ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। ছবি: সংগৃহীত
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। ছবি
ইসরায়েলকে এক ঘণ্টার মধ্যে ধ্বংস করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। এ মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে ইব্রাহিম আজিজি হিব্রু ভাষায় ওই পোস্ট দিয়েছেন।
ইরানের এই জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা বলেছেন, ইরানের নিরাপত্তা বা জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ইসরাইলকে এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে বসবাসের অযোগ্য করে তুলবে।
আজিজি জোর দিয়ে বলেন, ‘জেনে রাখুন, আমাদের নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে, দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে (ইসরাইল) বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে এক ঘণ্টারও কম সময় লাগবে।’
পোস্টটির সঙ্গে যুক্ত একটি ছবিতে ইসরাইলি শাসনের সমস্ত অবকাঠামো দেখানো হয়েছে।
নির্বাচনের আগে ইসরায়েলে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ
প্রকাশিত :
০৬:৫৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি। ছবি: সংগৃহীত
হাজারো মানুষ ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবিতে শনিবার রাতে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটিতে সাধারণ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে এ কর্মসূচি পালন করেন বিক্ষোভকারীরা।
ইসরায়েলে আগামী ২৭ অক্টোবর সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে এই বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সরকারের ওপর তদন্তের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, এতে এক লাখের বেশি মানুষ অংশ নেন। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা জানানো হয়নি।
‘অক্টোবর কাউন্সিল’ নামের একটি সংগঠন এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংগঠনটিতে ৭ অক্টোবরের হামলায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি, সাবেক জিম্মি এবং নিহতদের স্বজনেরা রয়েছেন। তেল আবিবের হোস্টেজেস স্কয়ারে আয়োজিত সমাবেশে তারা হামলার আগে ও পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা এবং সরকারের ভূমিকা তদন্তের দাবি জানান।
হামলায় নিহত এক জিম্মি ওরি দানিনোর বাবা এলহানান দানিনো অভিযোগ করেন, সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করছে না, কারণ তাদের হয়তো কিছু লুকানোর আছে। তিনি বলেন, হামলার তিন বছর পরও সত্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত শুরু হয়নি।
আরেক জিম্মির মা ভিকি কোহেন বলেন, ৭ অক্টোবর কী ঘটেছিল, সেই সত্য চাপা পড়তে দেওয়া যাবে না। নিরাপত্তা বিভাগের ব্যর্থতার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ কর্মকর্তারা সরে গেছেন, এবার রাজনৈতিক নেতৃত্বকেও দায় নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সমাবেশে নেতানিয়াহুর বিরোধী রাজনৈতিক জোটের কয়েকজন শীর্ষ নেতাও যোগ দেন। তাদের মধ্যে ছিলেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকোট, ডেমোক্র্যাটস পার্টির ইয়ার গোলান, ইসরায়েল বেইতেনুর আভিগদর লিবারম্যান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ।
ইয়ার গোলান বলেন, নির্বাচনের পর বুধবার থেকেই তারা সত্য উদ্ঘাটন ও নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেবেন।
ইসরায়েলে রাষ্ট্রীয় তদন্ত কমিশন বড় ধরনের জাতীয় বিপর্যয়ের তদন্তের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা। এটি সাক্ষীদের তলব করতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে সুপারিশ দিতে পারে। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ ধরনের কমিশন গঠনে রাজি হননি। তার দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নিয়োগ দেওয়া স্বাধীন কমিশন সরকারের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।
৭ অক্টোবরের হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, হামলার আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কী ধরনের ব্যর্থতা ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সমাবেশে সাবেক জিম্মি ড্যানিয়েল আলোনি বলেন, ওই দিন শুধু মানুষকে অপহরণ করা হয়নি, মানুষের নিরাপত্তাবোধও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনের পর শিশুদের জন্য ভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ার সুযোগ তৈরি হবে।