img

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ১৫:০৫, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:১০, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তথ্যদাতাকে প্রয়োজনে অন্য দেশে বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করার প্রস্তাব দিয়েছে ওয়াশিংটন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এই পুরস্কার দেওয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সরঞ্জাম, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিশেষ করে বিজ্ঞানী এবং এসবের চলাচল সম্পর্কে তথ্য দিতে পারলে পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবেন তথ্যদাতারা।

১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করা।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে ইরানের ব্যর্থতার কারণে দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে সংস্থাটির তথ্যের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়েছে। শুক্রবার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে দেওয়া বক্তব্যেও তিনি বলেন, ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের অবসান ঘটাতে তার সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: ইউরোনিউজ

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

অভিশংসনের পরই গৃহবন্দি প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট

প্রকাশিত :  ০৭:১৮, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:২০, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

আর্থিক কেলেঙ্কারি ও তীব্র রাজনৈতিক সংকটের মুখে প্যারাগুয়ের ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়াকে অভিশংসন করার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই গৃহবন্দি করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি একটি বিতর্কিত ব্যাংককে বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এই ঘটনায় দেশটির অর্ধেকেরও বেশি মানুষ তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, পেনিয়ার প্রশাসন উয়েনো ব্যাংককে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার পর ব্যাংকটি অতি দ্রুত প্রসার লাভ করে। কিন্তু সম্প্রতি অনিয়মের অভিযোগে ব্যাংকটির কার্যক্রম স্থগিত করায় এর প্রায় ২৯ লাখ গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়। এটি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ।

এর ফলে গ্রাহকরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মতো মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্যও নিজেদের টাকা তুলতে পারছেন না। দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

গত সপ্তাহে দ্রুতগতির এই অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) পেনিয়ার গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারির মধ্য দিয়ে শেষ হয়। এর মধ্যেই তার ভাইস প্রেসিডেন্ট পেদ্রো আলিয়ানা নতুন নেতা হিসেবে শপথ নেন।

 পেনিয়ার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়।

বিশ্লেষকদের মতে, উয়েনো ব্যাংকে রাষ্ট্রীয় ও পেনশন তহবিল থেকে প্রায় ৮০ থেকে ৮৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট পেনিয়ারও ব্যাংকটির মূল সংস্থায় প্রায় ১০ লাখ ডলারের শেয়ার ছিল, যা তিনি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিক্রি করেন। এই কেলেঙ্কারির কারণে জনরোষ চরমে পৌঁছালে এবং খুচরা বিক্রি ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেলে পেনিয়া তার দলের সমর্থনও হারান। বিরোধী সিনেটররা এটিকে প্যারাগুয়ের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম দুর্নীতি ও জালিয়াতি হিসেবে অভিহিত করেছেন।

এদিকে আর্জেন্টিনার পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জন উঠলেও পেনিয়া নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। শেষ পর্যন্ত আইনি সুরক্ষার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে সাধারণ আদালতের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর