img

মোবাইল ফোনে হুমকি পাচ্ছেন অপ্রতিমের মা-বাবা, জানালেন যে আশঙ্কার কথা

প্রকাশিত :  ০৭:৫৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোবাইল ফোনে হুমকি পাচ্ছেন অপ্রতিমের মা-বাবা, জানালেন যে আশঙ্কার কথা

কুমিল্লায় আলোচিত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের সদস্যরা। নিহতের মা ড. নাহিদা বেগমের আশঙ্কা, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের পরবর্তী টার্গেট হতে পারেন তিনি ও তাঁর স্বামী।

যারা অপ্রতিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে, তারা পরে ভুক্তভোগী পরিবারের যে কোনো সদস্যকে হত্যা করতে পারে। এছাড়া ঘাতকরা কিশোর সংশোধনাগার থেকে দ্রুত বেরিয়ে পরের টার্গেট কিলিং মিশনেও জড়াতে পারে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মোবাইল ফোনে যুগান্তরকে এমন আশঙ্কার কথা জানান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগম। সম্প্রতি সাক্ষাৎকারেও এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন তিনি। ঘাতকরা বয়সে কিশোর কি না-তাও খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে।

১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের সানন্দ্যা এলাকায় পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তার বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে অজ্ঞাত ফোন নাম্বার থেকে কল করে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। গ্রামীণফোন কোম্পানির একটি সিম থেকে হুমকি দেওয়ার পর সেটি ব্লক করা হয়। পরে এয়ারটেল (সার্কেল) কোম্পানির আরেকটি নাম্বার থেকে বারবার কল দেওয়া হয়। পরে নাম্বার দুটিতে কল করে বন্ধ পাওয়া যায়। ট্রু কলারে সার্চ দিলে দেখা যায়, এগুলো রাসেল স্টোর ও মোহাম্মদ আলি নামে সেভ করা।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সব খুঁটিনাটি বিষয় তদন্তের আওতায় এনেছে পুলিশ। এর নেপথ্যের কারণ খতিয়ে দেখছে তারা। এর মধ্যে ড. নাহিদা বেগমের মাদকবিরোধী অবস্থানের বিষয়টি বেশি আলোচিত হচ্ছে।

ড. নাহিদা বেগম বলেন, আমি স্থানীয় কোটবাড়ী সালমানপুরের মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। এতে তারা আমার পরিবারকে টার্গেট করে থাকতে পারে। তাছাড়া ঘাতকরা কিশোর হিসাবে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে আবারও খুনখারাবিতে জড়িয়ে পড়তে পারে। আমি আশঙ্কা করছি ভবিষ্যতে তারা আমাকে এবং আমার স্বামীকে পরবর্তী টার্গেটে পরিণত করতে পারে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ড. নাহিদা বেগম বলেন, সন্তানকে চার দেওয়ালের বন্দিদশায় নয় বরং পৃথিবীর আলো-বাতাসে একজন আত্মনির্ভরশীল মানুষ হিসাবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই মুক্তমনের বিকাশই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে, তা কখনো ভাবতে পারিনি। অপ্রতিমকে প্রচলিত ধারণার চিকিৎসক কিংবা প্রকৌশলী বানানোর পরিকল্পনাও ছিল না। আমার চাওয়া ছিল ছেলে যেন দেশ-বিদেশ ঘুরে বিশ্বকে নিজের মতো করে উপলব্ধি করতে শেখে এবং নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে পারে। তাকে ফটোগ্রাফি, সাইক্লিং ও সাঁতার শেখানো হয়েছিল, দেওয়া হয়েছিল কারাতের প্রশিক্ষণও। এমনকি এক বছর নাচও শিখেছিল সে, যার স্মৃতিচিহ্ন হিসাবে ঘরে এখনো তার ব্যবহৃত হারমোনিয়ামটি রয়েছে।

এই শিক্ষিকা আরও বলেন, আমি চেয়েছিলাম আমার ছেলে প্রত্যেকটা কাজে সেলফ ডিপেন্ডেন্ট হবে। সে মানুষকে খুব দ্রুত আপন করে নিতে পারত। বয়সের ব্যবধান বা সিনিয়র-জুনিয়র বিচার করত না। সন্তান প্রতিপালন পদ্ধতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা আমার ভুল হতে পারে।’ অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানকে স্বাধীনভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি সে কার সঙ্গে চলাফেরা করছে এবং কোথায় যাচ্ছে, এসব বিষয়েও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

হুমকির বিষয়ে ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমাদেরও শঙ্কা কাজ করে। মাঝেমধ্যে কিছু নাম্বার থেকে কল আসে, কিন্তু পরিচয় দেয় না। সেদিন কল করে গালিগালাজ করেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা জিডি করব। বিষয়টি ডিবিকে জানাব।

সদর দক্ষিণ থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, আমরা ভিকটিম পরিবারের প্রতিটি আশঙ্কা তদন্তের আওতায় এনেছি। তদন্তে অনেক অগ্রগতি হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন : মামলাটি প্রথমে তদন্ত করছিলেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই সাইফুল ইসলাম। শুক্রবার তিনি জানান, মামলাটি এখন থেকে তদন্ত করবেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব আহমেদ। 

নতুন তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আদেশ হয়েছে। নথি পাওয়ার পর কাজ শুরু করা হবে। আশা করি তদন্তের পর দ্রুততম সময়ে আদালতে মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করতে পারব।


জাতীয় এর আরও খবর

img

সামুদ্রিক খাতকে নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক করার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ১৯:০৩, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক, নিরাপদ, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরে নীতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন এবং পরিচালনাগত উৎকর্ষ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামীকাল বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আজ দেওয়া এক বাণীতে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতকে আধুনিক, নিরাপদ, প্রতিযোগিতামূলক ও পরিবেশগতভাবে টেকসই জাতীয় উন্নয়নের চালিকাশক্তিতে রূপান্তরে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের গুরুত্বের ক্ষেত্রগুলো হলো আরও শক্তিশালী বাস্তবায়ন, আধুনিক অবকাঠামো, পরিবেশবান্ধব নৌপরিবহন, দক্ষ নাবিক এবং কার্যকর সামুদ্রিক সুশাসন।’

আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও)-এর নির্ধারিত ‘নীতিকে বাস্তবে রূপ দিয়ে সামুদ্রিক খাতের উৎকর্ষ অর্জন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাংলাদেশ বিশ্ব নৌ দিবস-২০২৬ উদযাপন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রতিপাদ্য আমাদের জাতীয় লক্ষ্যের সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শুধু সুষ্ঠু নীতি ও বিধিবিধান প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; এর জন্য কার্যকর প্রয়োগ ও পরিচালনাগত উৎকর্ষও প্রয়োজন।’

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিজ্ঞান ভিত্তিক ও টেকসই উপায়ে সামুদ্রিক সম্পদের ব্যবহার, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ, পরিবেশবান্ধব পর্যটন এবং উপকূলীয় শিল্পের মাধ্যমে নীল অর্থনীতির উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ইশতেহারে জাতীয় ব্লু ইকোনমি কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা এবং সামুদ্রিক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনাও রয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর এবং বিস্তৃত নদীপথের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার পরিবহন সম্পন্ন হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ সামুদ্রিক সীমানা, নৌপরিবহন ও বন্দর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে তার আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ক্রমান্বয়ে শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আইএমও’র ২৯টি সামুদ্রিক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অভ্যন্তরীণ ও সমুদ্রগামী নৌযানের কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং নৌপরিবহন খাতে সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করাকেও অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

২০২৬ সালকে ‘বাস্তবায়নের বছর’ হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান চারটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন। এগুলো হলো সবুজ নৌপরিবহন এগিয়ে নেওয়া ও বিশ্বমানের জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধা গড়ে তোলা; স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল লজিস্টিক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে বন্দর অবকাঠামো আধুনিকায়ন; হাইড্রোগ্রাফি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ রোধে পদক্ষেপের মাধ্যমে সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা সুরক্ষা; এবং নাবিকদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে সামুদ্রিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন।

তিনি বলেন, ‘সামুদ্রিক উৎকর্ষ আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে প্রতিফলিত হতে হবে।’

বন্দর কর্তৃপক্ষ, জাহাজ মালিক, নাবিক, সামুদ্রিক পেশাজীবী ও পরিবেশবিষয়ক সংস্থাগুলোকে বৈশ্বিক মানদণ্ড ও জাতীয় অগ্রাধিকারকে বাস্তব ফলাফলে রূপ দিতে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি শক্তিশালী নীল অর্থনীতি এবং আরও নিরাপদ, সবুজ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান।

 


জাতীয় এর আরও খবর