img

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান

প্রকাশিত :  ১৫:২০, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত প্রস্তাব আহ্বান

তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে ও কাদের নিয়ে গঠিত হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, গঠনপ্রক্রিয়া ও রূপরেখা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের কাছ থেকে লিখিত প্রস্তাব ও গঠনমূলক পরামর্শ চাওয়া হচ্ছে। পাওয়া প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জাতির জন্য সবচেয়ে উপযুক্তটিকে বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় সংসদে পর্যালোচনার পর আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া ও ধাপ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব হয়নি। জুলাই জাতীয় সনদে এ বিষয়ে কিছু স্পষ্ট প্রস্তাবের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমতও রয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ—কোন ধাপে কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কাঠামো রূপ পাবে, সে বিষয়ে একাধিক বিকল্প উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

সংসদ ও সংসদের বাইরে সর্বজনীন আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি সর্বসম্মত কাঠামোয় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

গণমাধ্যমের মতামত নিয়েছে কমিটি

বিশেষ কমিটির চতুর্থ বৈঠকে গণমাধ্যম খাতের বিস্তৃত প্রতিনিধি দলের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ। এতে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, টেলিভিশন চ্যানেল, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সংবাদ সংস্থা ও বার্তা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এর আগে রোববার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়। দীর্ঘ আলোচনার সুযোগ দিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের আয়োজন দুই ধাপে করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পরামর্শ পাওয়া গেছে। অন্যদেরও দ্রুত লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে সংবিধান সংশোধনের আলোচনা শুধু গণমাধ্যমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে জানান কমিটির সভাপতি। পর্যায়ক্রমে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশিষ্টজন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, সাবেক ও বর্তমান বিচারক এবং গত ১৭ বছরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে বঞ্চনা ও নিপীড়নের শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তরুণ অংশীদার ও শহীদ পরিবারের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও সরাসরি মতামত নেওয়া হবে। সবশেষে দেশের শীর্ষ সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বিস্তারিত পর্যালোচনা করে কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে।

দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ নিয়েও আলোচনা

সংবাদ সম্মেলনে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের প্রাসঙ্গিকতার বিষয়টিও উঠে আসে। বাংলাদেশের মতো এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের যৌক্তিকতা নিয়ে মতভেদ থাকলেও জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে এ পথেই এগিয়ে যেতে চায় বিশেষ কমিটি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইনসভা বা সরকারি দলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন কোনো উপযুক্ত সংশোধনী প্রস্তাব এলে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সেটিও বিবেচনার সুযোগ থাকবে।

বৈঠকে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং বিচারব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত রাখার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পায়।

বিরোধী দলকে আলোচনায় আসার আহ্বান

সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক পক্ষকে বাদ দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এ কারণে বিরোধী দলসহ সব পক্ষকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম অন্তর্ভুক্ত করে সব পক্ষ যাতে সক্রিয় সংলাপে অংশ নেয়, সে বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। একটি পূর্ণাঙ্গ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংশোধন আইন প্রণয়নই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বিএনপির পক্ষ থেকে উত্থাপিত ‘একক ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর বা দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকতে পারবেন না’—সংক্রান্ত নীতিগত প্রস্তাবের বিষয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সালাহউদ্দিন আহমদ। 

তিনি বলেন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক শাসন রোধে তাদের অবস্থান অনড়। তবে সংসদে সব রাজনৈতিক পক্ষের বিকল্প প্রস্তাব আলোচনার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।



জাতীয় এর আরও খবর

img

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপিসহ তিন কমিটি বিলুপ্ত, বহিষ্কার ১৪

প্রকাশিত :  ১৮:১৩, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও মেয়াদোত্তীর্ণতার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, মহানগর উত্তর যুবদল এবং মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের বিদ্যমান কমিটি একযোগে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংগঠনবিরোধী ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুস্পষ্ট অভিযোগে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন স্তরের ১৪ নেতাকে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংশ্লিষ্ট দল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে পাঠানো পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুর এলাকায় মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে’ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সেই বিতর্কের প্রেক্ষাপটেই দলগুলোর পক্ষ থেকে কঠোর এই সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো। তবে প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিগুলোতে মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনার কোনো উল্লেখ করা হয়নি; বরং বহিষ্কারের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কার্যক্রমের কারণ এবং যুবদল ও ছাত্রদলের ক্ষেত্রে কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে।

বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মো. আমিনুল ইসলামকে আহ্বায়ক ও মো. মোস্তফা জামানকে সদস্যসচিব করে গঠিত ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির বিদ্যমান ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির কারণ নির্দিষ্ট করা না হলেও খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে মহানগর উত্তরের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

একই দিনে বিএনপির অপর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলের তিন নেতাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কু। তাঁদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণ ও দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অন্যদিকে, মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত করেছে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এই বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।

একইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কারণে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখার কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দ্রুতই এই শাখার নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন মহানগর পশ্চিমের সহসভাপতি সারোয়ার আলম পিয়াস, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ, দারুসসালাম থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইকবাল হোসেন দিপু, সদস্যসচিব ওমর নাঈম এবং ৯৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সদস্যসচিব শান্ত রহমান। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেন।

দলীয় আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার দায়ে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল থেকেও দুজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সহদপ্তর সম্পাদক মো. ওসমান গনির পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসানের নির্দেশে দারুসসালাম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. আক্তার হোসেন মামুন ও সদস্যসচিব মো. হাফিজুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সাথে সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাঁদের সঙ্গে যেকোনো সম্পর্ক বা যোগাযোগ না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জুর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে আরও চার নেতাকে বহিষ্কারের কথা নিশ্চিত করা হয়। বহিষ্কৃতরা হলেন শাহ আলী থানা শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, শাহ আলী থানা অটোরিকশা শ্রমিক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, সদস্য হুজাইফা এবং দারুসসালাম থানা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক গোলাম রসুল পারভেজ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান নাসিম তাঁদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে এই ব্যবস্থা অনুমোদন করেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা মহানগর উত্তরের পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে মামুন মিরপুর অঞ্চলে নিজস্ব একটি অপরাধ চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন। দেশে অবস্থানরত তাঁর দুই ভাই জামিল রহমান ও মশিউর রহমানের মাধ্যমে সেই চক্র পরিচালিত হতো। এই চক্রটির বিরুদ্ধে মিরপুরের পল্লবী, মিরপুর ১২, সাগুফতা এবং বাউনিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা জবরদখল, জমি দখল ও মাদক বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণের বহু অভিযোগ রয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর