img

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘ভর্তি অফার’ বাতিল করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো!

প্রকাশিত :  ১০:৫০, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৫৫, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘ভর্তি অফার’ বাতিল করছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো!

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ‘ভর্তি অফার’ বাতিলের হার বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ভর্তি অফার পাওয়া শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার পর এখন ভর্তি অফারও বাতিল হচ্ছে।

চলতি বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাহারের হার পৌঁছেছে ২৩ দশমিক ৫ শতাংশে; গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল মাত্র ৭ দশমিক ১ শতাংশ। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীদের জন্যও একই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

যুক্তরাজ্য সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপারিশ করা মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর ৫ শতাংশের বেশি ভিসার আবেদন প্রত্যাহার করা হলে প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির লাইসেন্স হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। আগে এ ক্ষেত্রে সীমা ছিল ১০ শতাংশ। মূলত স্টুডেন্ট ভিসার অপব্যবহার রোধ করার জন্যই এ নিয়ম করা হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাজ্য। নতুন নিয়ম ভাঙলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ভবিষ্যতে আর কোনও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পাবে না বলেও জানায় যুক্তরাজ্য প্রশাসন।

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসার আবেদন প্রত্যাহারের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০.৯ শতাংশে। গত বছরের একই সময়ে এ হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আবেদন প্রত্যাহারের হার ১.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২ শতাংশ।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে যুক্তরাজ্যের স্টুডেন্ট ভিসা আবেদনের ১০.৫ শতাংশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ২.৩ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ছিল ০.৪ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের ডেটা বিশ্লেষণ করে ফাইনান্সিয়াল টাইমস জানায়, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন প্রত্যাহারের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০.৯ শতাংশে; গত বছরের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই হার ৭.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই হার ১.২ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৫.২ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্য সরকারের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তারা আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অনেক ভর্তির অফার বাতিল করছে। বিদেশি শিক্ষার্থীরা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার লেটার বা ভর্তির অনুমতি পাওয়ার পরেই স্টুডেন্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।

যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশি ও বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি স্থগিত বা কমানো হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:

• University of Chester (চেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of Wolverhampton (উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of East London (ইস্ট লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়)

• London Metropolitan University (লন্ডন মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of Sunderland (সান্ডারল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়)

• Coventry University (কভেন্ট্রি বিশ্ববিদ্যালয়)

• University of Hertfordshire (হার্টফোর্ডশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়)

• Oxford Brookes University (অক্সফোর্ড ব্রুকস বিশ্ববিদ্যালয় — বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি আবেদনকারীদের স্পনসরশিপ স্থগিত করেছে)

• Glasgow Caledonian University (গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়)

• BPP University (বিপিপি ইউনিভার্সিটি)

ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার উপ-উপাচার্য অধ্যাপক স্টিভেন ম্যাকগুয়ার বলেন, ‘এই নীতির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো চীন ও ভারতের শিক্ষার্থীদের ওপর আরও বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। কারণ এসব দেশের ক্ষেত্রে ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার তুলনামূলক কম।’

ইউনিভার্সিটি অব দ্য ওয়েস্ট অব স্কটল্যান্ডের উপাচার্য অধ্যাপক জেমস মিলার বলেন, ‘কিছু ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তের পেছনে অত্যন্ত দুর্বল ও অযৌক্তিক যুক্তি দেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষা এর আরও খবর

img

চুয়েটে শাটডাউন: ছাত্রদল নেতাদের নিয়ে তালা ভেঙে নিজ দপ্তরে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য

প্রকাশিত :  ০৬:২০, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:২৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যেই দপ্তরের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। আজ সোমবার সকাল ৯টার দিকে তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে পৌঁছান উপাচার্য। ফটকে তিনি কেবল ‘শিক্ষক’ পরিচয় দিয়ে ক্যাম্পাসে ঢোকেন। পরে ছাত্রদল নেতাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্য ভবনের ফটকে দেওয়া তালা ভেঙে তিনি নিজের দপ্তরে যান।

সরেজমিন সকালে উপাচার্য ভবনে গিয়ে দেখা যায়, তিনি উপাচার্যের জন্য নির্ধারিত চেয়ারে বসে রয়েছেন। তার কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদল সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন রয়েছেন। জানতে চাইলে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা একসাথেই ভেতরে প্রবেশ করেছি।’

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে তাকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এর প্রতিবাদ এবং অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

এরই অংশ হিসেবে উপাচার্য ভবনের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে ওই দিন থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। এ কারণে ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিক্ষোভের মুখে এত দিন চুয়েট ক্যাম্পাসে যেতে পারেননি নতুন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। তবে ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর যোগদানপত্র পাঠিয়ে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন তিনি।


 

শিক্ষা এর আরও খবর