img

‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন’, প্রসিকিউশনকে পলক

প্রকাশিত :  ০৮:৪৫, ১১ অক্টোবর ২০২৬

‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন’, প্রসিকিউশনকে পলক

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষীর জবানবন্দির একটি অংশ বাদ দেওয়ার আবেদন নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। একপর্যায়ে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন?’ পরে সাক্ষীর বক্তব্য নিয়ে আপত্তির সময় তাঁকে ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে’ বলতে শোনা যায়। এ সময় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে থামিয়ে কথা কম বলতে বলেন।

রোববার (১১ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। এদিন একই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও পলকের বিরুদ্ধে দশম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কর্মকর্তা মাহদী আমিন।

সাক্ষ্যগ্রহণের একপর্যায়ে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম সাক্ষীকে একটি প্রশ্ন করেন। বক্তব্যটি ভূতাপেক্ষ কি না, তা জানতে চান তিনি। প্রথমে উত্তর দিতে না চাইলেও পরে সাক্ষী বলেন, বক্তব্যটি ভূতাপেক্ষ হবে।

এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে প্রসিকিউশনের উদ্দেশে পলক বলেন, ‘এত অধৈর্য হচ্ছেন কেন? এখানে আমার বিচার হচ্ছে। ধৈর্য নিয়ে কথা বলবেন। এখানে সবাই বিচারপ্রার্থী। আমরা আপনার কোনো আদেশ বা কথা শুনতে এখানে আসিনি।’

এর জবাবে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে উপস্থিত রয়েছেন। কিছু বলার থাকলে তারা বলতে পারেন। কিন্তু অনুমতি ছাড়া কোনো আসামি এভাবে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারেন না।

এ সময় সংশ্লিষ্ট আইন দেখাতে চান তিনি। তখন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, ‘কথায় কথায় আইন দেখাচ্ছেন কেন?’ বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আনেন প্রসিকিউটর।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বাদানুবাদ হয়। ট্রাইব্যুনাল জানতে চান, আসামিপক্ষ সত্যিই এমন কথা বলেছে কি না। আদালত বলেন, এ ধরনের মন্তব্য খুবই আপত্তিকর। জবাবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, প্রসিকিউশন কোনো বিষয়ে কথা তুললে আসামি বা তার আইনজীবীরাও আপত্তি জানাতে পারেন।

অন্যদিকে প্রসিকিউটর তামিম বলেন, আদালতে কথা বলতে হলে অনুমতি নিতে হবে। এ সময় আসামিপক্ষের কেউ কেউ মন্তব্য করেন, প্রসিকিউটর মাঝেমধ্যে ক্ষেপে যান।

পরিস্থিতি সামাল দিতে পলককে উদ্দেশ করে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘রেগে গেলেন তো, হেরে গেলেন।’ কথা বলতে চাইলে অনুমতি নিয়ে বলতে হবে বলেও নির্দেশ দেন আদালত।

তখন পলক বলেন, ‘অযৌক্তিক তো কিছু বলিনি।’ জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এখানে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই। কেউ কোনো কিছু ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না।’ এরপর আবার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী পর্যায়ে ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের প্রসঙ্গ তোলেন সাক্ষী মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিটিআরসির কার্যালয়ে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী পলকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে জিয়াউল আহসানকে থ্রিজি ও ফোরজি ইন্টারনেট সেবা চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যদিও জবানবন্দির এ অংশ নিয়ে আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন। তাদের বক্তব্য, আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে কথাটি এলেও তা এ মামলার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নয়। এ যুক্তিতে ওই বাক্যটি বাদ দেওয়ার আবেদন জানান তারা। সাক্ষীও প্রসিকিউশনের বক্তব্যে সায় দেন।

এ সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক বলে ওঠেন, ‘ভয় পাইছে, ভয় পাইছে।’ তখন ট্রাইব্যুনাল তাকে বসতে বলে সতর্ক করেন, ‘একটু বসতে পারেন। কথা কম বলেন দয়া করে।’

পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে পলক বলেন, ‘মাননীয় আদালত, আমি বিনয়ের সঙ্গে অনুমতি চাই। প্রসিকিউটর মহোদয় সাক্ষীকে প্রশ্ন করে জবানবন্দি নিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে এটা বাদ দিতে হলে হোস্টাইল করতে হবে।’ এ সময় সাক্ষী জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন, সারা দেশে মোবাইল ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এনটিএমসির নির্দেশনায় বন্ধ করা হয়- এ বক্তব্য আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে এসেছে। তবে সারা দেশে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়ে তিনি জানেন না। ২৮ জুলাইয়ের সভার মাধ্যমে ইন্টারনেট চালুর বিষয়টি জানতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।

পলকের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে আইনি লড়াই করছেন আইনজীবী লিটন আহমেদ। আর পলাতক থাকায় জয়ের পক্ষে সরকারি খরচে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মনজুর আলম। শুনানির সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসিকিউশনের আনা ৩টি অভিযোগে বলা হয়েছে, সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাতে ফেসবুকে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ান পলক। এর পরিপ্রেক্ষিতে পরদিন ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) ও ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) সশস্ত্র সদস্যরা হামলা চালান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেওয়া এবং হত্যায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন নিহত হন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পাশাপাশি উত্তরায় ৩৪ জনকে হত্যায় সহায়তার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন একই আদালত।


জাতীয় এর আরও খবর

img

চাঁদাবাজ-দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, জবাবদিহি করতে হবে এমপিদের

প্রকাশিত :  ২০:০৪, ১১ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দলের ভেতরে যে কোনো মূল্যে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় কঠোর বার্তা দিয়েছেন। 

তিনি বলেছেন, ‘চাঁদাবাজ ও দখলদারদের জায়গা বিএনপিতে নেই।’ তারেক রহমান এ সময় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। 

এছাড়া দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং নিজ নিজ নির্বাচনি এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংসদ-সদস্যদের (এমপি) কঠোর নির্দেশ দেন। 

বিশেষ করে আসছে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে সতর্ক থাকতে বলেন তারেক রহমান। 

রোববার বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি। জাতীয় সংসদ ভবনের নবম তলায় সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শুরু হয়, যা শেষ হয় রাত ৯টা ২০ মিনিটে। শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি। 

জাতীয় এর আরও খবর