img

সৌদি আরবের মক্কায় আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব

প্রকাশিত :  ১৮:৪১, ২১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবের মক্কায় আকস্মিক বন্যার তাণ্ডব

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে আকস্মিক বন্যার পানির স্রোতে ভেসে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় স্রোতে ভেসে যায় তিন শিশু। পরে সিভিল ডিফেন্সের উদ্ধারকারী দল একজনকে জীবিত উদ্ধার করে। তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, অপর এক শিশু এখনো নিখোঁজ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভারী বৃষ্টির পর সৃষ্ট পাহাড়ী ঢল ও আকস্মিক বন্যায় এই করুণ দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি সিভিল ডিফেন্সের জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের অভিযান শুরু করে। অলৌকিকভাবে এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও দ্রুততম সময়ে অপর শিশুর নিষ্প্রাণ দেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকর্মীরা। নিখোঁজ তৃতীয় শিশুটির সন্ধান পেতে মক্কার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করা এক বিবৃতিতে সিভিল ডিফেন্স ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া ও দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নাগরিক, প্রবাসী এবং দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাহাড়ি ঢল ও আকস্মিক বন্যা অত্যন্ত দ্রুতগতির ও বিপর্যয়কর হতে পারে উল্লেখ করে সিভিল ডিফেন্স সবাইকে নদী বা উপত্যকা, পানি চলাচলের ক্যানেল এবং নিচু এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার কড়া বার্তা দিয়েছে। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সরকারি নিরাপত্তার নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্যও সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: গালফ ‍নিউজ


img

পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রাখাটা জরুরি: নয়াদিল্লিকে রুবিও

প্রকাশিত :  ০৮:০৩, ২১ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তান ও চীনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ প্রশমিত করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছেন, অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক কখনোই ভারতের স্বার্থের বিনিময়ে হবে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে রুবিও বলেন, সত্তরের দশকের নিক্সন-কিসিঞ্জার আমলের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের তুলনা করা ঠিক হবে না, কারণ তখন থেকে বৈশ্বিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। রিচার্ড নিক্সনের প্রেসিডেন্সির সময় এবং হেনরি কিসিঞ্জার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকাকালীন দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন নীতি জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তার দিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ঝুঁকে পড়েছিল।

রুবিও বলেন, ‘আমি উদাহরণ হিসেবে ১৯৭০-এর দশককে টানব না, কারণ বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে সেই সময়ের কোনো মিল নেই। সে সময় আমাদের কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধসহ নানা সমীকরণ ছিল, যা এখন আর অস্তিত্বে নেই।’

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা প্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক থাকুক না কেন, তা কোনোভাবেই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের মূল্যে বা ক্ষতির বিনিময়ে হবে না... ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা এমন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করি না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি আশা করি আমার এই সফর, বাণিজ্য চুক্তি করার প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি, আমাদের যৌথ কূটনৈতিক কার্যক্রম এবং একসঙ্গে করা যাবতীয় কাজই এর বড় প্রমাণ।’

রুবিও জানান, ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের যোগাযোগের ফলে এমন একটি অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যা ভারতকে উদ্বিগ্ন করে—এমন পদক্ষেপগুলোকে ‘নিরুৎসাহিত’ করতে সহায়তা করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান এমন একটি দেশ, যার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক রয়েছে এবং সম্পর্ক রাখাটা জরুরি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আমরা যদি ইতিবাচক উপায়ে আমাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে এমন কোনো পদক্ষেপ নিরুৎসাহিত করতে পারি যা সম্ভাব্য সংঘাতের দিকে নিয়ে যেতে পারে, তবে তা ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।’

বর্তমানে দুই দিনের ভারত সফরে থাকা মার্কো রুবিও ইউক্রেনে রাশিয়ার চার বছর ধরে চলা যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার কথাও স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো বেশ জটিল এবং এটি যদি সমাধান করা সহজ কোনো যুদ্ধ হতো, তবে অনেক আগেই এর সমাধান হয়ে যেত।’