দ্য হিন্দুকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

img

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিকল্পনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড

প্রকাশিত :  ০৬:১১, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের পরিকল্পনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ ভারতে শেখ হাসিনার কর্মকাণ্ড

ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের নেতাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফরের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকায় অনুষ্ঠিত \'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬\'-এর ফাঁকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ‘নবনির্বাচিত সরকারের চ্যালেঞ্জগুলো’ ভারতের উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা ও তার লোকজনকে সংযত রাখতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সফরটি দ্বিপক্ষীয় হবে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে আমরা সেগুলো কাটিয়ে উঠব। প্রধান চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে আমরা খুব বেশি কিছু চাইছি না। শেখ হাসিনা ও তার লোকজন দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তারা দিল্লিতে বসে আরেকটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এতে ভারতেরও কোনো লাভ হচ্ছে না।’

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান দমনের সময় প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ করেন হুমায়ুন কবির। তাকে ‘একজন সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের মানুষের অতীতের সঙ্গে একটি ‘পরিষ্কার বিচ্ছেদ’ প্রয়োজন। কারণ, ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা শেখ হাসিনার সরকারকে উৎখাতের প্রক্রিয়ায় তারা জীবন উৎসর্গ করেছেন।

প্রতিমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং ঢাকায় এ আলোচনাকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঢাকার কাছে অগ্রাধিকার উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি, যেহেতু ভারত তাদের সংযত রাখার চেষ্টা করছে। এটাই দুই দেশের মধ্যে স্বাভাবিক রীতি। যদি তাদের (হাসিনা ও তার লোকজন) নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়, তাহলে (দ্বিপক্ষীয়) সম্পর্কে কোনো সমস্যা থাকবে না।’

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে ‘বাধা’ হিসেবে বর্ণনা করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘এখানে ভারতের হাইকমিশনার একটি ভালো ভূমিকা পালন করছেন। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আশা করি, দিল্লি তার মতামত গ্রহণ করবে। তারা যদি তার মতামতকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে আমরা সব ক্ষেত্রেই সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রস্তুত। তবে কিছু ‘পারস্পরিক আদান–প্রদান’ প্রত্যাশা করে।

বাংলাদেশ ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেবে না এবং ভারতের কাছ থেকেও তিনি একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘দুই সরকার যখন জাতীয় স্বার্থের কথা মাথায় রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধান করা যেতে পারে।’

জাতীয় এর আরও খবর

img

জামিন পেলে সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে, গাজী নজরুলের বিষয়ে বিচারক

প্রকাশিত :  ১৪:৫৭, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আপসনামা পর্যালোচনা করে আদালত বলেছেন, ‘এ ধরনের অনাপসযোগ্য মামলায় একটা আপসনামার ওপরে ভিত্তি করে জামিন দিলে সমাজে ন্যায়বিচার নিয়ে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হবে।’

পরে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।

মরিয়মের পরিবারের সঙ্গে আপস হয়েছে এবং বাদীপক্ষের জামিনে কোনো আপত্তি নেই—আসামিপক্ষের এমন দাবি তুলে ধরার পর আদালতে জামিনের আবেদন করা হয়। তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে শেষ পর্যন্ত নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত।

বুধবার (৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে নজরুলের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী মাহাবুবুর রহমান।

শুনানিতে তিনি বলেন, মামলার বাদী মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহর সঙ্গে আসামিদের সমঝোতা হয়েছে। বাদীপক্ষেরও জামিনে আপত্তি নেই।

তবে শুনানি শেষে আদালত নজরুলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। ফলে তাকে আপাতত কারাগারেই থাকতে হচ্ছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামের জামিন চাওয়া হয়েছিল। সেদিন আদালত মাকছুদাকে জামিন দিলেও নজরুলের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তার বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলার পরদিন নজরুলের চার দিনের এবং মাকছুদার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নজরুলের আরও এক দফা রিমান্ড মঞ্জুর হয়। দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।


জাতীয় এর আরও খবর