প্রকাশিত :
০৫:১৫, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ০৫:১৭, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরের কাছে ভক্তদের ভিড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক উঠে গেলে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩০ জন।
শনিবার গভীর রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
গোয়ালিয়রের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ (এসএসপি) ধর্মবীর সিং জানান, শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ছিনোর দিক থেকে আসা ধানবোঝাই একটি ভারী ট্রাক নির্ধারিত ঢাল বেয়ে নেমে আসার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। ভারী যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ট্রাকটি পুলিশের ব্যারিকেড ও চেকপোস্ট ভেঙে রাস্তায় থাকা ভক্তদের পিষে দিয়ে শীতলা মাতা মন্দিরের মূল গেট ও প্রাচীর ভেঙে ঢুকে পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নবরাত্রি উপলক্ষে ওই এলাকায় ভক্তদের ভিড় ছিল।
দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অনেকে হতাহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
গোয়ালিয়র কালেক্টর রুচিকা চৌহান জানান, দুর্ঘটনায় আহত ৩৯ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত ৫ থেকে ৬ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং বাকিরা সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ছাড়া ডিউটিরত দুই পুলিশ সদস্যও এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নুডলস খেয়ে নয়, একই পরিবারের ৫ মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ
প্রকাশিত :
০৯:৩৬, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে খাবারে বিষ মিশিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রোববার পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), তাদের সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল আটটার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এই পাঁচজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাত আনুমানিক দশটার দিকে বাড়ি ফিরে রাতের খাবারে নুডলস খান তারা। ঘটনার শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে পুলিশ সূত্রের দাবি, গৃহকর্তা মহেশ নিজেই সম্ভবত রাতের খাবারের সেই নুডলসে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়েছিলেন।
তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মহেশের মুঠোফোন থেকে একটি অডিও নোট বা অডিও বার্তা উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, ওই অডিও বার্তায় পরিবারের এই করুণ পরিণতির জন্য মহেশ তার দুই বোন এবং এক ভগ্নিপতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে মহেশের সেই দুই বোন ও ভগ্নিপতিকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) নীরজ এনডিটিভিকে জানান, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তার নিজের স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মহেশ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবার আবার একসঙ্গেই বসবাস করবে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে এটি স্বাভাবিক খাদ্য বিষক্রিয়া নয়, বরং খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ঘটনাই বেশি স্পষ্ট। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, তাদের বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেটসহ খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করেছে, তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি।
কর্মকর্তা ওপি সিং বলেন, ‘দৃশ্যত এটি কোনো ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা নয়। আমাদের সন্দেহ, খাবারের সঙ্গে কোনো তীব্র বিষাক্ত পদার্থ বা বিষ মেশানো হয়েছিল।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত ফুড পয়জনিং হলে বমি বা ডায়রিয়ার মতো যেসব শারীরিক উপসর্গ দেখা যায়, নিহতদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো আলামতের তথ্য মেলেনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে শিশুদের মধ্যে একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল। পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্ত চলছে।