img

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

প্রকাশিত :  ০৯:১২, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৪৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। তিনি বলেন, দ্রুত দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে তা সম্ভব নয়।

রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। সেই সঙ্গে সারাদেশের নেতাকর্মীদের আমি বলতে চাই যেখানে দখলদারিত্ব চাঁদাবাজি হচ্ছে জনগণকে সাথে নিয়ে এসব রুখে দিতে হবে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যিনি আছেন, তিনি বিভিন্ন সময় অসংলগ্ন কথা বলছেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনে অলরেডি ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা দেখেছি সংস্কার ইস্যুতেও তিনি জাতির সাথে প্রতারণামূলক কথা বলেছেন।’

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলের কার্যালয়ে বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি, স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। 

নাহিদ ইসলাম বলেন, আজকে জনগণের সামনে স্পষ্ট যে, দেশের আইনশৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক নেই। এটার জন্য বর্তমান সরকার, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়ী। 

তিনি বলেন, এই সরকার বলেছিল নির্বাচিত সরকার এলে দেশে মব থেমে যাবে, আইন-শৃঙ্খলার পরিবেশ ঠিক থাকবে। আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি, বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের আরও বেশি অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না।’ 

সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি হয়েছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা বিশেষত দুটি ঘটনা উদাহরণ হিসেবে দেখলাম। মিরপুরে রাড্ডা সেন্টার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। রাতের আঁধারে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সেখানে ভাঙচুর হলো। ঢাকা শহরে, রাজধানীতে রাতের বেলা তিন ঘণ্টা ধরে ভাঙচুর করবে এবং প্রশাসন সেখানে কিছুই করতে পারবে না, এটি হতে পারে না। এটা সরকারি ইন্ধনে, রাষ্ট্রীয় মদদে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ মদদে এই ঘটনাটি ঘটেছে। মিরপুরের রাড্ডা এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও যে ভাঙচুর হলো, এ দুটি ঘটনায় আমরা দেখতে পেলাম যে কীভাবে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থাকছে।  

‘আমরা সালমান মুক্তাদির স্টুডিওর ঘটনাটা দেখলাম। সেখানে এখন ভিক্টিমকে ব্লেমিং করা হচ্ছে। সেখানে স্পষ্টত ভাঙচুর হয়েছে, সেখানে একটা ফৌজদারি অপরাধ ঘটেছে, যেখানে প্রশাসন নিষ্ক্রিয় থেকেছে। প্রশাসন সেটাকে বাধা দিতে পারেনি, সেটাকে বন্ধ করতে পারেনি। এখন নানাভাবে সেটা কারা করেছে বা ভিক্টিমের দায় কী, এই ধরনের অনেক নাটক সরকার সাজাচ্ছে।’

তিনি বলেন, এই দুটি ঘটনা হয়তো মিডিয়া বা নানা কারণে রাজধানীতে হওয়ার কারণে আমাদের সামনে এসেছে। সারা দেশের পরিস্থিতি কিন্তু এইটা। আমরা হবিগঞ্জে দেখলাম সিএনজি স্ট্যান্ড বা অটো স্ট্যান্ড দখল নিয়ে ব্যাপক মারামারি। আমরা সাভারে মাদরাসা দখলের চেষ্টার ঘটনা নিউজে শুনলাম। সারা দেশে এক ধরনের নৈরাজ্য। দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে বলে মনে হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এটার জন্য বর্তমান সরকার দায়ি। আমরা মনে করি দ্রুত দেশের আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে সম্ভব নয়।

জাতীয় এর আরও খবর

img

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:৫৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৪, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমা‌নের অংশগ্রহণের বিষয় তুলে ধরতে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য ক‌রেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন। তিনি জানান, এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিভিন্ন সভায় ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তি‌নি ব‌লেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান এবং আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন এই সফরে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং কেনার চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে এবং সেটি একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের দেশের চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

‘আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন আছে। এই একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহর লাগবে।

বাংলাদেশের প্রাপ্ত বিমানের বহর আরো অনেক বাড়ানো দরকার।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এখানে কোনো লুক্কায়িত এজেন্ডা নেই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা আরো কিনব। যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব হওয়ার জন্য আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। 

জাতীয় এর আরও খবর