img

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে নেতানিয়াহুকে হটানোর স্বপ্ন দেখছে ইসরায়েলি বিরোধীরা

প্রকাশিত :  ১৩:২৫, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

ডেমোক্র্যাটদের জয়ে নেতানিয়াহুকে হটানোর স্বপ্ন দেখছে ইসরায়েলি বিরোধীরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন দেশটির বিরোধী নেতারা। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তাদের দাবি, নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় সম্পর্ক দুর্বল করেছেন। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তারা নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নতুন সরকার গঠনের চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ- উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এ ফলাফল বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধের প্রতি মার্কিন জনগণের অসন্তোষও নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জন্য সরকার গঠনের পথ পুরোপুরি সহজ হয়নি।

দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বুধ (৪ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এরপর কাউকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে।

ইসরায়েলের বিরোধী ডেমোক্র্যাটস পার্টির নেতা ইয়ার গোলান বলেছেন, মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল দেখিয়েছে, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলের কাছেই নেতানিয়াহু কতটা অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ বলেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকলে ইসরায়েলের নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তেল আবিব বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক উদি সোমারের মতে, নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের প্রতি ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অবস্থান নিতে পারে। সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নারী আবের কাওয়াস

প্রকাশিত :  ০৬:১৮, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৬, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।

নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন কাওয়াস। ভোট গণনার ৯০ শতাংশ শেষে নিউইয়র্ক টাইমস তার বিজয় ঘোষণা করে।

কাওয়াসের নির্বাচনী স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, উন্নত গণপরিবহন, সাশ্রয়ী আবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধে অর্থায়ন বন্ধের পক্ষে প্রচার চালান। তার প্রতি সমর্থন জানান নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব।

রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগেও যুক্ত ছিলেন তিনি।

ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কাওয়াস অভিবাসীদের অধিকার রক্ষার পক্ষে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সঙ্গে নিউইয়র্কের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা বন্ধের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সরব কাওয়াস ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরুদ্ধেও বিক্ষোভ করেছিলেন। ওই কর্মসূচিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর