিমন্ত্রীরা এ তথ্য জানান।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, লুইজিয়ানার একটি তেল শোধনাগারে সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব মোকাবিলায় দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ৪ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

রিয়াদ বিমানবন্দরে আবারও হামলা, পাল্টা পদক্ষেপ সৌদি জোটের

প্রকাশিত :  ০৬:৫৪, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে নিখুঁত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছে। এছাড়াও দেশটির পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি অপরিশোধিত তেল পাম্পিং স্টেশনে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। 

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় জোরালো সামরিক অভিযান চালিয়ে হুতিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ মঞ্চ ধ্বংস করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানান, এর মধ্যে একটি লঞ্চার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল এবং হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র নেটওয়ার্ক পুরোপুরি ধ্বংস করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সৌদি জোটের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, হুতিদের হুমকি নিষ্ক্রিয় করতে ইয়েমেনে তাদের রদবদল ও রসদ সরবরাহের পথ বন্ধের উদ্দেশ্যে পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণ সুড়ঙ্গ, চারটি লঞ্চার এবং একটি অস্ত্রাগারে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া হুতিদের সামনের সারির সামরিক সরঞ্জাম ও ঘাঁটিগুলোকেও নিশানা করেছে জোট বাহিনী।

হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আরও দাবি করেন, সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটি ও জাজানের একটি নৌঘাঁটিতে আক্রমণের পাশাপাশি ইয়েমেনের এডেন গভর্নরেটের সালাহ আল-দিন এবং লাহিজের আল-ওয়াহাত এলাকায় প্রতিপক্ষ সামরিক বাহিনীর অবস্থান ও অস্ত্রাগারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে তারা। 

বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় হোদেইদাহ, লাহিজ, আমরান, সাআদা, আল-জাউফ, তাইজ ও ইব্বসহ ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে অন্তত ৫৬টি বিমান হামলা চালানোর জন্য সৌদি জোটকে অভিযুক্ত করেছে হুতিরা।

সূত্র: আল জাজিরা