img

নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

প্রকাশিত :  ০৯:১৬, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে তেহরান। এর মাধ্যমে চলমান সংঘাত নতুন করে শুরু করা থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরান বিরত রাখার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত এক মাসে ইরানের সামরিক কমান্ডাররা একের পর এক প্রকাশ্য বক্তব্যে দাবি করেছেন, দেশটি বিপুল পরিমাণ নতুন অস্ত্রের মজুত গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও হামলা শুরু করলে এসব অস্ত্র দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের লক্ষ্যবস্তুতেও আঘাত হানা হতে পারে।

সংঘাত নতুন করে শুরু হলে হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত করার হুমকি দিয়েছেন ইরানি কর্মকর্তারা। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে সমুদ্রের তলদেশে থাকা ইন্টারনেট কেবল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টার এবং আঞ্চলিক তেল ও গ্যাস স্থাপনা।

গত মাসের শেষ দিকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেন, ‘বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এমন নতুন লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেগুলোতে এখনো হামলা চালানো হয়নি।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার প্রায় ৯ মাস পর সংঘাত এখন অনেকটা অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছে। এতে ট্রাম্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতাও বাড়ছে।

দুই পক্ষই নিজেদের বিজয়ী দাবি করছে। তেহরানের বক্তব্য, এত হামলার পরও তারা টিকে আছে। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের শাসনব্যবস্থাকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানকে নতি স্বীকারে বাধ্য করতে নতুন অর্থনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে তেহরান এখনো দৃঢ়ভাবে এসব চাপ মোকাবিলা করে যাচ্ছে।

মোহেব্বি বলেন, ‘যুদ্ধ শেষ হয়নি। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করেছে।’

আতঙ্কে সাধারণ ইরানিরা

ইরানের সামরিক কমান্ডাররা শক্তি ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরলেও দেশটির সাধারণ মানুষ আবারও যুদ্ধের বাস্তবতা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে সংঘাত ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত ইরানিরা নতুন করে হামলা শুরুর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

গত সপ্তাহে তেহরানের ৭০ বছর বয়সি এক বাসিন্দা সিএনএনকে বলেন, ‘প্রতিদিন, প্রতি রাতে আমরা অপেক্ষা করছি, কখন আবার বোমা হামলা শুরু হবে। আমি আমার সব পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দিয়ে রেখেছি, পানির মজুত করেছি এবং প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রস্তুত রেখেছি। কারণ যেকোনো দিন, যেকোনো মুহূর্তে আবার হামলা শুরু হতে পারে।’

দুই সন্তানের এক মা জানান, প্রতিদিন সকালে সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর সময় তিনি আতঙ্কে থাকেন। তাদের যাতায়াতের পথে বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সদস্যদের দেখা যায়, আর সামরিক ঘাঁটিগুলোও সক্রিয় রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ঠিক আর কী কী বোমা ফেলতে চায়, তা আমি জানতে চাই। তারা ইরানের নেতৃত্বকেও সরাতে পারেনি। আলোচনার মাধ্যমেও কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। তাহলে আবার যুদ্ধ শুরু করার অর্থ কী?’

তেহরানের আরেক বাসিন্দা সিএনএনকে বলেন, ইরানিরা এখন ‘নিশ্চিত’ যে যুদ্ধ আবার শুরু হবে।

তিনি বলেন, ‘সবাই এখন এ নিয়েই কথা বলছে। বিষয়টি সব সময় মাথার মধ্যে ঘুরতে থাকে, আজ রাতেই কি হামলা হবে, নাকি আগামীকাল? চারপাশে এত আলোচনা হচ্ছে যে একটু স্বস্তি নেওয়ারও সুযোগ নেই। এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠছে।’

যুদ্ধ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা নির্ভয়ে বলতে সিএনএনকে সাক্ষাৎকার দেওয়া ইরানিরা নাম প্রকাশ না করার শর্ত দিয়েছিলেন।

img

গাজায় খাদ্যসংকটে ভুগছে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি

প্রকাশিত :  ০৯:৪১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা ভয়াবহ খাদ্যসংকটে ভুগছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

বার্তা সংস্থা ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গাজায় খাদ্যসংকটের মধ্যে সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছেন।

এদিকে খাদ্যসহায়তার রেশনও আগের তুলনায় অর্ধেক করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার পাচ্ছেন সংকটাপন্ন পরিবারগুলো।

গাজায় চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডব্লিউএফপির দেশীয় পরিচালক শন হিউজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ নিরাপদ নয়। প্রতিদিনই বিমান হামলা চলছে। মানুষকে এখনো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় কেউই স্থায়ীভাবে বসবাস করার মতো বাড়ি পাচ্ছেন না। মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।’

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, তহবিলের ঘাটতির কারণে তাদের খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম এক-তৃতীয়াংশ কমাতে হচ্ছে। এর ফলে গাজার প্রায় ৫ লাখ মানুষ সহায়তা হারাবেন।

যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে বহু পরিবার আগে থেকেই খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সেবার সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের খাদ্য জোগাড় আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

গাজায় মানবিক সংকটের মধ্যেই ইসরাইল উপত্যকাটিতে বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ রেখেছে। এতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য বলছে, গাজার মানুষের জন্য নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ না বাড়লে সেখানকার খাদ্যসংকট আরও গভীর হতে পারে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর