img

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করেন নেতানিয়াহু, ভেস্তে দেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৬:৫৯, ২১ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে নতুন হামলার পরিকল্পনা করেন নেতানিয়াহু, ভেস্তে দেন ট্রাম্প

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু চলতি মাসের শুরুতে ইরানে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন । তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সংঘাত পুনরায় শুরু করার বিরোধিতা করে হামলার পরিকল্পনা ভেস্তে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তির বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর হামলার জন্য প্রস্তুত ছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, শাসনব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলোর দাবি, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে সংঘাত নতুন করে শুরু করতে চাননি ট্রাম্প। এ কারণে হামলার পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হয়নি।

সূত্রগুলোর মতে, পরিকল্পিত হামলা গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো হামলার চেয়েও তীব্র হতে পারত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিকল্পিত হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও অংশ নিত কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে একটি সূত্র সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়া অযৌক্তিক কোনো পরিস্থিতি নয়।

আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, ইসরায়েল নতুন করে লক্ষ্যবস্তুর একটি তালিকা তৈরি করেছে। এতে এমন কিছু বেসামরিক অবকাঠামোও রয়েছে, যেগুলোতে আগে হামলা চালানো হয়নি।

অন্য এক সূত্রের মতে, চলতি মাসের শুরুতে আইডিএফের হামলার পরিকল্পনা ইরানের সঙ্গে আলোচনায় চাপ তৈরির কৌশল হিসেবেও নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে সংঘাত পুনরায় শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতেই ছিল বলে উল্লেখ করেছে সূত্রটি। তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন কোনো মন্তব্য করেনি।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যার দুই দিন আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের গোপনে ইসরায়েল সফরের খবর সামনে আসে। ওই সফরে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি অঞ্চলটির হুমকি নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতানিয়াহুর ইরানে হামলা চালানোর চাপ দেওয়ার খবর এটাই প্রথম নয়। গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা চালাবে না। এর কয়েক দিন আগে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামির তার মার্কিন সমকক্ষদের জানিয়েছিলেন, ইরানে হামলা চালানো হলে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে।

যদিও জেরুজালেমের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে জবাবে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে পারে তেহরান।

সূত্র : ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস


img

পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখাটা জরুরি: নয়াদিল্লিকে রুবিও

প্রকাশিত :  ০৮:০৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ প্রশমিত করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কখনোই ভারতের স্বার্থের বিনিময়ে হবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রুবিও বলেন, সত্তরের দশকের নিক্সন-কিসিঞ্জার আমলের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনা করা ঠিক হবে না, কারণ তখন থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রিচার্ড নিক্সনের প্রেসিডেন্সির সময় এবং হেনরি কিসিঞ্জার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকে পড়েছিল।

রুবিও বলেন, ‘আমি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭০-এর দশককে টানব না, কারণ বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে সেই সময়ের কোনো মিল নেই। সে সময় আমাদের কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধসহ নানা সমীকরণ ছিল, যা এখন আর অস্তিত্বে নেই।’

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক থাকুক না কেন, তা কোনোভাবেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের মূল্যে বা ক্ষতির বিনিময়ে হবে না... ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আশা করি আমার এই সফর, বাণিজ্য চুক্তি করার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি, আমাদের যৌথ কূটনৈতিক কার্যক্রম এবং একসঙ্গে করা যাবতীয় কাজই এর বড় প্রমাণ।’

রুবিও জানান, ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগের ফলে এমন একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা ভারতকে উদ্বিগ্ন করে—এমন পদক্ষেপগুলোকে ‘নিরুৎসাহিত’ করতে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্পর্ক রাখাটা জরুরি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা যদি ইতিবাচক উপায়ে আমাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নিরুৎসাহিত করতে পারি যা সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তবে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।’

বর্তমানে দুই দিনের ভারত সফরে থাকা মার্কো রুবিও ইউক্রেনে রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার কথাও স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো বেশ জটিল এবং এটি যদি সমাধান করা সহজ কোনো যুদ্ধ হতো, তবে অনেক আগেই এর সমাধান হয়ে যেত।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর