img

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

প্রকাশিত :  ১৫:৫৮, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। সংস্থাটি জানিয়েছে, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতেই তিনি শব্দটি উল্লেখ করেছেন।

আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার সকালে রাধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইজিপির বক্তব্যে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ও শিরোনাম পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে এসেছে। এ বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতেই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তর জানায়, অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেপ্তার, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় পুলিশ সদস্যদের অপরাধী ও সংঘবদ্ধ হামলাকারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় চার পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

এতে আরও বলা হয়, দেশের প্রচলিত আইন, বিশেষ করে দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের দাবি, আইজিপি মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজসহ জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কিংবা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কাউকে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি এ শব্দ ব্যবহার করেননি।

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির মন্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। অসাবধানতাবশত ওই মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশ পুলিশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাতীয় এর আরও খবর

img

জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত :  ০৫:০২, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জাপানকে বাংলাদেশের কয়েক দশকের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুই দেশের ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে এখন এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণেরও সুযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের জন্য সবসময় একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে দুই দেশের মজবুত মৈত্রী। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি জাপান। বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও মেগা অবকাঠামো উন্নয়নে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে সরকারপ্রধান জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সঙ্গে আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি খাত, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলওয়ে ও যোগাযোগ অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় হয়েছে এবং আলোচনার বিস্তারিত একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনাময় উন্নয়নের এক নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। আমি জাপানের উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ অনুসন্ধানের আহ্বান জানাচ্ছি। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে উভয় দেশের লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। বিমানবন্দরে তাঁদের জাপান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

সফরের প্রথম দিনে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট এবং জাপান-বাংলাদেশ যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ পায়।


জাতীয় এর আরও খবর