img

দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৭:৩৭, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়তে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেছেন, জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচন এবং পারস্পরিক স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ রয়েছে।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

সোমবার (২৬ অক্টোবর) টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফর উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এসব কথা বলেন।

 প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রথম দিনের কর্মসূচি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ যাত্রা শেষে টোকিও পৌঁছানোর পরও প্রধানমন্ত্রী বিশ্রাম না নিয়ে দিনের কর্মসূচি কীভাবে দেশের স্বার্থে সর্বোচ্চ কার্যকর করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলোচনা করেন। এরপর সামান্য খাবার গ্রহণ করেই তিনি সফরের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।

’হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কর্মস্পৃহা ও দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা সফরের প্রথম দিনেই স্পষ্ট হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফরও দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান সফর সেই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

হুমায়ুন কবীর জানান, সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে দেশটির লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদার, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তারো আসোর সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন ও দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।’

জাপানি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সফরের প্রথম দিনে মারুবেনি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এবং জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের সভাপতি মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।’

বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সদ্য স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, ‘তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, জ্বালানি, উন্নত উৎপাদন শিল্প, সার উৎপাদন এবং শিল্পকারখানা আধুনিকায়নের মতো খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানির আধুনিকায়ন এবং দ্বিতীয় সার কারখানা স্থাপনের বিষয়েও সহযোগিতার সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।’

হুমায়ুন কবীর বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ কাজে লাগিয়ে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিয়েছেন।

উন্নয়ন প্রকল্পে জাইকার সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।’

জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সংস্থাটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

বাংলাদেশে বিনিয়োগে আন্তর্জাতিক আগ্রহ বাড়ছে জানিয়ে হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সাসাকাওয়ার আয়োজিত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী অংশ নেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী সাসাকাওয়া এর আগে বাংলাদেশ সফর করেছেন।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এ সফরে জাপানের সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ছে। আগামী দিনগুলোতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কর্মসূচি রয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন পারস্পরিক আস্থা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চায়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগ ও ব্যবসার একটি শক্তিশালী গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।’

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং দুই দেশের জনগণের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে সরকার আশাবাদী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমান, উপ-প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা এবং টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

জাপানকে বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু বললেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত :  ০৫:০২, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জাপানকে বাংলাদেশের কয়েক দশকের বিশ্বস্ত ও পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা দুই দেশের ঐতিহাসিক অংশীদারত্বকে এখন এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণেরও সুযোগ রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাইয়ে তাকাইচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের জন্য সবসময় একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, গভীর আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছে দুই দেশের মজবুত মৈত্রী। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিককার দেশগুলোর একটি জাপান। বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক অগ্রগতি ও মেগা অবকাঠামো উন্নয়নে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে সরকারপ্রধান জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির সঙ্গে আঞ্চলিক, আন্তর্জাতিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি খাত, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলওয়ে ও যোগাযোগ অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ এবং সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার যৌথ অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সফরকালে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি খাতে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় হয়েছে এবং আলোচনার বিস্তারিত একটি যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ আজ সম্ভাবনাময় উন্নয়নের এক নতুন ধাপে প্রবেশ করেছে। আমি জাপানের উদ্যোক্তা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ অনুসন্ধানের আহ্বান জানাচ্ছি। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে উভয় দেশের লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগ এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। বিমানবন্দরে তাঁদের জাপান সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

সফরের প্রথম দিনে জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাপান-বাংলাদেশ সংসদীয় মৈত্রী লীগের সভাপতি তারো আসোর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। এছাড়া জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট এবং জাপান-বাংলাদেশ যৌথ অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি ও মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে জাপানি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ সম্প্রসারণের ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ পায়।


জাতীয় এর আরও খবর