img

ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা সম্মত পুতিন

প্রকাশিত :  ০৬:০৫, ২২ অক্টোবর ২০২৬

ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা সম্মত পুতিন

ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এ আলোচনা শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বুধবার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে পুতিনের বৈঠকের পর এ তথ্য জানানো হয়।

সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি রাজকীয় প্রাসাদে পুতিন ও উইটকফের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়। এটি ছিল তাদের নবম সরাসরি বৈঠক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। 

ক্রেমলিন জানিয়েছে, প্রস্তাবিত ত্রিপক্ষীয় আলোচনা কারিগরি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। এর মূল লক্ষ্য হবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইউক্রেন ও রাশিয়ার নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করা। আলোচনা ১০ নভেম্বর বা এর পরবর্তী কোনো সময়ে শুরু হতে পারে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সর্বশেষ শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

তবে আলোচনার শর্ত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। পুতিনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের ওপর রাশিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের সম্ভাবনা নাকচ করা এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতির পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তি করা।

বৈঠকের আগে নরওয়ের রাজধানী ওসলোতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, ফিনল্যান্ড ও নরওয়ের নেতাদের পাশাপাশি ইউরোপীয় ও ন্যাটো প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন উইটকফ। ওই আলোচনায় ইউক্রেন নতুন কিছু ধারণা ও প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা। উইটকফ পুতিনকে জানান, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ বলেন, এসব বিষয়ে রাশিয়া পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয়।

এদিকে, ট্রাম্প সম্প্রতি ইউক্রেনের ওপর শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর চাপ বাড়িয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ইউক্রেনের জন্য যুদ্ধ শেষ করার সময় এসেছে, অন্যথায় দেশটিকে খুব খারাপ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, পুতিন ও ট্রাম্পের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যুদ্ধ অবসানের মূল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার আশা করছেন। তবে ক্রেমলিনের মতে, দুই নেতার মধ্যে বৈঠকের আগে উভয় পক্ষের সহযোগীদের মাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হবে।

বুধবারের বৈঠকে পুতিন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে সহায়তার প্রস্তাবও দেন। তিনি বলেন, তেহরানের সঙ্গে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে এবং সেই সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের সহায়তায় রাশিয়া বিপুল পরিমাণ সার সরবরাহ করতে পারে।

এ ছাড়া আগামী মাসে চীনে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা হয়। ক্রেমলিন জানিয়েছে, বেইজিং ইতিমধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতি শুরু করেছে।

পুতিনের বিশেষ বিনিয়োগ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। ক্রেমলিন বলেন, দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যার কয়েকটি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। উইটকফ জানান, সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি নিয়ে বিভিন্ন ধারণাসংবলিত নথি তিনি পুতিনের পর্যালোচনার জন্য নিয়ে এসেছেন। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারও পুতিনের কাছে কিছু প্রস্তাব পাঠাতে চেয়েছিলেন এবং পরে ফোনে দূর থেকে বৈঠকে যুক্ত হন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে সাম্প্রতিক সময়ে অবনতি হয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির দাম কমানোর লক্ষ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল রপ্তানি-সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। ইরানে সামরিক হামলার পর জ্বালানির উচ্চমূল্য নভেম্বরের আইনসভা নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের জন্য চাপ তৈরি করেছে।

ডিজেল চুক্তির পর ইউক্রেন অভিযোগ করে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান ব্যাহত হয়েছে এবং ‘স্টারশিল্ড’ সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবস্থা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে জেলেনস্কি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ওসলোর বৈঠকে এসব সমস্যা সমাধানে একটি সমঝোতা হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তা ও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের উদ্ধৃত করে বুধবার ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’ জানায়, গত সপ্তাহে ইলন মাস্ক স্পেসএক্সের ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট পরিষেবার সামরিক সংস্করণটির গতি কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ইউক্রেন রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শনাক্ত করতে এই পরিষেবার ওপর নির্ভর করে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এ প্রতিবেদনের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

ইলন মাস্ক বলেছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী অথবা প্রেসিডেন্ট নিয়ে থাকেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আমি দায়ী নয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার আবারও বলেছেন, ইউক্রেনের স্টারলিংক ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করতে ওয়াশিংটন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।


img

ডেমোক্র্যাটদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিলেন ইলন মাস্ক

প্রকাশিত :  ০৬:০২, ২২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২০, ২২ অক্টোবর ২০২৬

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের ভূমিকা ও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নিতে পারে দলটি। এমন পরিকল্পনার খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে ডেমোক্র্যাটদের সরাসরি হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ কোটিপতি সহযোগী মাস্ক।

নিজের মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) মাস্ক লিখেছেন, ‘যে তরবারি দিয়ে আঘাত করবে, সে তরবারির আঘাতেই মরবে।’ নির্বাচনে জয়ী হলে মাস্কের কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্তের ব্যাপারে ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনা সম্পর্কিত নিউজ পোর্টাল ‘পলিটিকো’র একটি সংবাদের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

বিভিন্ন সময় ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারের জন্য পরিচিত এ সামাজিক মাধ্যমে মাস্ক আরও লেখেন, ‘যারা আমার সঙ্গে বিরোধে জড়াবে, তাদের বুঝতে হবে যে নেপথ্যে থেকে আসলে কে সুতা নাড়াচ্ছে তা আমি খুঁজে বের করব এবং শুধু অনুগত পুতুলদের পেছনে না ছুটে সরাসরি আসল মাথার পেছনেই লাগব।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির অন্যতম শীর্ষ অর্থদাতা। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হওয়ার পাশাপাশি তার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের মাধ্যমে সরকারি চুক্তির বড় অঙ্কের সুবিধাভোগী। এ ছাড়া তিনি বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী শীর্ষ প্রতিষ্ঠান টেসলারও প্রধান।

২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পকে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তা করেন মাস্ক। পরে সরকারি খরচ কমাতে ও প্রায় তিন লাখ সরকারি কর্মচারীকে ছাঁটাই করার একটি বিতর্কিত প্রকল্পের নেতৃত্ব দেন তিনি।

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সেনেট ও নিম্নকক্ষ রিপ্রেজেন্টেটিভস—উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ রয়েছে রিপাবলিকানদের। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে ডেমোক্র্যাটদের কাছে চলে যেতে পারে।

কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা শক্তিশালী তদন্ত কমিটিগুলোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পাবেন, যার মাধ্যমে কাউকে জবাবদিহিতা ও সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করার ক্ষমতা তৈরি হবে। সে ক্ষেত্রে ইলোন মাস্কই হতে পারেন তাদের মূল লক্ষ্য।

পলিটিকোর প্রতিবেদনে প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট সদস্য জো লোফগ্রেনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘মাস্কের স্বার্থের সংঘাত ও সরকারি পদের অপব্যবহারের যে বিশাল তালিকা সামনে এসেছে, তা এক কথায় স্তম্ভিত করার মতো।’