img

‘চলুন, ফ্রান্সের বিপ্লবে যোগ দিই’— নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৯:১১, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

‘চলুন, ফ্রান্সের বিপ্লবে যোগ দিই’— নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সজুড়ে সহিংস বিক্ষোভ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দেশটিকে ‘বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত জায়গা’ বলে উপহাস করেছেন । এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘চলুন, ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’

এক প্রতিবেদনে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। 

উত্তাল ফ্রান্সের এই পরিস্থিতি নিয়েই ব্যঙ্গ করে ট্রাম্প বলেন, ‘চলুন ফ্রান্সে যাই? জায়গাটা চমৎকার। সেখানে কোনো দাঙ্গা নেই, কোনো বিপ্লব নেই। জানেন, বিপ্লবের জন্য ফ্রান্স যেন একেবারে আদর্শ জায়গা। এটা অবিশ্বাস্য! চলুন ফ্রান্সে গিয়ে বিপ্লবে যোগ দিই।’

এ ছাগা যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ফ্রান্সের সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে বলেন, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলো অভিবাসীদের সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সাংস্কৃতিক সামঞ্জস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স লেখেন, ‘বৈচিত্র্য ও সহমর্মিতার নামে পশ্চিমা উদারপন্থিরা তৃতীয় বিশ্বের মানুষকে ফ্রান্সসহ অন্যান্য দেশে নিয়ে এসেছে। তারা 

সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং সামঞ্জস্যের মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছেন।’

তিনি আরও লেখেন, ‘তাদের সতর্ক করা হয়েছিল যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, কিন্তু তারা শোনেননি। আমি প্রার্থনা করি, অসাধারণ মানুষের সুন্দর দেশ ফ্রান্স যেন আরও ঐতিহাসিক স্থাপনা পুড়ে যাওয়ার আগেই এই উন্মাদনা থামাতে পারে। আশা করি, আমেরিকানরাও বিষয়টি থেকে শিক্ষা নেবেন। কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা আপনাদের দেশের জন্য এমন ভবিষ্যৎই চান।’

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলগুলো একপর্যায়ে সহিংসতায় রূপ নেয়। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে আয়োজিত মিছিলের একাংশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ও আতশবাজি ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

প্যারিসের মেয়র এমানুয়েল গ্রেগোয়ার বলেন, শহরের ‘পুরো পুরো সড়ক বিধ্বস্ত হয়ে গেছে’। মুখোশ পরা একদল তরুণ বিভিন্ন স্থানে পার্ক করে রাখা গাড়িতে আগুন দেয় এবং দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি


img

নুডলস খেয়ে নয়, একই পরিবারের ৫ মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল পুলিশ

প্রকাশিত :  ০৯:৩৬, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৮, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে খাবারে বিষ মিশিয়ে তারা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। রোববার পুলিশের নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন—মহেশ (৩৭), তার স্ত্রী ললিতা (৩৫), তাদের সাত বছর বয়সী কন্যাসন্তান মিষ্টি এবং দুই ছেলে লাড্ডু (১১) ও সাক্ষাৎ (৩)। গত শনিবার সকাল আটটার দিকে গ্রেটার নয়ডার নাগলা শ্রী পদম গ্রামে নিজ বাড়ির একটি কক্ষ থেকে এই পাঁচজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় একটি মেলায় ঘুরতে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাত আনুমানিক দশটার দিকে বাড়ি ফিরে রাতের খাবারে নুডলস খান তারা। ঘটনার শুরুতে ধারণা করা হয়েছিল যে ফুড পয়জনিং বা খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে পুলিশ সূত্রের দাবি, গৃহকর্তা মহেশ নিজেই সম্ভবত রাতের খাবারের সেই নুডলসে বিষাক্ত কোনো রাসায়নিক দ্রব্য মিশিয়েছিলেন।

তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ মহেশের মুঠোফোন থেকে একটি অডিও নোট বা অডিও বার্তা উদ্ধার করেছে। পুলিশ সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, ওই অডিও বার্তায় পরিবারের এই করুণ পরিণতির জন্য মহেশ তার দুই বোন এবং এক ভগ্নিপতিকে সরাসরি দায়ী করেছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে মহেশের সেই দুই বোন ও ভগ্নিপতিকে ইতিমধ্যে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মহেশের ভাইয়ের স্ত্রী (ভাবি) নীরজ এনডিটিভিকে জানান, পারিবারিক সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারের মধ্যে চরম বিরোধ ও মানসিক অশান্তি চলছিল। তিনি অভিযোগ করেন, তার নিজের স্বামীর মৃত্যুর পর তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তবে মহেশ তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবার আবার একসঙ্গেই বসবাস করবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও নিশ্চিত করেছেন যে এটি স্বাভাবিক খাদ্য বিষক্রিয়া নয়, বরং খাদ্যে বিষ প্রয়োগের ঘটনাই বেশি স্পষ্ট। খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা ওপি সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, তাদের বিশেষ দল ঘটনাস্থল থেকে নুডলসের প্যাকেটসহ খাবারের মোড়ক ও অন্যান্য উপাদান পরীক্ষা করেছে, তবে সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো পণ্য পাওয়া যায়নি।

কর্মকর্তা ওপি সিং বলেন, ‘দৃশ্যত এটি কোনো ফুড পয়জনিংয়ের ঘটনা নয়। আমাদের সন্দেহ, খাবারের সঙ্গে কোনো তীব্র বিষাক্ত পদার্থ বা বিষ মেশানো হয়েছিল।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাধারণত ফুড পয়জনিং হলে বমি বা ডায়রিয়ার মতো যেসব শারীরিক উপসর্গ দেখা যায়, নিহতদের ক্ষেত্রে তেমন কোনো আলামতের তথ্য মেলেনি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে শিশুদের মধ্যে একজনের মুখ দিয়ে লালা বা ফেনা বের হতে দেখা গিয়েছিল। পুরো ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিস্তারিত ময়নাতদন্ত ও পুলিশি তদন্ত চলছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর